Last Updated on [modified_date_only] by Anustup Roy Barman
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: পাকিস্তানের শীর্ষ রাজনীতিবিদ রানা সানাউল্লাহ (Sanaullah on Brahmos Strike) বলেছেন যে অপারেশন সিঁদুরের সময়, পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর কাছে ভারতীয় ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্র পারমাণবিক কিনা তা নির্ধারণ করার জন্য মাত্র ৩০ থেকে ৪৫ সেকেন্ড সময় ছিল।
অপারেশন সিঁদুরের সময় পরমাণু আশঙ্কায় কাঁপছিল পাকিস্তান (Sanaullah on Brahmos Strike)
পাকিস্তানের শীর্ষস্থানীয় রাজনীতিক এবং প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের ঘনিষ্ঠ সহযোগী রানা সানাউল্লাহ (Sanaullah on Brahmos Strike) স্বীকার করেছেন যে, অপারেশন সিঁদুরের সময় ভারতের ছোড়া ব্রহ্মোস মিসাইল পরমাণু অস্ত্রে সজ্জিত কি না, তা বুঝতে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর হাতে ছিল মাত্র ৩০ থেকে ৪৫ সেকেন্ড সময়। এই বক্তব্য পাকিস্তানি রাজনৈতিক মহলের তরফ থেকে প্রকাশ্যে দেওয়া অন্যতম প্রথম স্বীকারোক্তি, যেখানে চলতি বছরের শুরুতে ভারতের পাল্টা সন্ত্রাসবাদ বিরোধী অভিযানের সময় উপমহাদেশে কী ভয়াবহ টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল, তা স্পষ্ট হয়।
রানা সানাউল্লাহ ‘টাইমস অফ ইন্ডিয়া’ ও পাকিস্তানি এক্স অ্যাকাউন্ট ‘Pakistan Untold’–কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, “যখন ভারত নূর খান এয়ারবেসে ব্রহ্মোস মিসাইল ছোড়ে, তখন পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর হাতে ছিল মাত্র কয়েক সেকেন্ড। বোঝার সময় ছিল না যে সেটি পরমাণু অস্ত্রে সজ্জিত কি না। এটা ছিল ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি।” এই ভিডিও ইতিমধ্যেই ভাইরাল হয়েছে।
পরমাণু যুদ্ধের আশঙ্কা আর নূর খান ঘাঁটিতে হামলা (Sanaullah on Brahmos Strike)
প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের বিশেষ সহকারী রানা সানাউল্লাহ আরও দাবি করেন (Sanaullah on Brahmos Strike), ভারতের ছোঁড়া মিসাইল আঘাত হানে নূর খান এয়ারবেসে। এই ঘাঁটি পাকিস্তান বিমান বাহিনীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, যা রাওয়ালপিন্ডির চকলালা অঞ্চলে অবস্থিত। তিনি বলেন, ব্রহ্মোস মিসাইলটি তখন পারমাণবিক বোমা বহন করছিল না। কিন্তু সেই মুহূর্তে সেই তথ্য নিশ্চিত না হওয়ায় পুরো পাকিস্তান সেনাবাহিনী আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। তৈরি হয়েছিল সম্পূর্ণ পরমাণু যুদ্ধের আশঙ্কা। সানাউল্লাহ বলেন, “আমি বলছি না ভারত ভাল কাজ করেছে পরমাণু অস্ত্র ব্যবহার না করে। কিন্তু তৎক্ষণাৎ যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল, তাতে বিশ্বযুদ্ধ পর্যন্ত শুরু হয়ে যেতে পারত।”
আরও পড়ুন: China Economy : জনসংখ্যা সংকটে চিন, সন্তান জন্মে নগদ ভর্তুকির পথে শি জিনপিং সরকার!
ট্রাম্পের মধ্যস্থতার দাবি, ভারতের অস্বীকার
পাকিস্তানের এই পিএমএল-এন নেতার দাবি, সেই সংকটময় মুহূর্তে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যস্থতার জন্য এগিয়ে এসেছিলেন। সানাউল্লাহর কথায়, “ট্রাম্পের ভূমিকা নিয়ে স্বাধীন তদন্ত হওয়া উচিত।” তবে ভারত বারবার জানিয়েছে, কোনও তৃতীয় পক্ষ এই ঘটনায় যুক্ত ছিল না। বরং পাকিস্তানেরই ডিরেক্টর জেনারেল অফ মিলিটারি অপারেশনস (ডিজিএমও) প্রথম ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ করে উত্তেজনা কমাতে উদ্যোগ নেন।
চরমে পৌঁছায় উত্তেজনা
এই ঘটনার পর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সামরিক ও কূটনৈতিক স্তরে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছিল। পাকিস্তানের রাজনৈতিক স্তর থেকে এই প্রথমবার প্রকাশ্যে স্বীকার করা হলো, কতটা ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল সেই সময়।