Last Updated on [modified_date_only] by Debu Das
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: ১৯ দিন কেটে গেল। তবুও কেরলের তিরুঅনন্তপুরম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দাঁড়িয়ে ব্রিটেনের ‘রয়্যাল নেভি’-র অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান এফ-৩৫বি (F-35B Fighter Jet)। গত ১৫ জুন, জ্বালানি কমে যাওয়ায় মাঝপথে ভারতীয় আকাশে জরুরি অবতরণ করতে বাধ্য হয়েছিল বিমানটি। পরে দেখা যায়, বিমানে যান্ত্রিক ত্রুটি রয়েছে। এরপর ব্রিটেন (Keir Starmer) থেকে বিশেষ সামরিক ইঞ্জিনিয়ারদের একটি দল বিমানটি মেরামতের চেষ্টা করলেও তা এখনো সফল হয়নি।
গ্লোবমাস্টারে করে ফিরিয়ে নেওয়ার ভাবনা (F-35B Fighter Jet)
যেহেতু বিমানটি(F-35B Fighter Jet) নিজের মতো করে উড়তে অক্ষম, তাই ব্রিটেনের প্রতিরক্ষা বিভাগ এখন ভাবছে, এই এফ-৩৫বি যুদ্ধবিমানটিকে কি গ্লোবমাস্টার C-17 বা অন্য কোনো ভারী পরিবহণ বিমানে তুলে দেশে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব? গ্লোবমাস্টার C-17 মূলত যুদ্ধক্ষেত্র বা দূরবর্তী অঞ্চলে ভারী অস্ত্র, ট্যাঙ্ক বা যুদ্ধবিমান পরিবহণের জন্য ব্যবহৃত হয়। সেই পন্থাই এবার বিবেচনায় নিচ্ছে ব্রিটেন।
বিশ্বের অন্যতম দামি যুদ্ধবিমান, রক্ষণাবেক্ষণে তৎপর ব্রিটেন(F-35B Fighter Jet)
এফ-৩৫বি হল মার্কিন সংস্থা লকহিড মার্টিন নির্মিত একটি স্টেলথ যুদ্ধবিমান। এটি বিশ্বের অন্যতম দামি, উন্নতমানের, এবং প্রযুক্তিনির্ভর যুদ্ধবিমান(F-35B Fighter Jet)।
- এটি ভার্টিক্যাল টেক-অফ ও ল্যান্ডিং করতে সক্ষম
- ব্যবহৃত হয় যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও নেটো বাহিনীর মধ্যে
- প্রতিটির আনুমানিক দাম প্রায় ১০০–১২০ মিলিয়ন ডলার
এই যুদ্ধবিমানটি এতটাই সংবেদনশীল প্রযুক্তি সম্বলিত যে, তা কোনও দেশে দীর্ঘদিন পড়ে থাকা সামরিক নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

আরও পড়ুন: Himachal Pradesh Cloudburst : হিমাচলে একের পর এক মেঘভাঙা বৃষ্টি ও ধসে মৃত্যু ১৩, নিখোঁজ ২৯
ভারতীয় কর্তৃপক্ষের নজরদারি ও সহায়তা(F-35B Fighter Jet)
তিরুঅনন্তপুরম বিমানবন্দরে দীর্ঘদিন ধরে এই যুদ্ধবিমান থাকার কারণে ভারতের ডিফেন্স ইন্টেলিজেন্স এবং বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। পাশাপাশি, যান্ত্রিক সহায়তা ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে ভারতও ব্রিটেনকে সহায়তা করছে, কূটনৈতিক স্তরে সমন্বয়ের মাধ্যমে।

অচল যুদ্ধবিমান নিয়ে আন্তর্জাতিক কৌশলগত উদ্বেগ(F-35B Fighter Jet)
কেরলে আটকে থাকা এফ-৩৫বি যুদ্ধবিমান এখন শুধু একটি প্রযুক্তিগত সমস্যা নয়, বরং কৌশলগত দৃষ্টিকোণ থেকে গুরুত্বপূর্ণ একটি আন্তর্জাতিক ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে। যদি যুদ্ধবিমানটি গ্লোবমাস্টারে করে ফিরিয়ে নেওয়া হয়, তা হলে তা ভারত-মার্কিন প্রযুক্তি নিরাপত্তা চুক্তি এবং নিরাপত্তা রপ্তানি নীতির আলোচনাও জাগিয়ে তুলতে পারে। সবমিলিয়ে, এই ঘটনাকে ঘিরে জিও-পলিটিকাল স্তরেও একটি আলোচনার ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে — যা সামরিক কৌশল, প্রযুক্তি এবং কূটনীতি— তিনটি ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দিচ্ছে।