Last Updated on [modified_date_only] by Debu Das
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: স্বাধীনতা দিবসের প্রভাতে লালকেল্লা থেকে জাতির উদ্দেশে ভাষণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) অনুপ্রবেশ ইস্যুতে কঠোর বার্তা দিলেন(PM Modi On Immigrantion)। তিনি দাবি করেন, সুচিন্তিত ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে দেশের জনবিন্যাস বদলে দেওয়া হচ্ছে, যা নতুন সামাজিক সমস্যার বীজ বপন করছে। প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেন, এই প্রবণতা রুখতে কেন্দ্র নতুন ‘জনবিন্যাস অভিযান’ শুরু করবে।
কর্মসংস্থান ও সামাজিক নিরাপত্তার প্রশ্ন (PM Modi On Immigrantion)
মোদীর অভিযোগ, অন্য দেশ থেকে অবৈধ পথে ভারতে ঢোকা অনুপ্রবেশকারীরা দেশের তরুণ প্রজন্মের জীবিকা হরণ করছে(PM Modi On Immigrantion)। একই সঙ্গে মা-বোনেদের নিরাপত্তা বিপন্ন হচ্ছে বলেও দাবি তাঁর। ‘‘এটা সহ্য করা হবে না,’’— স্পষ্ট বার্তা দিয়ে তিনি জানান, সরকারের অগ্রাধিকার হবে স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান ও সামাজিক স্থিতি রক্ষা।
আদিবাসী এলাকা ও সীমান্তে চাপ বৃদ্ধি (PM Modi On Immigrantion)
প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনুপ্রবেশকারীরা দেশের আদিবাসীদের জমি দখল করছে এবং ভুল বোঝাচ্ছে, ফলে সংঘাতের বীজ বোনা হচ্ছে(PM Modi On Immigrantion) তাঁর সতর্কতা, সীমান্ত এলাকায় জনবিন্যাসের পরিবর্তন জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বিপজ্জনক। ইতিহাসে স্বাধীনতা রক্ষার ত্যাগের কথা স্মরণ করিয়ে তিনি বলেন, ‘‘অনুপ্রবেশকারীদের সামনে কোনও দেশ মাথা নত করতে পারে না— আমরাও করব না।’’

আরও পড়ুন : US Special Forces : যুক্তরাষ্ট্রের ‘যুদ্ধযন্ত্র’ ! অপ্রতিরোধ্য এই ১০টি মার্কিন স্পেশাল ফোর্স
ধরপাকড় ও বিতর্ক (PM Modi On Immigrantion)
সাম্প্রতিককালে কেন্দ্রের তৎপরতায় বিভিন্ন রাজ্যে বাংলাভাষী পরিযায়ী শ্রমিকদের ধরপাকড় নিয়ে বিতর্ক বাড়ছে(PM Modi On Immigrantion)। অভিযোগ, অনেককে গ্রেফতার করে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস এই পদক্ষেপে সরব সমালোচনা করেছে। পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে দিল দিল্লি পুলিশের একটি চিঠি, যেখানে পরিযায়ী শ্রমিকদের ভাষাকে ‘বাংলাদেশি ভাষা’ বলে উল্লেখ করায় নতুন করে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। যদিও প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে বাংলা বা বাংলাদেশের নাম উচ্চারিত হয়নি, তাঁর বক্তব্যে সীমান্ত-ঘেঁষা এলাকায় অনুপ্রবেশকে কেন্দ্র করে জনবিন্যাস বদলের আশঙ্কাই প্রধান হয়ে উঠেছে।
বিজেপির ধারাবাহিক অবস্থান (PM Modi On Immigrantion)
অনুপ্রবেশ রোখায় বিজেপির অবস্থান নতুন নয়। দীর্ঘদিন ধরেই দলটি বিশেষ করে বাংলাদেশ সীমান্ত-পশ্চিমবঙ্গ করিডরকে অনুপ্রবেশের ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত করে আসছে। প্রধানমন্ত্রী থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ — দলের শীর্ষ নেতৃত্ব বারবার একই ইস্যুতে কড়া অবস্থান জানিয়েছেন। স্বাধীনতা দিবসের মঞ্চ থেকে মোদীর আজকের ঘোষণা সেই ধারাবাহিকতারই সম্প্রসারণ।

আরও পড়ুন : Russia Ukraine War : আলাস্কার বৈঠকে যুদ্ধ বিরতি ইস্যুতে ট্রাম্পের সামনে কোন কোন শর্ত রাখবেন পুতিন?
এগোতে পারে কীভাবে ‘জনবিন্যাস অভিযান’ (PM Modi On Immigrantion)
কেন্দ্রের ঘোষিত নতুন অভিযানের লক্ষ্য— সীমান্ত ও সংবেদনশীল অঞ্চলে জনবিন্যাস বদলের প্রবণতা মানচিত্রে শনাক্ত, তথ্যভিত্তিক নজরদারি এবং প্রশাসনিক সমন্বিত পদক্ষেপের মাধ্যমে আইনি কাঠামোর ভিতর থেকেই মোকাবিলা(PM Modi On Immigrantion)। সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, অগ্রাধিকার হবে জাতীয় নিরাপত্তা, স্থানীয়দের জীবিকা ও সামাজিক শান্তি— একই সুতোয় গাঁথা নীতিতে।
স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে মোদীর ‘জনবিন্যাস অভিযান’ ঘোষণা অনুপ্রবেশ ইস্যুকে নতুন করে জাতীয় এজেন্ডার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে। একদিকে কর্মসংস্থান ও নিরাপত্তার উদ্বেগ, অন্যদিকে মানবিকতা ও অভ্যন্তরীণ রাজনীতির টানাপোড়েন— এই দ্বিমুখী বাস্তবতায় আগামী দিনে কেন্দ্রের পদক্ষেপ কতটা কার্যকর হয়, সেদিকেই এখন নজর।