ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল : ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে রাশিয়ার ব্যাপক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ১৪ জন নিহত এবং ৪৮ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন(Russia Ukraine War)। বৃহস্পতিবার ভোরে সংঘটিত এই হামলা সাম্প্রতিক সময়ে কিয়েভে অন্যতম ভয়াবহ আক্রমণ হিসেবে ধরা হচ্ছে। নিহতদের মধ্যে তিন শিশু রয়েছে বলে জানিয়েছে কিয়েভ শহর প্রশাসন।
কিয়েভে একাধিক স্থানে ধ্বংসযজ্ঞ (Russia Ukraine War)
কিয়েভ শহরের সাতটি জেলায় অন্তত ২০টি স্থানে বিস্ফোরণ হয়েছে(Russia Ukraine War)। শতাধিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, এর মধ্যে একটি শপিং মল ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ডেলিগেশনের কার্যালয়ও রয়েছে। হাজার হাজার কাচ ভেঙে গেছে, ধ্বংসস্তূপ সরাতে দিনভর কাজ করেছেন বাসিন্দারা।
ইউক্রেনের প্রতিরোধ দাবি (Russia Ukraine War)
ইউক্রেনের বিমানবাহিনী জানিয়েছে, রাশিয়া একযোগে ৫৯৮টি ড্রোন ও ডিকয় এবং ৩১টি বিভিন্ন ধরণের ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে(Russia Ukraine War)। তবে ইউক্রেনীয় বাহিনী এর মধ্যে ৫৬৩টি ড্রোন ও ২৬টি ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে প্রতিহত করেছে বলে দাবি করেছে।
রাশিয়ার দাবি (Russia Ukraine War)
রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছে, তারা হাইপারসনিক ‘কিঞ্জাল’ ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও উচ্চ-নির্ভুল বোমা ব্যবহার করেছে এবং সব লক্ষ্যবস্তুতে সফল আঘাত হেনেছে। মন্ত্রণালয়ের দাবি, হামলার মূল লক্ষ্য ছিল ইউক্রেনীয় সামরিক অবকাঠামো, বিমানঘাঁটি ও একটি রিকনাইস্যান্স জাহাজ। এছাড়া পূর্ব ইউক্রেনের নেলিপিভকা গ্রাম দখল করার কথাও রাশিয়া জানিয়েছে।

আরও পড়ুন : SCO Summit In Tianjin :শুল্ক যুদ্ধের মধ্যে জিনপিং ও পুতিনের সঙ্গে মোদির বৈঠক, আলোচনায় থাকছে কী কী বিষয়?
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া (Russia Ukraine War)
হামলার পর ইউরোপীয় কমিশনের সভাপতি উরসুলা ফন ডার লেয়েন রাশিয়ার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, ‘‘রাশিয়াকে বেসামরিক স্থাপনা ধ্বংস বন্ধ করে শান্তি আলোচনায় বসতে হবে।’’ ইউরোপীয় কাউন্সিলের সভাপতি আন্তোনিও কস্তা বলেন, ‘‘এই হামলা প্রমাণ করে ইউক্রেনের পাশে দাঁড়ানো আরও জরুরি।’’
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার জানিয়েছেন, ব্রিটিশ কাউন্সিল ভবনও হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ হামলাকে ‘‘সন্ত্রাস ও বর্বরতা’’ বলে আখ্যা দেন এবং ইউক্রেনের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানান।

জেলেনস্কির বার্তা (Russia Ukraine War)
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, ‘‘রাশিয়া আলোচনার টেবিলের বদলে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র বেছে নিচ্ছে। বিশ্বনেতাদের নীরবতা নয়, দৃঢ় অবস্থান জরুরি।’’ তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলিকে রাশিয়ার বিরুদ্ধে আরও কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানান।
পুতিন ও ট্রাম্পের বৈঠক (Russia Ukraine War)
আক্রমণটি এমন সময় ঘটল যখন আলাস্কায় রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের (Narendra Modi) বৈঠক শেষে শান্তি আলোচনার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনার ঝড় উঠেছিল। তবে হামলার পর পশ্চিমা দেশগুলো অভিযোগ করছে, রাশিয়া শান্তি আলোচনায় সময়ক্ষেপণ করছে এবং যুদ্ধক্ষেত্রে অগ্রসর হওয়ার কৌশল নিচ্ছে।
কিয়েভের সাম্প্রতিক এই হামলা শুধু প্রাণহানি নয়, বরং আন্তর্জাতিক কূটনীতিতেও নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। একদিকে ইউক্রেন পশ্চিমা সমর্থন আরও জোরদার করার আহ্বান জানাচ্ছে, অন্যদিকে রাশিয়া সামরিক শক্তি প্রদর্শনে ব্যস্ত। ফলে যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করছে।