ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: প্রতি বছরের মতো এবারও রেড রোডে ইদের নমাজে যোগ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। তবে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে কৌতূহল ছিল, এবারও কি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর সঙ্গী হবেন?
জল্পনার অবসান (Mamata Banerjee)
গত কয়েক মাস ধরে দলীয় শীর্ষ নেতৃত্ব নিয়ে জল্পনার মধ্যেই (Mamata Banerjee) এই প্রশ্ন উঠছিল। বিশেষত, যখন অভিষেক কখনও ‘দূরত্ব’ বজায় রেখেছেন, আবার মমতা স্পষ্ট করে দিয়েছেন তিনিই দলের ‘শেষ কথা’। তবে মুখ্যমন্ত্রীর ইংল্যান্ড সফরের আগে দুই নেতার মধ্যে সম্পর্ক মসৃণ হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছিল। যা আরও স্পষ্ট হয়েছিল গত ২৭ ফেব্রুয়ারি নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে একই মঞ্চে তাদের উপস্থিতি এবং সম্প্রতি অভিষেকের ভার্চুয়াল বৈঠকে সুব্রত বক্সীর ‘আমাদের সকলের নেতা’ মন্তব্যের মাধ্য়মে।
মুখ্য়মন্ত্রীর স্পষ্ট বক্তব্য় (Mamata Banerjee)
সোমবার সকাল ৯টায় রেড রোডে ইদের নমাজে মমতার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং মন্ত্রী জাভেদ খান। ছ’মাস পর আবারও একই মঞ্চে মমতা-অভিষেকের উপস্থিতি তৃণমূলের একাংশকে স্বস্তি দিয়েছে। উভয়েই তাদের বক্তব্যে সম্প্রীতি রক্ষার আহ্বান জানান। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায় বলেন, “লাল আর গেরুয়া এক হয়ে অশান্তি করছে। আমরা বিভাজনের রাজনীতি করি না। ধর্মের নামে ব্যবসা করে কিছু রাজনৈতিক দল।” তিনি স্পষ্ট করে দেন, “কেউ গোলমাল পাকাতে এলে মনে রাখবেন, দিদি আছে।”

দিদির সঙ্গেই অভিষেক
অভিষেকও একই সুরে বক্তব্য রাখেন। তিনি প্ররোচনায় পা না দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “মৃত্যু পর্যন্ত এই রাজ্যে শান্তি বজায় রাখতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।” তাঁর এই বক্তব্যকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন, কারণ এটি দলের মধ্যে নেতৃত্বের সমন্বয়কে ইঙ্গিত করে। মুখ্যমন্ত্রী তাঁর লন্ডন সফরের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ইদের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে বিদেশের একটি অনুষ্ঠান বাতিল করেছেন। অক্সফোর্ডের কেলগ কলেজের ঘটনার উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমি গর্বের সঙ্গে বললাম, আমি হিন্দু, আমি মুসলিম, আমি শিখ, আমি ইসাই। আমি একজন ভারতীয়।”
আরও পড়ুন: Suvendu Adhikari: পাঁচ দিন ধরে রাজ্য় জুড়ে শুভেন্দুর রামনবমীর কর্মসূচি, ভবানীপুরেও আমন্ত্রণ নেতার!
পর্যবেক্ষকদের মত
এই ঘটনাকে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা দুই দৃষ্টিতে দেখছেন। একদিকে, এটি তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ সমন্বয়ের ইতিবাচক সংকেত। অন্যদিকে, ২০২৫-এর লোকসভা নির্বাচনের আগে ধর্মনিরপেক্ষতার বার্তা দেওয়ার কৌশল হিসেবেও কাজ করতে পারে। বিশেষ করে যখন রাজ্যে রামনবমীকে ঘিরে উত্তেজনা তৈরি করার অভিযোগ উঠেছে বিজেপির বিরুদ্ধে, তখন তো বটেই।
রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক
রেড রোডের এই ইদের অনুষ্ঠান শুধু ধর্মীয় অনুষ্ঠানই নয়, এটি হয়ে উঠেছে বাংলার রাজনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। যেখানে একসঙ্গে মমতা-অভিষেকের উপস্থিতি দলের অভ্যন্তরীণ জটিলতা কাটিয়ে একসঙ্গে এগিয়ে চলার বার্তা দিচ্ছে। পাশাপাশি, এটি কেন্দ্রের বিরুদ্ধে রাজ্যের ঐক্যেরও প্রতীক হয়ে উঠেছে। আগামী দিনে এই সমন্বয় কতটা কার্যকর হয়, তা এখন দেখার অপেক্ষা।