Last Updated on [modified_date_only] by Debu Das
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: পাকিস্তান-আমেরিকা কূটনীতিতে নতুন গতি। সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের পরে এবার পাকিস্তানের বায়ুসেনা প্রধান জাহির আহমেদ বাবর সিধু পৌঁছেছেন ওয়াশিংটনে(Pakistan Air Force Chief In US)। প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদার করতেই এই সফর, এমনটাই দাবি করছে ইসলামাবাদ। এই সফর তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ একই সময়ে আমেরিকায় রয়েছেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এবং কেন্দ্রীয় বাণিজ্য মন্ত্রকের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল। ভারত-আমেরিকা কৌশলগত সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হওয়ার আবহে পাক সেনা এবং বায়ুসেনার একের পর এক সফর কূটনৈতিক চর্চার কেন্দ্রে।
দশ বছরের মধ্যে প্রথম, পেন্টাগনে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক (Pakistan Air Force Chief In US)
পাক বায়ুসেনার বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, গত এক দশকে এই প্রথম কোনও কর্তব্যরত বায়ুসেনা প্রধান আমেরিকা সফরে গেলেন। সফরের মূল উদ্দেশ্য, সন্ত্রাসবিরোধী লড়াই ও আঞ্চলিক স্থিতাবস্থা রক্ষা নিয়ে আলোচনা(Pakistan Air Force Chief In US)।
ওয়াশিংটনে তিনি বৈঠক করেছেন—
- মার্কিন বায়ুসেনার আন্তর্জাতিক বিষয়ক সচিব কেলি এল সিবোল্ট
- মার্কিন বায়ুসেনা প্রধান জেনারেল ডেভিড ডাব্লিউ ইলন
- আমেরিকান কংগ্রেসের একাধিক প্রভাবশালী সদস্যদের সঙ্গে
পাকিস্তানের পক্ষ থেকে দাবি, এই সব বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক সামরিক সহযোগিতা, সন্ত্রাসদমন, এবং আঞ্চলিক স্থিতি বজায় রাখার বিষয়ে মত বিনিময় হয়েছে।
মুনির-ট্রাম্প বৈঠকের রেশ রয়ে গেছে (Pakistan Air Force Chief In US)
এর আগে গত মাসে পাক সেনাপ্রধান আসিম মুনির মধ্যাহ্নভোজ ও একান্ত বৈঠকে অংশ নিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে(Pakistan Air Force Chief In US)। বৈঠকের পর ট্রাম্প নিজে বলেন, “ভারত-পাক সংঘর্ষবিরতি কার্যকর করার ক্ষেত্রে মুনিরের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।” উল্লেখযোগ্য, আসিম মুনির প্রথম পাক সেনাপ্রধান যিনি রাজনৈতিক পদে না থেকেও মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ঘোষণা করে বৈঠক করেন। পূর্বতন তিন সেনাপ্রধান—আয়ুব খান, জিয়াউল হক ও মুশারফ—রাষ্ট্রপ্রধান থাকাকালীনই মার্কিন প্রেসিডেন্টদের সঙ্গে বৈঠক করেন।

আরও পড়ুন: Kedarnath Yatra : উত্তরাখণ্ডে ধস, বন্ধ কেদারনাথ যাত্রা! পর্যটকদের নিরাপত্তায় প্রশাসনের কড়া পদক্ষেপ
ভারতের প্রতিক্রিয়া মধ্যস্থতা অপ্রয়োজনীয়(Pakistan Air Force Chief In US)
ট্রাম্প অতীতে বহুবার দাবি করেছেন, ভারত-পাক সংঘর্ষ থামাতে তিনি মধ্যস্থতা করেছেন। যদিও ভারতের তৎকালীন বিদেশসচিব বিক্রম মিস্রী স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Donald J. Trump) স্পষ্ট ভাষায় ট্রাম্পকে জানিয়ে দেন যে, “ভারত কোনও তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্থতা মেনে নেয় না।” তবে পরবর্তীতে ট্রাম্প-মুনির বৈঠকে আবারও সংঘর্ষবিরতির প্রসঙ্গ ওঠায়, এই কূটনৈতিক অবস্থান নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
কোয়াড ও বাণিজ্য-আলোচনার সময়েই পাক তৎপরতা (Pakistan Air Force Chief In US)
এই সময়ে কোয়াড বৈঠকে যোগ দিতে আমেরিকায় রয়েছেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী জয়শঙ্কর, এবং ভারতের পক্ষ থেকে একটি বাণিজ্য প্রতিনিধিদলও আলোচনায় ব্যস্ত ওয়াশিংটনে। ঠিক এই সময়েই পাকিস্তান সেনাবাহিনীর উচ্চপদস্থ দুই শীর্ষকর্তার সফর কৌশলগত ভারসাম্য রক্ষার প্রচেষ্টা বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

আরও পড়ুন: Himachal Pradesh Cloudburst : হিমাচলে একের পর এক মেঘভাঙা বৃষ্টি ও ধসে মৃত্যু ১৩, নিখোঁজ ২৯
পাক-আমেরিকা সম্পর্ক ঘনিষ্ঠতায় বার্তা ভারতের দিকেও? (Pakistan Air Force Chief In US)
পাক বায়ুসেনা প্রধানের সফর এবং আমেরিকায় ধারাবাহিক সামরিক আলোচনার মাধ্যমে পাকিস্তান হয়তো আমেরিকার সঙ্গে সম্পর্ক মেরামতের বার্তা দিচ্ছে—বিশেষত চীনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার মধ্যে ভারসাম্য আনতেই(Pakistan Air Force Chief In US)। অন্যদিকে, ভারত-আমেরিকা কৌশলগত মিত্রতা যে পাক প্রশাসনের কূটনৈতিক উদ্বেগ বাড়িয়েছে, তার প্রমাণ এই সফর। প্রশ্ন এখন একটাই—এই সফর কি শুধুই সামরিক স্তরের? না কি আসন্ন দক্ষিণ এশিয়ার কৌশলগত সমীকরণ বদলে দিতে চলেছে এই সাক্ষাৎপর্বগুলো?