ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: ঋতুমতী হওয়ায় চৈত্র নবরাত্রি পালনে বাধা পেলেন গৃহবধূ (Uttar Pradesh Incident), অভিমানে আত্মঘাতী হলেন তিনি। উত্তরপ্রদেশের ঝাঁসির বাসিন্দা প্রিয়াংশা চৈত্র নবরাত্রির জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিলেন। কিন্তু গত ৩০ মার্চ ঋতুমতী হন তিনি। নবরাত্রির প্রথম দিনই ঋতুস্রাব শুরু হয় প্রিয়াংশার। এখনও অধিকাংশ হিন্দু পরিবারে ঋতুমতী মহিলাদের পুজোপার্বনে অংশ নিতে বাধা দেওয়া হয়। মনে করা হয় রজঃস্বলা মহিলারা অপবিত্র। তিনিও অংশ নিতে পারবেন না সেই কষ্টেই আত্মঘাতী হয়েছেন বলে পরিবারের দাবী।
আতঙ্ক গ্রাস করেছিল (Uttar Pradesh Incident)
মৃতার স্বামী মুকেশ বলেন, ‘গত এক বছর ধরে চৈত্র নবরাত্রি পালনের জন্য উৎসুক ছিল প্রিয়াংশা। তবে ঋতুস্রাব শুরু হওয়ায় পুজোয় অংশ নিতে পারেনি, উপবাসও করতে পারেনি (Uttar Pradesh Incident)। এত প্রস্তুতি সারার পরও পুজো না হলে অমঙ্গল হবে, এই আতঙ্ক গ্রাস করেছিল ওকে। মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল। ওকে বুঝিয়েছিলাম, ঋতুস্রাব স্বাভাবিক প্রাকৃতি নিয়ম এবং এর জন্য কোনও কাজে অংশ নেওয়া সমস্যাজনক নয়। তবে ও কিছুতেই মেনে নিতে পারেনি বিষয়টা।’
স্ত্রীরও এমন ‘সংস্কার’ ছিল (Uttar Pradesh Incident)
তিনি আরও বলেন, ‘‘ওর কথা মতো ফুল, ফল, মিষ্টি, প্রদীপ ইত্যাদি বাজার থেকে এনেছিলাম। মা দুর্গার আরাধনার জন্য অনেক পরিকল্পনা ছিল ওর। কিন্তু নবরাত্রির পয়লা দিন ওর মাসিক শুরু হয়। সে জন্য প্রার্থনায় বসেনি।’ বস্তুত, ঋতুস্রাবের সময় পুজো, ব্রতপালন ইত্যাদি করা যাবে না, এমন সংস্কার অনেকের মধ্যে আছে। বিভিন্ন পরিবারে এ নিয়ে নানা বিধিনিষেধ থাকে। মুকেশ জানিয়েছেন স্ত্রীরও এমন ‘সংস্কার’ ছিল (Uttar Pradesh Incident)।
আরও পড়ুন: Extra Marital Relation: বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে স্ত্রী! সন্দেহের বশে মাথা থেঁতলে দিল চাকরিহারা স্বামী
শারীরিক পরিস্থিতি খারাপ হতে থাকে
দিন কয়েক আগে কাজে বেরোনোর আগে স্ত্রীকে কান্নাকাটি করতে দেখে তাঁকে শান্ত করার চেষ্টা করেন স্বামী। তিনি জানান, কাজ থেকে বাড়ি ফিরে দেখেন বিষ খেয়েছেন প্রিয়াংশা। সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলেন। ভালও হয়ে উঠছিলেন। স্ত্রী বলেছিলেন, একটা ভুল করে ফেলেছেন। স্ত্রীর মন ভাল করার জন্য কয়েকটা দিনের জন্য তাঁকে তাঁর বাপের বাড়িতে রেখে এসেছিলেন মুকেশ। কিন্তু হঠাৎ করে প্রিয়াংশার শারীরিক পরিস্থিতি খারাপ হতে থাকে। আবার তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছিল। কিন্তু বাঁচানো যায়নি বধূকে।
প্রিয়াংশার পিঠে ব্যথা শুরু হয়
ভারাক্রান্ত মুকেশ বলেন, ‘রাত আড়াইটে নাগাদ প্রিয়াংশার পিঠে ব্যথা শুরু হয়। প্রথমটায় ভেবেছিলাম ঋতুস্রাবের থেকে এই যন্ত্রণা হচ্ছে। তবে ব্যথা বাড়তে থাকায় কোনও ঝুঁকি না নিয়ে রাতেই ওকে হাসপাতালে ভর্তি করি। পর দিন দুপুরে জুস খেতে চেয়েছিল। আমি জুস নিয়ে হাসপাতালে ফিরে দেখি ওকে অক্সিজ়েন সাপোর্টে রাখা হয়েছে। তার ১৫-২০ মিনিটের মধ্যেই সব শেষ।’ জানা গিয়েছে, প্রিয়াংশা এবং মুকেশের তিন বছর এবং দু’বছরের দুই কন্যা রয়েছে। তবে পুলিশ এই বিষয়ে তদন্ত শুরু করেছে।