ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, ‘কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে হস্তক্ষেপ করার কোনও প্রয়োজনীয়তা বোধ করছে না আদালত।’ অর্থাৎ ২০১৬ সালের এসএসসিতে ২৬ হাজারের যে নিয়োগ বাতিলের নির্দেশ দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি দেবাংশু বসাকের ডিভিশন বেঞ্চ সেই নির্দেশই বহাল রাখল সুপ্রিম কোর্ট (SC final verdict)। অর্থাৎ ২৫,৭৫৩ জনের চাকরি বাতিল করল সুপ্রিম কোর্ট।
তিন মাসের মধ্যে নতুন নিয়োগ (SC final verdict)
সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, যাঁরা অন্য সরকারি চাকরি ছেড়ে ২০১৬ সালের এসএসসির মাধ্যমে স্কুলের চাকরিতে যোগদান করেছিলেন, তাঁরা চাইলে পুরনো কর্মস্থলে ফিরে যেতে পারবেন। ‘ফ্রেস সিলেকশন’ প্রসেস হবে। এই ‘ফ্রেস সিলেকশন’ প্রসেসের কাজ তিন মাসের মধ্যে শেষ করতে হবে। জানিয়ে দিল শীর্ষ আদালত। ঘোষিত রায়ে বলা হয়েছে, যোগ্য-অযোগ্য বাছাই করা সম্ভব হয়নি।
‘অযোগ্য’দের ফেরত দিতে হবে বেতনের টাকাও (SC final verdict)
হাইকোর্টের নির্দেশ মতো অবৈধ শিক্ষকদের বেতনের টাকা ফেরত দিতে হবে। নতুন করে পরীক্ষায় বসতে পারবেন চাকরিপ্রাপকরা। ২৬ হাজার চাকরি বাতিলের সঙ্গে মানবিক দিক দেখা গেল সর্বোচ্চ আদালতের। বিশেষভাবে সক্ষম চাকরিপ্রার্থী সোমা দাসের চাকরি বহাল থাকছে। এছাড়া যে সমস্ত দৃষ্টিহীন চাকরি প্রাপক ছিলেন তাদের চাকরিও বহাল থাকবে।
২০১৬ সালের এসএসসি-র শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। কলকাতা হাই কোর্ট এই সংক্রান্ত শুনানির পর ২০১৬ সালের সম্পূর্ণ নিয়োগ প্রক্রিয়াই বাতিল করে দিয়েছিল। এর ফলে ২৫,৭৫৩ জনের চাকরি যায়। পশ্চিমবঙ্গ সরকার এই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় (SC final verdict)। গত ১০ ফেব্রুয়ারি শীর্ষ আদালতে শেষ হয়েছিল এই মামলার শুনানি। বুধবার সুপ্রিম কোর্ট যে তালিকা প্রকাশ করে, তাতে বলা হয়েছিল, বৃহস্পতিবার সকালে ২৬ হাজার চাকরি বাতিল মামলার রায় ঘোষণা করা হবে। সেইমতোই ঘোষণা হল রায়।
আরও পড়ুন: আলাদা হল না যোগ্য-অযোগ্য! ‘সুপ্রিম’ রায়ে বাতিল প্রায় ২৬ হাজার চাকরি
বৃহস্পতিবার শীর্ষ আদালতের প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খান্নার পর্যবেক্ষণ, কলকাতা হাই কোর্টের রায়ই ঠিক। গোটা নিয়োগ প্রক্রিয়াই অস্বচ্ছ। বড় মাপের দুর্নীতি হয়েছে (SC final verdict)। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “গোটা নিয়োগ প্রক্রিয়া ভুলে ভরা। তাই কলকাতা হাই কোর্টের রায়ে হস্তক্ষেপে করা উচিত নয়। দাগি চাকরিরতদের চাকরি যাওয়াই উচিত।”