Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: আজ বীরভূম তাঁর ঐতিহাসিক ও গুপ্ত তন্ত্রের (Kaushiki Amavasya) কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। কৌশিকী অমাবস্যার পবিত্র তিথি শুরু হয়েছে আজ সকাল ১১টা ৫৭ মিনিটে এবং চলবে আগামীকাল, অর্থাৎ ২৩ অগস্ট সকাল ১১টা ০২ মিনিট পর্যন্ত। তারাপীঠে উপচে পড়ছে ভক্তের ঢল। দেশের নানা প্রান্ত থেকে সাধুসন্তরা এসে প্রার্থনার ভিড়ে মন্ত্রমুগ্ধ করেছেন এই দিনকে।
কৌশিকী অমাবস্যা কেন বলে (Kaushiki Amavasya)
পুরাণে উল্লেখ আছে, দেবতারা শুম্ভ-নিশুম্ভের অত্যাচারে বিক্ষুব্ধ হয়ে মহাদেবের (Kaushiki Amavasya) শরণাপন্ন হন। মহাদেব তাঁকে অনুরোধ করেন দেবী দুর্গাকে পাঠান যাতে শুম্ভ-নিশুম্ভের অবসান ঘটায়। দেবীর কোষ থেকে উৎপন্ন হয় দেবী কৌশিকী, যিনি সেই অসম্ভব শক্তির অধিকারিণী হয়ে শুম্ভ ও নিশুম্ভের বিনাশ ঘটান, আর সেই কারণে এই অমাবস্যাকে কৌশিকী অমাবস্যা নামে স্মরণ করা হয়।
প্রাঙ্গণটি ‘সিদ্ধপীঠ’ নামেই পরিচিত (Kaushiki Amavasya)
তারাপীঠের মহাশ্মশানে সাধনার এক অন্যরকম ঐশ্বরিক (Kaushiki Amavasya) ইতিহাস। বলা হয়, ব্রহ্মার মানসপুত্র বশিষ্ঠদেব এখান থেকেই সিদ্ধি লাভ করেছিলেন। আর সাধক বামাক্ষ্যাপাও শ্বেত শিমূল গাছের নিচে পঞ্চমুণ্ডির আসনে বসে এই তিথিতে একইভাবে সিদ্ধিলাভ করেন। সেই থেকে এই প্রাঙ্গণটি ‘সিদ্ধপীঠ’ নামেই পরিচিতি পেল।
পৌরাণিক কাহিনী
অন্য এক পৌরাণিক কাহিনীতে আছে-সমুদ্র মন্থনের সময় মহাদেব নীলকণ্ঠ পান করে শিথিল হয়ে পড়েন। তখন দেবী দুর্গা মা তারার রূপে তাকে স্তন্যদান করান। সেই স্মৃতি থেকে এখানকার নাম হয় তারাপীঠ। আবার অন্য একটি বর্ণনায় বলা হয়, সতীর দেহ ভেঙে তাঁর চোখের মণি বা তারা এখানেই পড়েছিল। ১৮১৮ সালে মল্লারপুরের জমিদার জগন্নাথ রায় প্রথম মন্দির প্রতিষ্ঠা করেছিলেন মহাশ্মশান থেকে কিছুটা দূরে। এরপর থেকে বামাক্ষ্যাপার ভক্তি ও অলৌকিক শক্তির গল্প প্রকাশ্যে আসে।

আরও পড়ুন: Kaushiki Amavasya: কৌশিকী অমাবস্যায় কারা পাবেন মা তারার আশীর্বাদ?
মায়ের ভোগ
আজ জ্যোতিষঘটিত হোমযজ্ঞ চলছে সারারাত মহাশ্মশানে। দুপুরে মা তারার নৈবেদ্য ছিল রাজবেশে সাজানো-পোলাও, ভাত, ডাল, মাছ, মাংস ও পাঁচ রকমের মিষ্টি সহ বিস্তর ভোগ। সন্ধ্যায় শুভ মঙ্গল আরতি শেষে শোলার সাজে মাকে বন্দনা জানানো হবে। রাতে পুজো অব্যাহত থাকবে। আজ খিচুড়ি ও পাঁচ রকমের ভাজার আয়োজন করা হয়েছে।