Last Updated on [modified_date_only] by Debu Das
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: কেরলের নার্স নিমিশা প্রিয়া–র মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হতে চলেছে ১৬ জুলাই। ইয়েমেন সরকার মঙ্গলবার ভারতীয় দূতাবাসকে সেই দিনক্ষণ জানিয়ে দিয়েছে বলে খবর(Nimisha Priya)। ছ’মাস আগেই ইয়েমেনের সুপ্রিম কোর্ট নিমিশার মৃত্যুদণ্ডের রায় বহাল রাখে। মঙ্গলবার সেই রায়ের পরবর্তী পদক্ষেপের ঘোষণা আনুষ্ঠানিকভাবে করে ইয়েমেন সরকার।
মানবাধিকার কর্মী স্যামুয়েল জেরোম, যিনি নিমিশার মায়ের পক্ষ থেকে ‘পাওয়ার অফ অ্যাটর্নি’ নিয়েছেন, বলেন, “সরকারি ভাবে মৃত্যুদণ্ডের দিন জানানো হয়েছে। কিন্তু আমরা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত প্রাণরক্ষার চেষ্টায় আছি।”
কে নিমিশা প্রিয়া? (Nimisha Priya)
পালাক্কড়ের বাসিন্দা নার্স নিমিশা প্রিয়া ২০০৮ সালে চাকরির জন্য পাড়ি দিয়েছিলেন ইয়েমেনে(Nimisha Priya)। সেখানে স্বামী ও মেয়েকে নিয়ে শুরু করেছিলেন নতুন জীবন। কিন্তু পরে স্বামী ও কন্যা দেশে ফিরে এলেও তিনি থেকে যান, নিজের চিকিৎসা ক্লিনিক খোলার স্বপ্ন নিয়ে।
এই পর্বে তাঁর জীবনে আসে তালাল মাহদি নামে এক ইয়েমেনি নাগরিক। ব্যবসায়িক সঙ্গী হলেও মাহদি তাঁকে জোর করে স্ত্রী হিসেবে সরকারি কাগজপত্রে নথিভুক্ত করেন, এবং পাসপোর্ট ও অর্থ আত্মসাৎ করেন বলে অভিযোগ। প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও কোনও সুরাহা না পেয়ে চরম পদক্ষেপে যান নিমিশা।
ওভারডোজ, মৃত্যু, দেহ টুকরো (Nimisha Priya)
২০১৭ সালের ২৫ জুলাই, মাহদিকে ঘুমের ইনজেকশন দেন নিমিশা, নিজের দাবি অনুযায়ী— পাসপোর্ট উদ্ধার করতেই। কিন্তু অতিরিক্ত ডোজে মৃত্যু হয় মাহদির(Nimisha Priya)। পরে সহকর্মী হানান–এর সহায়তায় দেহ কেটে ফেলে দেন জলের ট্যাঙ্কে। পালানোর চেষ্টা করতে গিয়ে ধরা পড়েন বিমানবন্দরে। ২০১৮ সালে ইয়েমেনের আদালত তাঁকে মাহদির হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ড দেয়। সেই থেকে বন্দি রয়েছেন ইয়েমেনের জেলে।
‘দিয়া’র প্রস্তাব, প্রেসিডেন্টের দয়ামাফ চাওয়াও ব্যর্থ (Nimisha Priya)
ইসলামিক আইন অনুযায়ী, ‘দিয়া’ অর্থাৎ রক্তমূল্য বা ক্ষতিপূরণ দিয়ে মৃত্যুদণ্ড ঠেকানো সম্ভব(Nimisha Priya)। নিমিশার পরিবার সেই পথেই গিয়েছিল। বহু আবেদন-নিবেদনের পর তারা দিয়া দিতে প্রস্তুত হয়। কিন্তু মাহদির পরিবার প্রস্তাব ফিরিয়ে দেয়।
এরপর দেশের সর্বোচ্চ আদালতে আপিল ও ইয়েমেনের প্রেসিডেন্ট রাশাদ আল-আলিমি-র কাছে ক্ষমাভিক্ষার আবেদনও করা হয়। তাও ব্যর্থ হয়। ডিসেম্বরেই প্রেসিডেন্ট প্রাণভিক্ষার আবেদন খারিজ করে দেন।

আরও পড়ুন: CPI Maoist : ছত্তিশগড়ে ফের মাওবাদী হামলা, বিজাপুরে IED বিস্ফোরণে জখম দুই সিআরপিএফ জওয়ান
ভারতের কূটনৈতিক স্তরের চেষ্টাও জারি (Nimisha Priya)
এখনও পর্যন্ত ভারত সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি(Nimisha Priya)। তবে সূত্রের খবর, বিদেশ মন্ত্রক কূটনৈতিক স্তরে নিমিশার প্রাণরক্ষার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছে। ইয়েমেনের সঙ্গে ভারতের কূটনৈতিক সম্পর্ক জটিল না হলেও, সেখানে বর্তমানে স্থিতিশীল সরকার নেই, যা চাপ প্রয়োগে সমস্যা তৈরি করছে।

মানবাধিকার মহলের আবেদন , হস্তক্ষেপ করুন প্রধানমন্ত্রী (Nimisha Priya)
নিমিশার পরিবারের তরফে ও মানবাধিকার কর্মীদের তরফে বারবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী(Narendra Modi)-র হস্তক্ষেপের আবেদন জানানো হয়েছে। তাঁদের দাবি, এক জন ভারতীয় নারীর জীবন বাঁচাতে সর্বোচ্চ পর্যায়ের কূটনৈতিক প্রয়াস চালানো হোক। দেশজুড়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় #SaveNimishaPriya ট্রেন্ড করছে(Nimisha Priya)।
১৬ জুলাই এগিয়ে আসছে। ইয়েমেন সরকারের সিদ্ধান্তে ভারতজুড়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক আইন, ধর্মীয় বিধি, কূটনীতি— সব মিলিয়ে জটিল এক মামলায় এক ভারতীয় নারীর জীবন ঝুলছে সূক্ষ্ম সুতোয়। এখন দেখার, শেষ মুহূর্তে কি কোনো অলৌকিক মোড় নেয় ঘটনাক্রম? না কি এক চিরন্তন প্রশ্ন থেকেই যায়— অন্য দেশে বিচার পাওয়া কি এতোই কঠিন?