ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: বসন্ত ঋতুতে চৈত্র মাসের শুক্লপক্ষে উদযাপিত একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎসব বাসন্তী (Basanti Puja 2025) দুর্গা পুজো। প্রাচীন কাল থেকে ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে, বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, ওড়িশা এবং বিহারে পালিত হয় এই উৎসব। এটিই বাঙালীর আসল আদি দুর্গা পুজো। পরে রামচন্দ্র শরৎ কালে অকাল বোধন করেন। সেই থেকে শরৎ কালেই হয় দুর্গাপুজো। জেনে নিন এই বাসন্তী পুজোর ইতিহাস।
দুর্গার প্রথম পুজারী হিসাবে সুরথ (Basanti Puja 2025)
পুরাণ অনুযায়ী, সমাধি নামক বৈশ্যের সঙ্গে মিলে রাজা সুরথ বসন্তকালে ঋষি মেধসের আশ্রমে দেবী দুর্গার আরাধনা করেন। যা পরে বাসন্তী পুজো (Basanti Puja 2025) নামে প্রসিদ্ধ হয়। দেবী দুর্গার প্রথম পুজারী হিসাবে চণ্ডীতে রাজা সুরথের উল্লেখ রয়েছে। পরে রাবণ বধের উদ্দেশে শ্রীরামচন্দ্র অকাল বোধন করেন এবং তখন থেকে দূর্গাপুজো শরৎকালে শুরু হয়। রাজা সুরথকে চিত্রগুপ্তবংশী রাজা (চিত্রগুপ্তের বংশধর) হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে দূর্গা সপ্তশতী দেবী মাহাত্ম্য এবং মার্কণ্ডেয় পুরাণে।
সুশাসক ও যোদ্ধা হিসেবে বেশ খ্যাত (Basanti Puja 2025)
সুরথ সুশাসক ও যোদ্ধা হিসেবে বেশ খ্যাত ছিলেন। কোনও যুদ্ধে নাকি তিনি কখনও হারেননি। কিন্তু প্রতিবেশী রাজ্য একদিন তাঁকে আক্রমণ করে এবং সুরথ পরাজিত হন। এই সুযোগে তাঁর সভাসদরাও লুটপাট চালায়। কাছের মানুষের এমন আচরণে স্তম্ভিত হয়ে যান সুরথ। বনে ঘুরতে ঘুরতে তিনি মেধাসাশ্রমে পৌঁছোন। ঋষি তাঁকে সেখানেই থাকতে বলেন। কিন্তু রাজা শান্তি পান না। এর মধ্যে একদিন তাঁর সমাধির সঙ্গে দেখা হয়। তিনি জানতে পারেন, সমাধিকেও তাঁর স্ত্রী এবং ছেলে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিয়েছে। তবুও তিনি স্ত্রী-ছেলের ভালোমন্দ ভেবে চলেছেন।
আরও পড়ুন: Basanti Puja 2025: এই বছর বাসন্তী পুজোর কোন তিথির সময় সূচি কখন?
রাজা কঠিন তপস্যা শুরু করেন
তাঁরা দুজনেই তখন ভাবলেন, যাদের কারণে তাদের সব কিছু হারিয়েছে, তাদের ভালো আজও তারা কামনা করছেন। ঋষিকে একথা বলায়, তিনি বলেন সবই মহামায়ার ইচ্ছা। এরপর ঋষি মহামায়ার কাহিনি বর্ণনা করেন। ঋষির উপদেশেই রাজা কঠিন তপস্যা শুরু করেন। পরে মহামায়ার আশীর্বাদ পেতেই বসন্ত কালের শুক্ল পক্ষে রাজা পুজো শুরু করেন। শুরু হয় বাসন্তী পুজো।
বসন্তের সঙ্গে লড়াইয়ে মায়ের আরাধনা
আবার কেউ বলেন, বসন্তঋতুর শেষে গ্রীষ্মের শুরুর এই সময়টায় সেকালে বসন্ত রোগের খুব প্রকোপ ছিল। টিকাহীন চিকিৎসাহীন সেই অতীতে দুর্বার বসন্তের সঙ্গে লড়াইয়ের জন্য মায়ের আরাধনা করে তার কৃপা প্রার্থনা করা হত। রোগকে প্রশমিত করার জন্য়ও তাই বাসন্তীদেবীর পূজার চল হয়েছিল বলে অনেকে মনে করেন।
আরও পড়ুন: Basanti Puja 2025: জেনে নিন এই বছর বাসন্তী পুজোর কোন দিন কী তিথি
শরৎকালে হত নবপত্রিকা পূজা
অন্য মতে আকবরের রাজত্বকালেই ১৫৮০ সাল নাগাদ তাহেরপুরের রাজা কংসনারায়ণ বাংলাদেশে শারদীয়া দুর্গাপূজার সূচনা করেন বলে জানা যায়। তা হলে কংসনারায়ণের পূর্বে শারদীয়া দুর্গাপূজার অস্তিত্ব কি ছিল না? রাধারমণ রায়ের মতে, আগে এ দেশে বসন্তকালে হত দুর্গাপূজা আর শরৎকালে হতো নবপত্রিকা পূজা, যার স্থান আজ গণেশের পাশে। নবপত্রিকাই কালক্রমে চার পুত্র-কন্যাসহ দেবী দুর্গার মৃন্ময়ী মূর্তিতে রূপান্তরিত।
সময়টা উত্তরায়ণ, দেবতারা জেগে থাকেন
শাস্ত্রীয় বিশ্বাস মতে, যে সময়টা উত্তরায়ণ, অর্থাৎ দেবতারা জেগে থাকেন, সেই সময়েই বাসন্তী পূজার নির্ঘণ্ট। তাই বাসন্তী পূজায় দেবীর অকালবোধনের উপাচার নেই। আবার শীতের পরে বসন্তের অতি মনোরম, ঝড়-ঝঞ্ঝামুক্ত আবহাওয়াতেই এই পূজার ব্যবস্থা হয়েছিল। শরৎকালে কিন্তু আবহাওয়া সর্বদা অনুকূল থাকে না। ঝড়, বৃষ্টি, বন্যার প্রকোপে উৎসবে তৈরি হয় বিঘ্ন। তা ছাড়া এই সময়টা দক্ষিণায়ন, দেবতারা নিদ্রিত। ফলে প্রয়োজন অকাল বোধনের।