Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: প্রেম বনাম জীবন বড্ড সাধারণ (Purba Bardhaman), তাই নয় কি! পূর্ব বর্ধমান জেলার আউশগ্রাম ২ ব্লকের দেবশালা গ্রাম থেকে কিছুটা দূরে, ঘন জঙ্গলের গভীরে রয়েছে এক অদ্ভুত, রহস্যময় স্থান— প্রেমের সমাধি। দেখতে সাধারণ হলেও, এটি আসলে এক চিরন্তন প্রেমের প্রতীক, যার সঙ্গে জড়িয়ে আছে এক করুণ কিন্তু অবিস্মরণীয় কাহিনি।

নিষিদ্ধ প্রেম (Purba Bardhaman)
লোককথায় শোনা যায়, বহু বছর আগে রাজগড়ে রাজত্ব করতেন এক প্রভাবশালী সামন্ত রাজা। তাঁর ছিল এক অতি সুন্দরী কন্যা। কাকতালীয়ভাবে পাশের গ্রামে বাস করত এক সাধারণ গোয়ালা যুবক— তার গরু চরানো, বাঁশি বাজানো আর সরল হাসি ধীরে ধীরে মুগ্ধ করে রাজকন্যাকে।
দুই ভিন্ন সমাজের দুই তরুণ-তরুণী অজান্তেই প্রেমে জড়িয়ে পড়েন। রাজপ্রাসাদের আভিজাত্য কিংবা সমাজের নিয়ম কিছুই তাঁদের থামাতে পারেনি। কিন্তু সুখ দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। একদিন রাজার দৃষ্টি পড়ে এই সম্পর্কের ওপর। সামন্ত রাজা নিজের মানমর্যাদা আর সমাজের কড়াকড়িকে বড় করে দেখলেন, প্রেমকে নয়।
ফলস্বরূপ, রাজার নির্দেশে এক ভয়ঙ্কর শাস্তি নেমে আসে। নির্মমভাবে হত্যা করা হয় রাজকন্যা ও গোয়ালাকে, এবং দু’জনের দেহ কবর দেওয়া হয় এই ঘন জঙ্গলের মাঝেই।

শালপাতার রহস্যময় প্রথা (Purba Bardhaman)
যখন প্রেমিক-প্রেমিকার প্রাণহীন দেহ মাটিতে ফেলে রাখা হয় (Purba Bardhaman), তখন স্থানীয় গ্রামবাসীরা এগিয়ে আসেন। তাঁরা শালপাতা দিয়ে দেহ ঢেকে দেন, কারণ সেদিন রাজার ভয়ে কেউ খোলাখুলি প্রতিবাদ করতে সাহস পাননি।
এই ঘটনাই কালক্রমে একটি প্রথায় পরিণত হয়েছে। আজও সমাধির সামনে শালপাতা রেখে প্রণাম জানান মানুষ। তাঁদের বিশ্বাস, এই অর্ঘ্য আসলে অমর প্রেমের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন। তাই বছরের পর বছর ধরে শালপাতার মাধ্যমে সেই প্রাচীন করুণ ঘটনার স্মৃতি বেঁচে আছে।

নাগরপোঁতা বা নাগরমারা জঙ্গলের জন্মকথা
প্রবীণদের মতে, সেই ঘটনার পর থেকেই আশেপাশের জঙ্গলটি পরিচিত হয় নাগরপোঁতা বা নাগরমারা জঙ্গল নামে। এই নামের মধ্যেও লুকিয়ে আছে ট্র্যাজেডির স্মৃতি। স্থানীয়রা মনে করেন, এই জঙ্গলে আজও প্রেমিক-প্রেমিকার আত্মা বিরাজ করছে— তাই তাঁদের স্মৃতিকে শ্রদ্ধা জানানোর জন্য ভক্তরা সমাধির সামনে মাথা নত করেন।
অনন্য উৎসব (Purba Bardhaman)
সমাধিটি শুধু ইতিহাস নয়, এটি আজও মানুষের আবেগের কেন্দ্র। প্রতিবছর ভ্যালেন্টাইনস ডে-তে স্থানীয়রা এখানে জড়ো হন। ছোট্ট উৎসব হয়, মোমবাতি জ্বলে, শালপাতা আর ফুলে ভরে ওঠে সমাধি। তাঁদের কাছে এই দিন শুধু পাশ্চাত্যের ভালোবাসার উৎসব নয়, বরং রাজকন্যা ও গোয়ালার আত্মত্যাগকে স্মরণ করার দিন।
পর্যটন কেন্দ্রের সম্ভাবনা
দূরদূরান্ত থেকে মানুষ এখন প্রেমের সমাধি দেখতে আসেন। কেউ আসেন কৌতূহল নিয়ে, কেউ আসেন ভক্তির টানে। অনেকে মনে করেন, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা উচিত। স্থানীয়রা বহুবার প্রশাসনের কাছে দাবি জানিয়েছেন, যাতে জায়গাটিকে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। তবুও সরকারি উদাসীনতার কারণে এটি এখনো অবহেলিত।
আরও পড়ুন: Mosquito: প্রাণ বাঁচাতে মশাকেই অস্ত্র বানাল বিজ্ঞানীরা?
ভালোবাসার চিরন্তন বার্তা
দেবশালার এই সমাধি আমাদের মনে করিয়ে দেয়— সমাজের নিয়ম, রাজসत्ता বা প্রথা যতই কঠোর হোক না কেন, প্রেম কখনো মরে না। প্রেম অমর, অটল, চিরন্তন। শতাব্দীর পর শতাব্দী পার হলেও এই ছোট্ট সমাধি জঙ্গলের বুক চিরে আজও বার্তা ছড়াচ্ছে—