Last Updated on [modified_date_only] by Debu Das
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: ইস্তানবুলে অনুষ্ঠিত শান্তি আলোচনা আশানুরূপ না হওয়ায় রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে (Russia Ukraine War)। সাম্প্রতিক রুশ ড্রোন হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন সাধারণ নাগরিক, ধ্বংস হয়েছে বহু আবাসন ও পরিকাঠামো। একদিকে চলেছে কথিত শান্তির প্রয়াস, অন্যদিকে ইউক্রেনের উপর চলছে ইতিহাসে নজিরবিহীন আক্রমণ। এই অবস্থায় হস্তক্ষেপে নামছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ব্যাপক আক্রমণে রুশ বাহিনী (Russia Ukraine War)
ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের দাবি, গত ২৪ ঘণ্টায় রাশিয়া ২৭৩টি ড্রোন নিক্ষেপ করেছে ইউক্রেনের বিভিন্ন অঞ্চলে, যা ২০২২ সালে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে সবচেয়ে বড় আকারের ড্রোন হামলা (Russia Ukraine War)। ইউক্রেনও পাল্টা জবাবে ৭৫টি ড্রোন হামলা চালিয়েছে বলে জানায় কিয়েভ। রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রক দাবি করেছে, তারা সমস্ত ইউক্রেনীয় ড্রোন গুলি করে নামিয়েছে।মধ্য কিয়েভ এবং আশপাশের অঞ্চলে প্রবল ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ফলে বহু ঘরবাড়ি, গ্যারাজ, বহুতল ভেঙে পড়েছে বা পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। আজ কিয়েভের গভর্নর মায়কোলা কালাশনিক জানান, এক মহিলার মৃত্যু হয়েছে, আহত হয়েছেন এক শিশু-সহ অন্তত চার জন। ইউক্রেনের বায়ুসেনা জানিয়েছে, শহরের ওপর প্রায় নয় ঘণ্টা ধরে একটানা বিপদ ঘণ্টা বেজেছে।
ইস্তানবুলে শান্তি আলোচনা (Russia Ukraine War)
সুমিতে বড়সড় হামলায় ৯ জনের মৃত্যুর খবর দিয়েছে ইউক্রেন, যখন ইস্তানবুলে শান্তি আলোচনা চলছিল (Russia Ukraine War)। এই অবস্থায় ইউক্রেনের পার্লামেন্টের স্পিকার রুসলান স্টেফানচাক পুতিনকে কটাক্ষ করে লিখেছেন, “এটাই বুঝি শান্তির আন্তরিক প্রয়াস?”এই প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক কূটনীতি সরগরম হয়ে উঠেছে। আগামিকাল রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ফোনে কথা বলবেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে, এই ফোনালাপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং যুদ্ধবিরতির সম্ভাব্য চূড়ান্ত রূপরেখা নিয়েই কথা হতে পারে। ট্রাম্প পরে ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জ়েলেনস্কির সঙ্গেও ফোনে কথা বলবেন।

ইউক্রেনের পাশে থাকার আশ্বাস আমেরিকার (Russia Ukraine War)
ইতিমধ্যে রোমে নতুন পোপ চতুর্দশ লিয়ো-র প্রথম প্রার্থনায় অংশ নিতে গিয়েছেন আমেরিকার ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স এবং বিদেশসচিব মার্কো রুবিয়ো (Russia Ukraine War)। সেখানে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জ়েলেনস্কির (Volodymyr Zelenskyy) সঙ্গে সরাসরি বৈঠক করেছেন তাঁরা। বৈঠকে ইউক্রেনের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছে আমেরিকা। ফ্রান্স, জার্মানি, পোল্যান্ড ও ব্রিটেন—ইউক্রেনের গুরুত্বপূর্ণ মিত্র রাষ্ট্রগুলি পুতিনকে সংযম বজায় রাখার কঠোর বার্তা দিয়েছে। ইউক্রেনের উপর হামলা বাড়লে রাশিয়ার উপর নতুন নিষেধাজ্ঞার হুমকিও দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন।

ক্ষুব্ধ ইউরোপ (Russia Ukraine War)
অন্যদিকে, আলোচনায় রুশ প্রেসিডেন্ট নিজে না গিয়ে দ্বিতীয় সারির প্রতিনিধি দল পাঠানো নিয়েও ক্ষুব্ধ ইউরোপ (Russia Ukraine War)। অনেকেই মনে করছেন, পুতিন আলোচনার মাধ্যমে সময় নষ্ট করছেন, আর সেই ফাঁকে সামরিক চাপে কিয়েভকে নতি স্বীকারে বাধ্য করতে চাইছেন।এখন আন্তর্জাতিক নজর পুতিন-ট্রাম্প ফোনালাপের দিকে। কূটনৈতিক মহলের আশা, যদি কেউ এই যুদ্ধ থামাতে পারেন, তবে হয়তো সেই শক্তি এখন ট্রাম্পের হাতেই।