Last Updated on [modified_date_only] by Debu Das
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: রাজধানী দিল্লির রাস্তাঘাট থেকে অবিলম্বে কয়েক লক্ষ পথকুকুরকে সরিয়ে আশ্রয়কেন্দ্রে পাঠানোর সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর দেশজুড়ে তুমুল বিতর্ক শুরু হয়েছে(SC On Stray Dogs)। মানবিকতা, জনস্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার তর্কে সমাজের নানা মহল বিভক্ত। এই আবহেই প্রধান বিচারপতি বুধবার আদালতে ইঙ্গিত দিয়েছেন, বিষয়টি তিনি নিজে খতিয়ে দেখবেন।
বুধবার একটি পৃথক মামলাকে জরুরি তালিকায় সংযোজনের আবেদন শোনা হচ্ছিল প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে। সেখানেই সরকারের আইনজীবী ও আবেদনকারীর পক্ষের আইনজীবী পথকুকুর-সংক্রান্ত সাম্প্রতিক নির্দেশের প্রসঙ্গ তুললে বেঞ্চ জানান, এ বিষয়ে ইতিমধ্যে অন্য একটি বেঞ্চ নির্দেশ জারি করেছে—দিল্লির রাস্তায় থাকা পথকুকুরদের আশ্রয়কেন্দ্রে স্থানান্তরের কথা বলেই সেই নির্দেশ। প্রধান বিচারপতি জানান, নির্দেশের আইনগত প্রেক্ষাপট ও তার প্রভাব বিচার করে পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে।
একাধিক জনস্বার্থ মামলার নির্দেশ (SC On Stray Dogs)
জানা গেছে, ‘কনফারেন্স ফর হিউম্যান রাইটস (ইন্ডিয়া)’ নামের এক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ২০২৪ সালে সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) আবেদন করে দিল্লি হাইকোর্টের পূর্ববর্তী আদেশকে চ্যালেঞ্জ করে(SC On Stray Dogs)। ২০১৮ সালে এই এনজিওই দিল্লি হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা করেছিল—পথকুকুরের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে নির্বীজকরণ (এবিসি/স্টেরিলাইজেশন) ও টিকাকরণকে প্রাধান্য দিয়ে মানবিক ব্যবস্থাপনা চালুর দাবি জানিয়ে। তবে ২০২৩ সালে হাইকোর্ট কোনও কার্যকর নির্দেশ না দিয়েই মামলাটি নিষ্পত্তি করে। তাতেই ক্ষুব্ধ হয়ে তারা শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয়, যদিও আবেদনটি এখনও নিয়মিত শুনানির তালিকায় ওঠেনি।
বুধবারের শুনানিতে আইনজীবীরা ২০২৪ সালের মে মাসে বিচারপতি জে.কে. মহেশ্বরীর বেঞ্চের এক নির্দেশের কথাও স্মরণ করান—সেখানে বলা হয়েছিল, কর্তৃপক্ষ আইন মেনে পদক্ষেপ নেবে(SC On Stray Dogs)। তবে কোনও পরিস্থিতিতেই নির্বিচারে হত্যার পথ গ্রহণ করা যাবে না। বিচারপতিরা উল্লেখ করেছিলেন, সব জীবের প্রতি করুণা দেখানো সংবিধানের অন্যতম মূল্যবোধ, এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে সেটিই পথনির্দেশক হওয়া উচিত।
লক্ষ পথকুকুর স্থানান্তর কীভাবে সম্ভব? (SC On Stray Dogs)
সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক নির্দেশের পরিপ্রেক্ষিতে দিল্লি পুরসভার কর্তা-ব্যক্তিরা জানান, আশ্রয়কেন্দ্রগুলির পরিকাঠামো, জনবল, চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের সক্ষমতা বাড়ানো না হলে কয়েক লক্ষ পথকুকুর স্বল্প সময়ে স্থানান্তর করা কঠিন(SC On Stray Dogs)। প্রাণিসুরক্ষা সংগঠনগুলির আশঙ্কা, তাড়াহুড়ো করে ‘উচ্ছেদ’ করলে কুকুরদের প্রতি নিষ্ঠুরতা বাড়তে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদে পরিস্থিতি আরও জটিল হবে। অপরদিকে, আবাসন সমিতি ও অভিভাবকদের একাংশের যুক্তি, বেআকস্মিক আক্রমণ, রাস্তার দুর্ঘটনা ও জলাতঙ্ক-ঝুঁকি রোধে দ্রুত ব্যবস্থা প্রয়োজন।

আরও পড়ুন : SC On Stray Dogs : পথকুকুর মুক্তের পর এবার রাজধানীর রাস্তায় খাবার ফেলা নিয়েও সুপ্রিম নির্দেশ
প্রধান বিচারপতির খতিয়ে দেখবেন(SC On Stray Dogs)
বিশেষজ্ঞদের মতে, শহরে পথকুকুর ব্যবস্থাপনার স্থায়ী সমাধান তিনটি স্তম্ভের উপর দাঁড়ায়—ব্যাপক নির্বীজকরণ, নিয়মিত টিকাকরণ এবং সম্প্রদায়ভিত্তিক খাওয়ানো-পরিচর্যার নির্দিষ্ট নীতিমালা(SC On Stray Dogs)। বিচারিক নির্দেশ সেই নীতির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ হলে তবেই দীর্ঘমেয়াদে ফল মিলবে, ‘ধাওয়া করে তাড়া’ দেওয়ার মতো স্বল্পমেয়াদি পদক্ষেপে সমস্যা অন্যত্র সরে যায়, মেটে না।

এখন নজর সুপ্রিম কোর্টের পরবর্তী শুনানি ও প্রধান বিচারপতির পর্যবেক্ষণে(SC On Stray Dogs)। আদালত যদি নির্দেশের কার্যপদ্ধতি, সময়সীমা ও তদারকির রূপরেখা স্পষ্ট করে, তবে দিল্লির প্রশাসন ও প্রাণিসুরক্ষা মহলের মধ্যে একটি কার্যকর সমঝোতার পথ খুলে যেতে পারে—যেখানে শহরবাসীর নিরাপত্তা ও প্রাণীর কল্যাণ, দু’টিই সমান গুরুত্ব পাবে।