Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: কফি পৃথিবীর অন্যতম জনপ্রিয় পানীয় (Coffee Benefits)। প্রতিদিন কোটি কোটি মানুষ এক কাপ কফি দিয়ে তাঁদের দিন শুরু করেন। তবে শুধু স্বাদ বা অভ্যাস নয়, কফির রয়েছে বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত অনেক স্বাস্থ্য উপকারিতাও। লক্ষ লক্ষ মানুষ তাদের সজাগ এবং সতেজ রাখার জন্য ক্যাফিনের উপর নির্ভর করে, প্রায় ৮০% মার্কিন প্রাপ্তবয়স্ক প্রতিদিন এটি গ্রহণ করেন, তাই আসুন এটিকে কিছুটা রহস্যময় করে তুলি।

মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি (Coffee Benefits)
কফির প্রধান সক্রিয় উপাদান হলো ক্যাফেইন। এটি স্নায়ুতন্ত্রকে উদ্দীপিত করে এবং মস্তিষ্কের নিউরোট্রান্সমিটার অ্যাডেনোসিন ব্লক করে দেয়। ফলে ক্লান্তি ও ঘুমভাব কমে যায়।
- কাজের সময় মনোযোগ ও একাগ্রতা বাড়ে।
- স্মৃতিশক্তি কিছুটা উন্নত হয়।
- হঠাৎ সিদ্ধান্ত নেওয়া ও শেখার ক্ষমতাও বৃদ্ধি পায়।
তাই ছাত্রছাত্রী, চাকরিজীবী বা দীর্ঘ সময় জেগে কাজ করা মানুষেরা কফি পান করে কর্মদক্ষতা বাড়াতে পারেন।
ক্লান্তি দূর করে এনার্জি যোগায় (Coffee Benefits)
- দীর্ঘ কাজের পর এক কাপ কফি শরীরে সজীবতা আনে।
- মানসিক অবসাদ ও শারীরিক দুর্বলতা কমাতে সাহায্য করে।
- দীর্ঘ ভ্রমণ বা রাত জেগে কাজ করার সময় সজাগ রাখে।
হৃদ্যন্ত্রের জন্য সম্ভাব্য উপকার (Coffee Benefits)
- প্রতিদিন ১–২ কাপ কফি খেলে রক্ত সঞ্চালন সামান্য বাড়তে পারে।
- হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি সীমিতভাবে কমতে পারে।
শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের উৎস (Coffee Benefits)
- কফি শুধু ক্যাফেইন নয়, বরং এতে প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট আছে।
- অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের কোষকে ক্ষতিকর ফ্রি-র্যাডিক্যাল থেকে রক্ষা করে।
- বার্ধক্যের গতি কিছুটা কমায়।
- ক্যানসারসহ অনেক দীর্ঘমেয়াদি রোগ প্রতিরোধে সহায়ক হতে পারে।
অনেক দেশে মানুষের দৈনন্দিন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট গ্রহণের সবচেয়ে বড় উৎস হচ্ছে কফি।
ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক (Coffee Benefits)
বেশ কিছু দীর্ঘমেয়াদি গবেষণায় দেখা গেছে—
- নিয়মিত কফি পানকারীদের মধ্যে টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কম।
- কফির উপাদান ইনসুলিন সেনসিটিভিটি বাড়াতে সাহায্য করতে পারে।
মস্তিষ্কের অবক্ষয়জনিত রোগ প্রতিরোধ
- ব্যায়াম ও শারীরিক কর্মক্ষমতা বাড়ায়
- ক্যাফেইন শরীরে অ্যাড্রেনালিন হরমোন বাড়িয়ে দেয়।
- এতে শরীর বেশি শক্তি ব্যবহার করতে পারে, ফলে ব্যায়ামের সহনশীলতা ও পারফরম্যান্স বাড়ে।
- ফ্যাট বার্ন করতেও সহায়ক হয়।
ওজন নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা (Coffee Benefits)
- ব্ল্যাক কফি ক্যালোরি কমায়।
- মেটাবলিজম সামান্য বাড়িয়ে শরীরে চর্বি ভাঙতে সাহায্য করে।
- অনেক ডায়েট প্ল্যানে তাই কফি অন্তর্ভুক্ত থাকে।
মানসিক স্বাস্থ্যে ইতিবাচক প্রভাব!
- মানসিক চাপ ও বিষণ্ণতা কিছুটা কমে।
- কফি মস্তিষ্কে ডোপামিন ও সেরোটোনিন হরমোন বাড়ায়, যা সুখ ও আনন্দের অনুভূতি তৈরি করে।
- নিয়মিত কফি পানকারীদের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা কিছুটা কম।
সীমাবদ্ধতা কোথায়!
- অনিদ্রা, নার্ভাসনেস ও উদ্বেগ।
- পেটের সমস্যা বা অ্যাসিডিটি।
- হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া।
- গর্ভবতী নারীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
আরও পড়ুন: Purba Bardhaman: দেবশালার অমর প্রেমকাহিনির অলিখিত সমাধি
তাই সাধারণত দিনে ২–৩ কাপ ব্ল্যাক কফি স্বাস্থ্যকর বলে ধরা হয়। কফি মস্তিষ্ক ও শরীরকে সতেজ রাখে। হৃদযন্ত্র, ডায়াবেটিস প্রতিরোধ, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ব্যায়ামে সহায়তা— সব ক্ষেত্রেই এর ভূমিকা রয়েছে। তবে সীমা অতিক্রম করলে উপকারের বদলে অপকারই বেশি হতে পারে। যদিও কফির অনেক উপকারিতা আছে, তবে অতিরিক্ত সেবন করলে ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে।