ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল : চলতি মাসে ইরান যে নতুন ক্ষেপণাস্ত্র ‘রাস্তখিজ’ পরীক্ষা করেছে, তা শুধু পশ্চিম এশিয়া নয়, গোটা বিশ্বের সামরিক শক্তির সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করল(Rastakhiz Missile)। প্রচলিত বিস্ফোরক বহন করার পাশাপাশি এতে যুক্ত হয়েছে এক অভিনব প্রযুক্তি— তড়িৎচৌম্বকীয় অস্ত্র (EMP weapon)। এই প্রযুক্তি বিস্ফোরণ ছাড়াই ৫০ কিমি ব্যাসার্ধে বিদ্যুৎ পরিবহণ, স্যাটেলাইট যোগাযোগ এবং সমস্ত ইলেকট্রনিক সিস্টেম অকেজো করতে সক্ষম। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি একেবারে নতুন ধরণের প্রতিরোধী অস্ত্র, যা ভবিষ্যতের যুদ্ধক্ষেত্রকে বদলে দিতে পারে।
ইরানের যুদ্ধ প্রস্তুতির ইঙ্গিত (Rastakhiz Missile)
নতুন সেনাপ্রধান জেনারেল আবদুর রহিম মুসাভির নেতৃত্বে ইরান এখন সর্বশক্তি দিয়ে ইজরায়েলের মোকাবিলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ‘রাস্তখিজ’ পরীক্ষাকে সেই প্রস্তুতিরই অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে(Rastakhiz Missile)। কেবল ক্ষেপণাস্ত্রই নয়, তেহরান ইতিমধ্যেই ১৮০০টি নতুন লঞ্চার তৈরি করেছে, যার মধ্যে ৩০০টি ভারী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণে সক্ষম। এই প্রস্তুতি পশ্চিম এশিয়ায় তীব্র উত্তেজনার ইঙ্গিত বহন করছে।
নৌ মহড়া ও ইলেকট্রনিক যুদ্ধের অনুশীলন (Rastakhiz Missile)
গত সপ্তাহে ওমান উপসাগর ও উত্তর ভারত মহাসাগরে ইরান ‘ইঘতেদার ১৪০৪’ নামে বৃহৎ নৌ মহড়া চালায়(Rastakhiz Missile)। এতে নৌবাহিনী ছাড়াও বিমান বাহিনী এবং বিশেষ ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার ইউনিট অংশ নেয়। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান এবার স্পষ্ট বার্তা দিল— কেবল মিসাইল হামলায় নয়, ইলেকট্রনিক যুদ্ধেও তারা সমান প্রস্তুত।

ইজরায়েল-ইরান দ্বন্দ্বের সাম্প্রতিক প্রেক্ষাপট (Rastakhiz Missile)
প্রসঙ্গত, ১২ জুন রাতে ইজরায়েলি (IDF) যুদ্ধবিমান ইরানের বিভিন্ন শহর ও পরমাণুকেন্দ্রে হামলা চালায়, যার নাম দেওয়া হয় ‘অপারেশন রাইজিং লায়ন’। এর পাল্টা জবাবে ইরানও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে ইজরায়েলে। প্রায় ১২ দিনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হস্তক্ষেপে যুদ্ধবিরতি হলেও পরিস্থিতি শান্ত হয়নি। ২১ জুন গভীর রাতে মার্কিন স্টেলথ বোমারু বিমান ‘বি-২ স্পিরিট’ ইরানের তিন পরমাণুকেন্দ্রে শক্তিশালী জিবিইউ-৫৭ বোমা ফেলেছিল। ওয়াশিংটনের অভিযোগ ছিল, ওই কেন্দ্রগুলিতে গোপনে পরমাণু অস্ত্র তৈরির প্রচেষ্টা চলছিল।
আরও পড়ুন : Russia Ukraine War : কিভে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা রাশিয়ার, ট্রাম্পের শান্তির প্রস্তাবে জল ঢাললেন পুতিন ?
ভবিষ্যতের শঙ্কা (Rastakhiz Missile)
যুদ্ধবিরতির পরে সাময়িক স্বস্তি এলেও ইরানি নেতৃত্বের বক্তব্যে আবারও সংঘর্ষের আশঙ্কা জোরালো হচ্ছে(Rastakhiz Missile)। ইরানের ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ রেজা আরিফ সম্প্রতি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, যে কোনও মুহূর্তে তেহরান-তেল আভিভ দ্বন্দ্ব নতুন করে শুরু হতে পারে। ‘রাস্তখিজ়’-এর মতো ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা এই আশঙ্কাকে আরও উসকে দিয়েছে।
বিশ্ব রাজনীতিতে ইরান সবসময়ই এক বড় কেন্দ্রবিন্দু। ‘রাস্তখিজ’-এর মাধ্যমে ইরান প্রমাণ করল, তারা শুধু প্রচলিত যুদ্ধ নয়, আধুনিক ইলেকট্রনিক যুদ্ধের ময়দানেও শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী। পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি ফিরবে কি না তা ভবিষ্যৎ বলবে, তবে এতটুকু স্পষ্ট— ইরানের এই নতুন ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা গোটা অঞ্চলে শক্তির ভারসাম্য বদলে দিতে বাধ্য।