Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: জুস বা ফল-সবজির রস দৈনন্দিন জীবনে একটি জনপ্রিয় পানীয় (Juice)। এটি যেমন স্বাদে সতেজতা এনে দেয়, তেমনই শরীরকে নানা ভিটামিন, খনিজ, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও তরল সরবরাহ করে। অনেকে দিনের শুরুতেই এক গ্লাস ফল বা সবজির জুস পান করতে পছন্দ করেন। বিশেষ করে গ্রীষ্মকালে জুস শরীরকে হাইড্রেটেড ও সতেজ রাখতে সাহায্য করে। তবে প্রতিটি জুসের নিজস্ব উপকারিতা ও কিছু সতর্কতাও রয়েছে।

ফলের জুসের উপকারিতা ও সীমাবদ্ধতা
- শরীরে দ্রুত শক্তি যোগায়।
- রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
- হজমে সাহায্য করে।
- তবে সমস্যার দিক হলো, ফলের রস তৈরি করার সময় এর ফাইবার অনেকটাই নষ্ট হয়ে যায়।
- ডায়াবেটিস রোগীদের সীমিত পরিমাণে জুস খাওয়া উচিত।
- কখনোই অতিরিক্ত চিনি মিশিয়ে পান করা উচিত নয়।
- গোটা ফল খেলে ফাইবার পাওয়া যায়, যা রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
সবজির জুসের উপকারিতা (Juice)
- এতে ক্যালোরি ও চিনি কম থাকে।
- ভরপুর ভিটামিন, খনিজ, ফাইবার ও ক্লোরোফিল পাওয়া যায়।
- ওজন কমাতে সাহায্য করে।
- শরীর থেকে টক্সিন দূর করতে সহায়ক।
- করলা, আমলকি, পালং শাক, গাজর, বিটরুটের রস শরীরকে পুষ্টি জোগায়।
- তবে সবজির রসেরও কিছু সীমাবদ্ধতা আছে:
- বিটরুট, পালং শাক ও টম্যাটোতে অক্সালেট থাকে, যা কিডনিতে পাথর হওয়া রোগীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
- অতিরিক্ত কাঁচা সবজির রস খেলে হজমের সমস্যা হতে পারে।
জুস খাওয়ার সঠিক নিয়ম (Juice)
- জুস স্বাস্থ্যকর হলেও, সঠিক সময়ে ও সঠিক উপায়ে খাওয়া জরুরি।
- সবসময় তাজা ফল ও সবজি দিয়ে জুস তৈরি করতে হবে।
- ব্যবহারের আগে সবজি ও ফল ভালভাবে ধুয়ে নিতে হবে, যাতে ধুলো ও কীটনাশক দূর হয়।
- সকালে বা দুপুরে জুস খাওয়া সবচেয়ে ভালো, কারণ তখন শরীর দ্রুত পুষ্টি গ্রহণ করতে পারে।
- খাবারের সঙ্গে জুস খেলে হজমে সমস্যা হতে পারে, তাই খাওয়ার অন্তত ৩০ মিনিট আগে বা পরে পান করা ভালো।
- ডায়াবেটিস বা কিডনি রোগীদের ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে জুস খাওয়া উচিত।
ফল বনাম সবজির জুস (Juice)
ফলের জুস – দ্রুত শক্তি দেয়, কিন্তু শর্করার মাত্রা বেশি। তাই শিশু, ক্রীড়াবিদ ও সুস্থ মানুষদের জন্য ভালো হলেও ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য সীমিত।
সবজির জুস – কম ক্যালোরি ও কম চিনি থাকায় ওজন নিয়ন্ত্রণ ও ডিটক্সের জন্য উপযুক্ত।
আরও পড়ুন: India vs Pakistan: ভারতে দল পাঠাতে রাজি নয় দেশ, একপ্রকার অনিশ্চিত দুই দলের দ্বৈরথ
বিশেষ কিছু স্বাস্থ্যকর জুসের তালিকা
- গাজরের জুস – চোখের জন্য ভালো, ভিটামিন এ সমৃদ্ধ।
- বিটরুটের জুস – রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক।
- আমলকির জুস – রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, ভিটামিন সি-এর ভাণ্ডার।
- করলার জুস – ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সহায়ক।
- ডাবের জল ও শসার জুস – গরমে শরীর ঠান্ডা রাখে ও হাইড্রেট করে।
- কমলালেবুর জুস – ভিটামিন সি সমৃদ্ধ, সর্দি-কাশি প্রতিরোধে সহায়ক।