Last Updated on [modified_date_only] by Debu Das
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: রাজধানী দিল্লিতে পথকুকুরের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একের পর এক পদক্ষেপ নিচ্ছে দেশের শীর্ষ আদালত(SC On Stray Dogs)। সোমবার পথকুকুরদের রাজধানী থেকে সরিয়ে স্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। তার একদিনের মাথায় মঙ্গলবার আরও কঠোর নির্দেশিকা জারি করল আদালত। তাতে বলা হয়েছে, আর কোনও অবস্থাতেই খোলা জায়গায় বা উন্মুক্ত ডাস্টবিনে খাবারের উচ্ছিষ্ট ফেলা যাবে না। একইসঙ্গে রাস্তায় কোনও প্রাণীকে সরাসরি খাবার দেওয়াও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
কেন এই সিদ্ধান্ত (SC On Stray Dogs)
সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ, সাম্প্রতিক সময়ে সুপ্রিম কোর্ট কমপ্লেক্স ও আশপাশের এলাকায় বেওয়ারিশ কুকুরের সংখ্যা বিপজ্জনক হারে বেড়েছে(SC On Stray Dogs)। আদালত ভবনের করিডোর থেকে শুরু করে লিফটের ভিতর পর্যন্ত তাদের অবাধ চলাফেরা লক্ষ্য করা গেছে। সাধারণ মানুষ খোলা জায়গায় খাবারের উচ্ছিষ্ট ফেলার কারণে পথকুকুররা সেখানে ভিড় জমাচ্ছে বলে দাবি আদালতের।
আদালতের নির্দেশিকায় স্পষ্ট বলা হয়েছে— এখন থেকে উচ্ছিষ্ট খাবার অবশ্যই ঢেকে রাখা ডাস্টবিনে ফেলতে হবে। খোলা জায়গা বা উন্মুক্ত ডাস্টবিনে খাবার ফেলা যাবে না। কারণ, এই খাবারের গন্ধে শুধু কুকুর নয়, অন্যান্য প্রাণীরাও সেখানে ভিড় করে, যা স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা দুই দিক থেকেই বিপজ্জনক। আবর্জনার স্তূপে প্রাণীদের ঘাঁটাঘাঁটির ফলে সংক্রমণ ছড়াতে পারে, এবং মাঝে মাঝে তারা পথচারীদের আঁচড়ে বা কামড়ে আহত করে।
রোগ ও দুর্ঘটনার আশঙ্কা (SC On Stray Dogs)
সম্প্রতি দিল্লিতে জলাতঙ্কে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর ঘটনা বেড়েছে, যা সরাসরি পথকুকুরের কামড়ের সঙ্গে যুক্ত(SC On Stray Dogs)। এই উদ্বেগজনক পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করেই আদালত জরুরি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। শুধু কামড় বা আঁচড়ের ঝুঁকি নয়, আদালতের মতে, উন্মুক্ত স্থানে খাবারের উচ্ছিষ্ট ফেলার ফলে নগর স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপরও চাপ তৈরি হচ্ছে।

প্রশাসনিক বৈঠক ও পদক্ষেপ (SC On Stray Dogs)
পথকুকুর সমস্যার সমাধান খুঁজতে সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court of India) সম্প্রতি নয়াদিল্লি পুরসভা (এনডিএমসি) ও দিল্লি পুরসভা (এমসিডি)-র শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছে(SC On Stray Dogs)। আদালত স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে বিষয়টি বিচারাধীন করে এবং দ্রুত পদক্ষেপের নির্দেশ দেয়। সোমবারের রায়ে আদালত জানায়— রাজধানী দিল্লি, নয়াদিল্লি পুরসভা ও এমসিডি প্রশাসনকে দ্রুত সমস্ত পথকুকুর ধরে জীবাণুমুক্ত করে স্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে পাঠাতে হবে।
এই প্রক্রিয়ায় প্রাণীদের নির্বীজকরণ, টিকাকরণ ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করা হবে। প্রশাসনকে এমন কেন্দ্র তৈরি করারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেখানে দীর্ঘমেয়াদি যত্ন ও খাবারের ব্যবস্থা থাকবে, যাতে ভবিষ্যতে তারা আবার রাস্তায় ফিরে না আসে।
নতুন নির্দেশিকার প্রভাব (SC On Stray Dogs)
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নির্দেশ দিল্লির জনস্বাস্থ্য ও সুরক্ষায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে(SC On Stray Dogs)। খোলা জায়গায় খাবারের উচ্ছিষ্ট না থাকলে পথকুকুরের জমায়েত কমবে, কামড় বা আঁচড়ের ঝুঁকি হ্রাস পাবে। একইসঙ্গে বর্জ্য ব্যবস্থাপনাও উন্নত হবে।
তবে প্রাণীপ্রেমী সংগঠনগুলির একাংশ এই নির্দেশ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের মতে, হঠাৎ করে রাস্তায় খাবার দেওয়া বন্ধ করলে প্রাণীদের জন্য খাবারের অভাব দেখা দেবে, যা তাদের মধ্যে আগ্রাসন বাড়াতে পারে। আদালতের নির্দেশ কার্যকর করার সময় প্রশাসনের উচিত বিকল্প খাদ্য সরবরাহের ব্যবস্থা রাখা।
আগামী পদক্ষেপ (SC On Stray Dogs)
এমসিডি ও এনডিএমসি সূত্রে জানা গেছে, নির্দেশ কার্যকর করতে বিশেষ টাস্ক ফোর্স গঠন করা হবে(SC On Stray Dogs)। শহরের প্রতিটি এলাকায় আবর্জনা ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করা, উন্মুক্ত ডাস্টবিন ঢেকে ফেলার ব্যবস্থা এবং পথকুকুর ধরার জন্য প্রশিক্ষিত দল মোতায়েন করা হবে।
প্রশাসনের দাবি, পুরো প্রক্রিয়া মানবিকভাবে সম্পন্ন হবে। প্রাণী কল্যাণ বোর্ডের প্রতিনিধিদেরও এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত করা হবে যাতে প্রাণীর প্রতি নির্যাতনের অভিযোগ না ওঠে।
জনসচেতনতার আহ্বান (SC On Stray Dogs)
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকায় শুধু প্রশাসন নয়, সাধারণ নাগরিকদেরও ভূমিকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে(SC On Stray Dogs)। আদালত মনে করে, কেবল সরকারি উদ্যোগ যথেষ্ট নয়— নাগরিকদেরও দায়িত্বশীল হতে হবে। খোলা জায়গায় খাবারের উচ্ছিষ্ট না ফেলা, নিরাপদ ডাস্টবিন ব্যবহার এবং পথকুকুরকে প্রলুব্ধ না করাই সমস্যার দীর্ঘমেয়াদি সমাধান।
রাজধানীর পথকুকুর সমস্যায় সুপ্রিম কোর্টের একের পর এক পদক্ষেপ স্পষ্ট করে দিয়েছে যে জনস্বাস্থ্য ও সুরক্ষার প্রশ্নে কোনও আপস করা হবে না। খাবারের উচ্ছিষ্ট ব্যবস্থাপনায় কড়াকড়ি থেকে শুরু করে আশ্রয়কেন্দ্রে প্রাণী পাঠানো— সব মিলিয়ে রাজধানীকে পথকুকুরমুক্ত ও নিরাপদ রাখার জন্য একযোগে কাজ শুরু হচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, প্রশাসন কত দ্রুত এবং কার্যকরভাবে এই নির্দেশ বাস্তবায়ন করতে পারে।