Last Updated on [modified_date_only] by Debu Das
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল : চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সরকার জানিয়ে দিয়েছে, আমেরিকা এবং রাশিয়ার সঙ্গে পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে যে আলোচনা চলছে, তাতে চিন তৃতীয় পক্ষ হিসেবে যোগ দেবে না(Nuclear Proliferation)। চিনা পররাষ্ট্র দফতরের মুখপাত্র গুয়ো জিয়াকুন বলেন, আমেরিকা ও রাশিয়াসহ ত্রিপক্ষীয় আলোচনায় চিনের অংশগ্রহণ আশা করা যুক্তিসঙ্গত নয়। তাঁর বক্তব্য, পরমাণু সক্ষমতা ও কৌশলগত বাস্তবতায় দুই পরাশক্তির সঙ্গে চিনের তুলনা চলে না, তাই একই টেবিলে বসে এক ধাঁচের শর্তে কথা বলা অর্থহীন।
ট্রাম্পের দাবি কী ছিল? (Nuclear Proliferation)
মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald J. Trump) দাবি করেন, ১৫ আগস্ট আলাস্কায় রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে তাঁর বৈঠকে পরমাণু অস্ত্র কমানোর প্রসঙ্গ উঠে এসেছে। ট্রাম্পের কথায়, ইউক্রেন যুদ্ধ শেষ হলে ওয়াশিংটন ও মস্কো তাদের বিশাল পরমাণু অস্ত্রভান্ডার হ্রাসে নীতিগত ঐকমত্যে পৌঁছেছে এবং শেষ লক্ষ্য পূরণে চিনকেও আলোচনায় টানা হবে। একই সঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, সবার হাতেই অতিরিক্ত পরমাণু অস্ত্র রয়েছে, তাই নিরস্ত্রীকরণই বিশ্বশান্তির স্বার্থে জরুরি।
কেন আপত্তি করছে চিন? (Nuclear Proliferation)
গুয়ো জিয়াকুনের যুক্তি, আমেরিকা ও রাশিয়ার সঙ্গে চিনের কৌশলগত নিরাপত্তা পরিবেশ ও পরমাণু নীতি এক নয়। ফলে একই কাঠামোয় একযোগে আলোচনায় বসা বাস্তবসম্মত নয়(Nuclear Proliferation)। বেজিংয়ের মতে, যে কোনও নিরস্ত্রীকরণ আলোচনার ভিত্তি হতে হবে আপেক্ষিক সক্ষমতা, প্রতিরোধ নীতি ও অঞ্চলগত নিরাপত্তার সমীকরণ। চিন ইঙ্গিত দিচ্ছে, তাদের অস্ত্রভান্ডার তুলনামূলক ছোট হওয়ায় মার্কিন রুশ পরিসরের বাধ্যবাধকতা বা লক্ষ্য একভাবে প্রযোজ্য নয়।

আরও পড়ুন : India Pakistan Conflict : ভারত-পাকিস্তানকে পরমাণু যুদ্ধ থেকে ‘বাঁচিয়েছিলেন’, দাবি ট্রাম্পের
বিশ্ব পরমাণু ভারসাম্যের প্রেক্ষাপট (Nuclear Proliferation)
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিশ্বের মোট পরমাণু অস্ত্রের প্রায় নব্বই শতাংশই যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার হাতে(Nuclear Proliferation)। চিন তৃতীয় স্থানে থাকলেও সংখ্যায় ও ক্ষমতায় অনেক পিছনে। এই বাস্তবতা দেখিয়ে বেজিং বলছে, বড় দুই শক্তির দায়িত্ব ও বাধ্যবাধকতাই বেশি। ফলে প্রথমে তাদেরই বৃহৎ হ্রাসে এগোতে হবে, পরে অন্যদের জন্য উপযোগী পথচিত্র তৈরি হতে পারে।
কূটনৈতিক বার্তা ও সম্ভাব্য প্রভাব (Nuclear Proliferation)
চিনের ঘোষণায় স্পষ্ট যে বেজিং একটি সমান্তরাল, নিজেদের অনুকূল ফ্রেমওয়ার্কে আলোচনা চায়, আমেরিকা রাশিয়ার টেমপ্লেটে নয়। অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসন ত্রিপক্ষীয় ট্র্যাক এগিয়ে নিতে চাইলে বেজিংয়ের অনাগ্রহ আলোচ্যসূচিকে জটিল করবে। এতে ইউক্রেন যুদ্ধ-পরবর্তী নিরাপত্তা স্থাপত্যে যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার সম্ভাব্য সমঝোতার গতি শ্লথ হতে পারে, কারণ এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় ভারসাম্যে চিনকে বাদ দিয়ে দীর্ঘমেয়াদি নিরস্ত্রীকরণ কাঠামো স্থায়ী হবে না।

আরও পড়ুন : Commonwealth Games 2030 : ভারতে আয়োজিত ২০৩০ সালের কমনওয়েলথ গেমস হবে আহমেদাবাদে, জানালো কেন্দ্র
সামনে কী? (Nuclear Proliferation)
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাস্তবসম্মত রোডম্যাপ হতে পারে ধাপে ধাপে অগ্রগতি। প্রথম ধাপে আমেরিকা ও রাশিয়ার মধ্যে যাচাইযোগ্য হ্রাস, স্বচ্ছতা বৃদ্ধি ও দুর্ঘটনা প্রতিরোধে হটলাইন এবং তথ্য বিনিময়। দ্বিতীয় ধাপে চিনসহ অন্যান্য পরমাণু শক্তির জন্য আত্মবিশ্বাস সৃষ্টিকারী ব্যবস্থা এবং স্বচ্ছতা মানদণ্ড। বেজিং যদি এখনই ত্রিপক্ষীয় ফ্রেমে রাজি না হয়, তবু দ্বিতীয় ট্র্যাকে তাদের সঙ্গে সংলাপ খোলা রাখাই কার্যকর হতে পারে(Nuclear Proliferation)।
সারকথা, ট্রাম্পের ত্রিপক্ষীয় পরিকল্পনায় আপাতত বেজিং সায় দিচ্ছে না। মার্কিন রুশ দ্বিপাক্ষিক বোঝাপড়া যদি বাস্তবে রূপ পায়, তবে তাতেই পরবর্তী সময়ে চিনকে টেবিলে আনার সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে এই মুহূর্তে পরমাণু নিরস্ত্রীকরণের পথ আরও কঠিনই হয়ে উঠল।