Last Updated on [modified_date_only] by Debu Das
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: দক্ষিণ আমেরিকার ছোট দ্বীপরাষ্ট্র ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোবাগোর মাটিতে পৌঁছে বার বার বিহারের কথা উচ্চারণ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী(PM Modi)। শুধু কূটনৈতিক সৌজন্য নয়, রাজনৈতিক সমীকরণ ও প্রবাসী ভারতীয়দের আবেগ—সব মিলিয়ে মোদীর সফর ত্রিনিদাদকে যেন এক অনন্য তাৎপর্য দিয়েছে। ত্রিনিদাদে মোদীর এই সফর শুধু আন্তর্জাতিক সম্পর্কের প্রসার নয়, তা ঘিরে রয়েছে ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক এবং রাজনৈতিক তাৎপর্যও। আর তার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বিহার।
বিহার থেকে ত্রিনিদাদ—ঐতিহাসিক যোগ (PM Modi)
ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোবাগো মূলত দুইটি দ্বীপ নিয়ে গঠিত রাষ্ট্র(PM Modi)। জনসংখ্যা প্রায় ১৩ লক্ষ। তার মধ্যে ৪৫ শতাংশই ভারতীয় বংশোদ্ভূত। এঁদের অনেকেই ব্রিটিশ আমলে বিহার ও উত্তরপ্রদেশের ভোজপুরি অঞ্চল থেকে কৃষিশ্রমিক হিসেবে ত্রিনিদাদে আসেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাঁরা স্থানীয় সমাজের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে ওঠেন।
এই ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের উত্তরসূরিদের মধ্যেই রয়েছেন সে দেশের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী কমলা পারসাদ বিশ্বেশ্বর। তাঁর পূর্বপুরুষ রামলখন মিশ্র ১৮৮৯ সালে বিহারের বক্সার থেকে ত্রিনিদাদে আসেন এবং সেখানেই স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন।
মোদীর কূটনৈতিক বার্তা ও বিহার প্রসঙ্গ (PM Modi)
ত্রিনিদাদে প্রবাসী ভারতীয়দের সঙ্গে আলাপচারিতায় মোদী বলেন, “বিহারের ঐতিহ্য কেবল ভারতের নয়, গোটা বিশ্বের গর্ব(PM Modi)। গণতন্ত্র, কূটনীতি, রাজনীতির ক্ষেত্রে বিহার বিশ্বকে পথ দেখিয়েছে।” তিনি কমলা বিশ্বেশ্বরকে ‘বিহারের কন্যা’ বলেও অভিহিত করেন। এমনকি, যেখানে মোদী (Narendra Modi) প্রবাসী ভারতীয়দের সঙ্গে দেখা করেন, সেই স্থানটির নাম পটনা স্ট্রিট—এটিও যেন প্রতীকী তাৎপর্য বহন করে। মোদী বলেন, “ত্রিনিদাদে এসেই নিজের ঘরের মানুষদের মধ্যে ফিরে আসার অনুভূতি হচ্ছে। ভারতের সংস্কৃতি আর মূল্যবোধ এখানকার হৃদয়ে রয়ে গিয়েছে।”

ত্রিনিদাদে মোদীর গণসংযোগ (PM Modi)
পোর্ট অফ স্পেনে নেমে ভোজপুরি লোকগান, ঢোল এবং ভারতীয় সাজপোশাকে সজ্জিত ৩৮ জন মন্ত্রীর অভ্যর্থনা মোদীকে এক ঐতিহ্যবাহী আবহে স্বাগত জানায়(PM Modi)। তিনি তাঁদের সঙ্গে হাসিমুখে কুশল বিনিময় করেন, এবং ভারত-ত্রিনিদাদ সম্পর্ককে আরও মজবুত করার বার্তা দেন।

বিহার নির্বাচন ও ‘রাজনৈতিক অঙ্ক’ (PM Modi)
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, চলতি বছরের শেষ দিকেই বিহারে বিধানসভা নির্বাচন(PM Modi)। সেই প্রেক্ষিতে মোদীর ত্রিনিদাদ সফরে বিহার প্রসঙ্গকে গুরুত্ব দেওয়া নিছক কাকতালীয় নয়। প্রবাসে বিহারি ঐতিহ্য ও গৌরবের প্রচারের মাধ্যমে তিনি দেশের ভিতরেও এক আবেগ তৈরি করতে চাইছেন। প্রবাসী ভারতীয়দের কাছে নিজেকে গর্বের মুখ হিসেবে তুলে ধরার পাশাপাশি দেশে থাকা ভোটারদের কাছেও ‘বিহারি অস্মিতা’র পরিচয় তিনি আরও একবার জোরদার করতে চাইছেন।রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, চলতি বছরের শেষ দিকেই বিহারে বিধানসভা নির্বাচন।
সেই প্রেক্ষিতে মোদীর ত্রিনিদাদ সফরে বিহার প্রসঙ্গকে গুরুত্ব দেওয়া নিছক কাকতালীয় নয়। প্রবাসে বিহারি ঐতিহ্য ও গৌরবের প্রচারের মাধ্যমে তিনি দেশের ভিতরেও এক আবেগ তৈরি করতে চাইছেন। প্রবাসী ভারতীয়দের কাছে নিজেকে গর্বের মুখ হিসেবে তুলে ধরার পাশাপাশি দেশে থাকা ভোটারদের কাছেও ‘বিহারি অস্মিতা’র পরিচয় তিনি আরও একবার জোরদার করতে চাইছেন।

‘পটনা স্ট্রিট’-এর প্রতীকী উপস্থিতি (PM Modi)
ত্রিনিদাদ সফরে মোদী যেন কূটনৈতিক সৌজন্য আর অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বার্তাকে সমান তালে মিলিয়ে দিয়েছেন। তাঁর মুখে বারবার বিহারের প্রসঙ্গ, ভোজপুরি গান, ‘পটনা স্ট্রিট’-এর প্রতীকী উপস্থিতি—সব মিলিয়ে একটি সুপরিকল্পিত বার্তা। আর সেটি হলো—বিহার শুধু ভারতেরই নয়, বিশ্বের গর্ব। আর সেই গর্বকে সামনে রেখেই তিনি এগোচ্ছেন আগামী নির্বাচনের দিকে।