Last Updated on [modified_date_only] by Debu Das
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: হাইকোর্টের স্বস্তি শান্তনু সেনের (Santanu Sen Registration Cancel)। অবৈধ বিদেশি ডিগ্রি ব্যবহারের অভিযোগে তৃণমূলের রাজ্যসভার প্রাক্তন সাংসদ তথা চিকিৎসক শান্তনু সেনের লাইসেন্স ২ বছরের জন্য বাতিলের যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল রাজ্য মেডিক্যাল কাউন্সিল, সোমবার তা খারিজ করে দিলেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অমৃতা সিনহা।রেজিস্ট্রেশন বাতিলের যথাযথ কারণ জানানো হয়নি শান্তনু সেনকে।
তাঁর বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ করতে হলে পদ্ধতি মেনে তাঁকে পদক্ষেপের কারণ জানানো উচিত ছিল কাউন্সিলের বলে মন্তব্য হাইকোর্টের। বিচারপতি সিনহা তাঁর নির্দেশে জানিয়েছেন, এটি একটি ‘নন স্পিকিং ক্রিপটিক অর্ডার’। মেডিক্যাল কাউন্সিলকে তদন্ত সংক্রান্ত সমস্ত রিপোর্ট শান্তনু সেনকে আগে পাঠাতে হবে। এবং তাঁর বক্তব্য শুনতে হবে। তারপর সিদ্ধান্ত নিতে হবে কাউন্সিলকে(Santanu Sen Registration Cancel)।
হাইকোর্টে স্বস্তি পেলেন শান্তনু সেন (Santanu Sen Registration Cancel)
হাইকোর্টে (calcutta high court) স্বস্তি পেলেন তৃণমূল নেতা তথা রাজ্যসভার প্রাক্তন সাংসদ ও চিকিৎসক শান্তনু সেন(Santanu Sen Registration Cancel)। সম্প্রতি তাঁর বিরুদ্ধে অবৈধ বিদেশি ডিগ্রি ব্যবহারের অভিযোগে শান্তনু সেনের চিকিৎসক রেজিস্ট্রেশন বাতিলের যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল রাজ্য মেডিক্যাল কাউন্সিল, তা খারিজ করে দিলেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অমৃতা সিনহা। সোমবার মামলার শুনানিতে বিচারপতি অমৃতা সিনহা রাজ্য মেডিক্যাল কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত খারিজ করতে গিয়ে মন্তব্য করেন, রেজিস্ট্রেশন বাতিলের যথাযথ কারণ জানানো হয়নি শান্তনু সেনকে।
তাঁর বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ করতে হলে পদ্ধতি মেনে তাঁকে পদক্ষেপের কারণ জানানো উচিত ছিল কাউন্সিলের। বিচারপতি সিনহা তাঁর নির্দেশে জানিয়েছেন, এটি একটি ‘নন স্পিকিং ক্রিপটিক অর্ডার’। মেডিক্যাল কাউন্সিলকে তদন্ত সংক্রান্ত সমস্ত রিপোর্ট শান্তনু সেনকে আগে পাঠাতে হবে। এবং তাঁর বক্তব্য শুনতে হবে। তারপর সিদ্ধান্ত নিতে হবে কাউন্সিলকে(Santanu Sen Registration Cancel)।
অমৃতা সিনহার এজলাসে শুনানি (Santanu Sen Registration Cancel)
সোমবার বিচারপতি অমৃতা সিনহার এজলাসে এই মামলার শুনানিতে শান্তনু সেনের আইনজীবী বিশ্বরূপ ভট্টাচার্য্য দাবি করেন, শান্তনু সেন গত ২০ বছর ধরে প্র্যাকটিস করছেন। তিনি আইএমএ নির্বাচনেও সফল হয়েছিলেন(Santanu Sen Registration Cancel)। হঠাৎ করেই কোনও কিছু না জানিয়েই রাজ্য মেডিক্যাল কাউন্সিল তাঁর বিরুদ্ধে স্বতঃপ্রণোদিত পদক্ষেপ করে। তিনি অভিযোগ জানাতেই রাজ্য মেডিক্যাল কাউন্সিলের সভাপতি সাংবাদিক সম্মেলন করে হঠাৎ করে তাঁকে ২ বছরের জন্য সাসপেন্ড করার কথা ঘোষণা করেন। শান্তনু সেন আদালতে আরও জানান, এই সিদ্ধান্ত নিয়ে তাঁকে কোনও ফোন করা হয়নি। এমনকি অভিযোগ দায়েরের পরও, কোনও ফোন বা মেল করেও জানানো হয়নি সাসপেন্ড করার কারণ(Santanu Sen Registration Cancel)।

কেন তাঁকে কারণ না জানিয়ে সাসপেন্ড করা হল? (Santanu Sen Registration Cancel)
রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল কিশোর দত্ত আদালতে পাল্টা দাবি করেন, ‘ডিপ্লোমা ফেলোশিপ গ্লাসগো’, একটি সম্মানীয় ডিগ্রি(Santanu Sen Registration Cancel)। তা সাধারণ মানুষের পক্ষে বোঝা সম্ভব নয়। আর ডিপ্লোমা যে কোনও ডিগ্রি নয়, সেটা কীভাবে বোঝা যাবে? সম্পর্কে বক্তব্য শুনে বিচারপতি অমৃতা সিনহা বলেন, ‘রেজিস্ট্রেশন হয়েছে কি হয়নি, সেটা এখানে বিবেচ্য বিষয় নয়। আদালত তা জানতে চায় না। কতজন রোগী চিকিৎসকের ডিগ্রি আর ডিপ্লোমা বোঝেন, আমি তা জানি না। কেন তাঁকে কারণ না জানিয়ে সাসপেন্ড করা হল, এখানে সেটাই সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ। মামলাকারী ছয় বছর ধরে এই ডিপ্লোমা ব্যবহার করছেন। তাহলে এতদিন পর কেন এখন পদক্ষেপ করা হল!’
