Last Updated on [modified_date_only] by Debu Das
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল : তিয়ানজিনে সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন শীর্ষ বৈঠকে অংশ নিতে ৩১ আগস্ট থেকে ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দুই দিনের চিন সফরে গিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Modi At SCO)। এই সফর ঘিরে চিনের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের প্রতিক্রিয়া আশাবাদ ও সংশয়ের মিশ্র রূপে সামনে এসেছে।
মার্কিন চাপ অগ্রাহ্য করার প্রশংসা (Modi At SCO)
চিনের জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ওয়েইবো ও দৌইনে মোদীর সাহসী অবস্থানকে প্রশংসা করা হয়েছে(Modi At SCO)। বিশেষত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৫০ শতাংশ শুল্ক চাপানোর সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ভারতের অনমনীয় অবস্থান ঘিরে আলোচনায় সরগরম হয়ে ওঠে চিনা নেটিজেনরা।
একজন ব্যবহারকারী লিখেছেন, “মোদীর এই পদক্ষেপ সত্যিই কঠোর। ভারত কি চিনের মডেল অনুসরণ করে আমেরিকাকে ছাড় দিতে বাধ্য করতে পারবে?”
ট্রাম্পের ফোন কল প্রত্যাখ্যান (Modi At SCO)
নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে ট্রাম্পের অন্তত চারটি ফোন কল নাকি গ্রহণ করেননি মোদী(Modi At SCO)। এই খবর চিনা ব্যবহারকারীদের কাছে ভারতের স্বাধীন কূটনৈতিক অবস্থানের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। একজন মন্তব্য করেছেন, “চার বার ট্রাম্পের ফোন ধরা হয়নি! এ বার সত্যিই আমেরিকা ভুল করেছে।”
স্বাধীন নীতি ও রুশ তেলের সমর্থন (Modi At SCO)
ডিসকাউন্টে রাশিয়ার তেল কেনা নিয়ে ভারতকে প্রশংসায় ভরিয়ে দিয়েছেন অনেক চিনা ব্যবহারকারী(Modi At SCO)। চিনা গবেষক গাও ঝিকাইয়ের বক্তব্য ব্যাপকভাবে শেয়ার হয়েছে: “ভারতীয়রা বোকা নয়। আমেরিকানদের উচিত নয় সবসময় ভারতকে শেখানোর চেষ্টা করা।”
প্রত্যাশা ও সংশয়ের জায়গা (Modi At SCO)
তবে প্রশংসার পাশাপাশি এসেছে প্রশ্ন ও সমালোচনা(Modi At SCO)। আগামী ৩ সেপ্টেম্বর বেজিংয়ের তিয়ানআনমেন স্কোয়ারে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানের পরাজয়ের ৮০ বছর উদ্যাপন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মোদী যোগ দিচ্ছেন না—এ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন অনেকে।
একজন নেটিজেন লিখেছেন, “এসসিও বৈঠকে আসা প্রায় সব নেতা ওই অনুষ্ঠানে থাকবেন। কিন্তু ভারতের প্রধানমন্ত্রী অনুপস্থিত। এর মানে ভারত চিনের সঙ্গে প্রকৃত বন্ধুত্ব করতে চায় না।”

আরও পড়ুন : RSS Mohan Bhagwat : কেন আরএসএস চাইছে না ভারতের অবস্থা জাপানের মত হোক?
দ্বিধায় ভারত-চিন সম্পর্ক
চিনা সাংবাদিক হু শিজিন মন্তব্য করেছেন, মোদীর (Narendra Modi) যদি বেজিংয়ের সামরিক কুচকাওয়াজে যোগ দিতেন তবে তা “অতিরিক্ত বড় পদক্ষেপ” হয়ে যেত। আবার অনেক ব্যবহারকারী অভিযোগ তুলেছেন, ভারত যেন “দুই দিকেই খেলছে”—একদিকে জাপান সফর, অন্যদিকে চিনের উপর শিল্প নির্ভরতা কমানোর নীতি।
দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ
চিনের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক জিন ক্যানরং মনে করেন, ভারত-চিন সম্পর্কের গতিপথ নির্ভর করছে দুটি বিষয়ের উপর—
১. মোদী শেষ পর্যন্ত বেজিংয়ের সামরিক কুচকাওয়াজে যোগ দেন কি না।
২. ভারত তার বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই)-এর বিরোধিতা শিথিল করে কি না, যা পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের মধ্য দিয়ে যাওয়ার কারণে আপত্তিকর মনে করে নয়াদিল্লি।

আরও পড়ুন : PM Modi Japan Visit : হাই-স্পিড রেল থেকে চন্দ্রযান-৫! জাপান সফরে একাধিক প্রকল্পে সহযোগিতার আদায় মোদির
মোদীর চিন সফরকে কেন্দ্র করে চিনা সামাজিক মাধ্যমে যেমন প্রশংসা ও সমর্থন দেখা যাচ্ছে, তেমনই স্পষ্ট হয়ে উঠছে সংশয় ও কৌশলগত প্রত্যাশা(Modi At SCO)। একদিকে মার্কিন চাপের বিরুদ্ধে মোদীর দৃঢ় অবস্থান তাঁকে চিনা ব্যবহারকারীদের চোখে শক্তিশালী নেতার চিত্র দিয়েছে, অন্যদিকে ভারতের দ্বিধাগ্রস্ত ভূরাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে সমালোচনাও কম হয়নি। এই সফর শেষ পর্যন্ত ভারত-চিন সম্পর্কে নতুন অধ্যায় খুলবে নাকি পুরনো দ্বন্দ্বকেই উস্কে দেবে—সেদিকেই এখন নজর।