Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: আজ কেষ্টপুরের বাগজোলা খালে এক অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তির দেহ ভেসে ওঠে (Kolkata)। স্থানীয়রা ঘটনাটি দেখে আতঙ্কিত হয়ে পুলিশে খবর দেয়। বিধাননগর ইলেকট্রনিক্স কমপ্লেক্স থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। এখনও দেহের পরিচয় ও মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হয়নি — ময়নাতদন্ত ও তদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পরই বিস্তারিত জানা যাবে।
ঘটনার বিবরণ (Kolkata)
সোমবার বাগজোলা খালে স্থানীয়রা একটি অচেনা দেহ ভাসমান অবস্থায় দেখে (Kolkata)। দ্রুত খবর দেওয়ার পর বিধাননগর ইলেকট্রনিক্স কমপ্লেক্স থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। পুলিশ ও উদ্ধারকারী দল দেহটি জল থেকে উদ্ধার করে প্রথমিক তদন্ত করে এবং দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য সংরক্ষণ করে থানায় নেয়া হয়। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, দেহটি কেষ্টপুর থেকে নিউ টাউন লোহাপুলের দিকে ভেসে যাচ্ছিল — তাই তাৎক্ষণিকভাবে আশপাশের মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে।
পুলিশি কর্মপদ্ধতি (Kolkata)
প্রথমে উদ্ধারকারী দল ও পুলিশ ক্ষত-বিক্ষত কোনো চিহ্ন আছে কি না তা খালে ও আশপাশে তল্লাশি করে। দেহ উদ্ধার করে আইনী প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। থানায় উপস্থিত হয়ে আশপাশের লোকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে—ইতিমধ্যেই পাশের বাসিন্দা, মাছ শিকারী বা খাল-পথে যাতায়াতকারী ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। এলাকার বিভিন্ন স্থানে থাকা সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে খতিয়ে দেখা হচ্ছে — খোঁজা হচ্ছে দেহ খালে ভেসে ওঠার পূর্বের সময়ের গতিবিধি ও অচেনা ব্যক্তির উপস্থিতির সম্ভাব্য ফুটেজ। খালের কাষে ধস্তাধস্তি বা মারামারি-র চিহ্ন আছে কি না তা পরীক্ষা করা হচ্ছে।
পুলিশ কী খুঁজছে (Kolkata)
ব্যক্তির জামাকাপড়, জুতো, ব্যাগ বা কাগজপত্র থাকলে তা থেকে পরিচয় মিলানো হবে; যদি না পাওয়া যায়, তাহলে পলিসি আনতে পারে আঙুলের ছাপ, ডিএনএ বা দাঁতের রেকর্ড থেকে সেখানে মিল করাতে।
মৃত্যু নির্ণয়: ময়নাতদন্ত (পোস্টমর্টেম) রিপোর্টে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ (হত্য, আত্মহত্যা, দুর্ঘটনা বা স্বাভাবিক রোগজটিলতা) ও মৃত্যুর আনুমানিক সময় নির্ধারণ করা হবে। এছাড়া টক্সিকোলজি পরীক্ষায় জৈব-রাসায়নিক বিষক্রিয়ার চিহ্ন পাওয়া গেলে তা শনাক্ত করা হবে।

খালের আশপাশে ধস্তাধস্তি কিংবা দেহ ফেলে রেখে যাওয়ার আশঙ্কা থাকলে অপরিকল্পিত পথে দেহ নিয়ে আসা হয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখা হবে — যেখানে প্রয়োজন, আরও জায়গার সিসিটিভি সংগ্রহ করা হবে।
যদি সন্দেহ হয় যে দেহ অন্য কোনো জায়গা থেকে আনা হয়েছে, তাহলে সেখানকার রিপোর্ট ও কমিউনিটিগুলোতে অনুসন্ধান বাড়ানো হবে।
স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া (Kolkata)
অভিযোগ ও আশঙ্কা ওঠা স্বাভাবিক—স্থানীয়রা উদ্বিগ্ন ও বিচলিত। অনেকেই বলেন, এমন ঘটনায় এলাকাটির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে এবং দ্রুত ঘটকের খোঁজ না হলে পরিচিত বা অচেনা ব্যক্তি রাতে রাস্তায় বেশি সাবধানতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। পুলিশ বর্তমানে শান্তি বজায় রাখতে ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছে।
ময়নাতদন্তের গুরুত্ব (Kolkata)
ময়নাতদন্ত রিপোর্ট মৃত্যুর কারণ, সময় এবং দেহে থাকা আঘাতের ধরন সম্পর্কে স্পষ্ট ধারনা দেবে। টক্সিকোলজি রিপোর্ট যদি বিষক্রিয়ার ইঙ্গিত দেয়, তবে তদন্তের ভেক্টর বদলে যাবে। রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর বিবেচনা করা হবে — প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত ফরেনসিক পরীক্ষা, সাক্ষী-জিজ্ঞাসাবাদ বা উচ্চতর তদন্তকারী সংস্থার সহায়তা আনা হতে পারে।
পুলিশ ইতিমধ্যেই লোকজনকে অনুরোধ করেছে—যাদের কাছে মৃত ব্যক্তির পরিচয় সম্পর্কিত কোনো তথ্য (চলাফেরা, পরিচিতি, শেষ দেখা যাওয়ার সময় ইত্যাদি) আছে, তারা দ্রুত থানায় জানাতে।
আরও পড়ুন: Password Tips: এক সেকেন্ডেই হ্যাক হতে পারে অ্যাকাউন্ট, ঠিকঠাক পাসওয়ার্ড ব্যবহার করছেন তো?
কেষ্টপুরের বাগজোলা খালে উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তির মৃত্যু এখনও রহস্যময়। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট ও সিসিটিভি-নির্ভর তদন্ত না হওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর প্রকৃতি নির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না। পুলিশ বলেছেন—সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত পরীক্ষা ও জিজ্ঞাসাবাদ চালানো হবে। স্থানীয়দের সহায়তা ও পুলিশি তদন্ত মিললে দ্রুত সত্য উদঘাটন সম্ভব হবে।