তারপরই বিচারপতি সিনহা শান্তনু সেনকে রাজ্য কাউন্সিলের দু’বছরের সাসপেনশনের সিদ্ধান্ত খারিজ করে দেন। এবং তিনি রাজ্য মেডিক্যাল কাউন্সিলকে নির্দেশ দেন, আগে তদন্ত সংক্রান্ত সমস্ত তথ্য চিকিৎসক সেনকে জানাতে হবে। তারপরে তাঁর বক্তব্য শুনতে হবে। তারপরই এই ব্যাপারে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে। আদালতের এদিনের নির্দেশের পরে, আর প্র্যাকটিস করতে কোনও অসুবিধা রইল না তৃণমূলের চিকিৎসক নেতা শান্তনু সেনের(Santanu Sen Registration Cancel)।
রাজ্য মেডিক্যাল কাউন্সিলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে হাইকোর্টের দ্বারস্থ
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার রাজ্য মেডিক্যাল কাউন্সিল তৃণমূলের প্রাক্তন কাউন্সিলর তথা রাজ্য সভার প্রাক্তন সাংসদ চিকিৎসক শান্তনু সেনের রেজিস্ট্রেশন বাতিল করে(Santanu Sen Registration Cancel)। রাজ্য মেডিক্যাল কাউন্সিলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন শান্তনু সেন। গত শুক্রবার বিচারপতি অমৃতা সিনহার এজলাসে তিনি মামলা করেন। আরজি কর কাণ্ডের সময় হাসপাতালের তৎকালীন অধ্যক্ষ বর্তমানে জেলবন্দী সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধে মুখ খুলে ছিলেন তিনি। হাসপাতালের একাধিক দুর্নীতি নিয়েও সরব হয়েছিলেন তৃণমূলের এই প্রাক্তন চিকিৎসক নেতা। সেই কারণেই তাঁকে দলের মুখপাত্রের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে দল থেকে সাসপেন্ড করা হয়
পরে তাঁকে শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে দল থেকে সাসপেন্ড করা হয়। সম্প্রতি তাঁর ডাক্তারি রেজিস্ট্রেশনও বাতিল করা হয়(Santanu Sen Registration Cancel)। শান্তনুর বিরুদ্ধে অভিযোগ তিনি রাজ্য মেডিক্যাল কাউন্সিলে রেজিস্ট্রেশন না করিয়েই ‘এফআরসিপি গ্লাসগো’ নামে একটি বিদেশি ডিগ্রি ব্যবহার করছিলেন। গত মাসেই এই নিয়ে শান্তনুকে নোটিস পাঠিয়েছিল কাউন্সিল। গত বৃহস্পতিবার তাঁকে তলবও করা হয়েছিল। তার পরই কাউন্সিল শান্তনুর ডাক্তারি রেজিস্ট্রেশন দু’বছরের জন্য বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেয়। সেই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করেই কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন শান্তনু সেন। তাঁর দাবি, তাঁর ডিগ্রি বৈধ। রেজিস্ট্রেশনের জন্য আবেদনও করেছিলেন। আরটিআই-ও করেছিলেন। কিন্তু তিনি কোনই উত্তর পাননি। অবশেষে আদালতে সোমবার স্বস্তি পেলেন তিনি।