Last Updated on [modified_date_only] by Debu Das
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: সুপ্রিম কোর্ট শুক্রবার আগের আদেশ সংশোধন করে বলেছে, রাস্তায় ধরা কুকুরদের ডিওয়ার্মিং, টিকা ও স্টেরিলাইজেশনের পর যে এলাকা থেকে ধরা হয়েছে সেখানেই ছাড়তে হবে(SC On Stray Dogs)। যেসব কুকুর জলাতঙ্কে আক্রান্ত বা স্পষ্ট আগ্রাসী আচরণ করে, তাদের আলাদা আশ্রয়কেন্দ্রে রাখতে হবে এবং আগে টিকা দিতে হবে। একই সঙ্গে সর্বজনীন খাওয়ানো বন্ধ থাকবে, বরং নির্দিষ্ট ফিডিং স্পট তৈরি করবে কর্তৃপক্ষ। আদালত জানায়, বিষয়টি দিল্লি এনসিআর পেরিয়ে সারা দেশে নীতিমালা তৈরির দিকে যাবে।
কেন বদল আগের আদেশ? (SC On Stray Dogs)
জাস্টিস বিক্রম নাথ, সন্দীপ মেহতা ও এন ভি আঞ্জারিয়া সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এই সংশোধিত আদেশ দেয়। আগের আদেশ ছিল যে ধরা কুকুর আর ছাড়বে না এবং আট সপ্তাহে বড় আকারের শেল্টার তৈরি করতে হবে; নতুন আদেশে সেই নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করা হয়েছে, তবে টিকা ও স্টেরিলাইজেশন বাধ্যতামূলক রাখা হয়েছে। আদালত নির্দিষ্ট খাওয়ানোর জায়গা তৈরির নির্দেশও বজায় রেখেছে।
জনস্বার্থ বনাম প্রাণী কল্যাণ ভারসাম্য (SC On Stray Dogs)
আদালত বলেছে, পথকুকুর নিয়ে মানবসুরক্ষার উদ্বেগ বাস্তব; তাই রেবিজ বা উচ্চমাত্রার আক্রমণাত্মক আচরণ ধরা পড়লে সেই কুকুর রাস্তায় ফিরবে না। তবে সাধারণ কুকুরদের স্টেরিলাইজেশন, টিকা ও ডিওয়ার্মিংয়ের পর স্থানীয় এলাকায়ই ছাড়া হলে এলাকা-ভিত্তিক জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ ও রোগপ্রতিরোধ দুইই বজায় থাকে—এই বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতিকে আদালত সমর্থন করেছে।

জনরোষের প্রেক্ষাপট (SC On Stray Dogs)
এ মাসের আগের আদেশে গণধরপাকড় ও স্থায়ীভাবে শেল্টারে রাখার নির্দেশের পর দেশজুড়ে প্রাণীসেবা সংগঠন, স্বেচ্ছাসেবী ও নাগরিকদের তীব্র আপত্তি ওঠে। আশ্রয়কেন্দ্রের সক্ষমতা, খরচ ও প্রাণিকল্যাণের প্রশ্ন সামনে আসে। এই প্রতিবাদের পরেই মামলাটি প্রধান বিচারপতির নির্দেশে নতুন বেঞ্চে আসে এবং শুক্রবার সংশোধিত নির্দেশ জারি হয়।
রাস্তার খাওয়ানো নিয়ে কঠোরতা(SC On Stray Dogs)
পাবলিক প্লেসে কুকুর খাওয়ানো এখন থেকে চলবে না; প্রতিটি ওয়ার্ডে নির্দিষ্ট খাওয়ানোর জোন তৈরি করবে পুরসভা। নিয়ম ভাঙলে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলেছে আদালত। একই সঙ্গে যে কেউ চাইলে আইন মেনে কুকুর দত্তক নিতে পারবেন, তবে পরে রাস্তায় ফেরত দিলে তার দায় থাকবে দত্তকগ্রহণকারীরই।

আরও পড়ুন : Delhi Police Commissioner : মুখ্যমন্ত্রী হামলার পরই বদলি দিল্লির পুলিশ কমিশনার
মামলার বিস্তৃতি, আর্থিক শর্ত(SC On Stray Dogs)
আদালত জানিয়েছে, সারা দেশের অনুরূপ মামলাগুলি নিজের আওতায় এনে একীভূত জাতীয় নীতি করবে। হস্তক্ষেপকারী ব্যক্তি-পিটিশনারদের ২৫ হাজার টাকা ও এনজিওদের ২ লাখ টাকা করে জমা দিতে বলেছে বেঞ্চ, যাতে শুনানি শৃঙ্খলায় থাকে এবং দায়িত্ববোধ নিশ্চিত হয়।
পরিসংখ্যান কী বলছে(SC On Stray Dogs)
সুপ্রিম কোর্টে উপস্থাপিত সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশে কুকুর-কামড়ে ৩৭ লক্ষাধিক ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে; দিল্লিতে ২০২৪ সালে ২৫ হাজারের বেশি এবং ২০২৫ সালের জানুয়ারিতেই ৩ হাজারের বেশি ঘটনা ধরা পড়ে(SC On Stray Dogs)। এই প্রেক্ষাপটেই আদালত আগের কঠোর নির্দেশ দিয়েছিল, যা আজ বিজ্ঞানসম্মতভাবে সংশোধিত হলো।

আদালতের নির্দেশ, ধরা-কুকুরদের বাধ্যতামূলক স্টেরিলাইজেশন, টিকা ও ডিওয়ার্মিং চলবে; রেবিজ বা আগ্রাসী আচরণের ক্ষেত্রে আলাদা শেল্টারেই থাকতে হবে। পাশাপাশি নির্দিষ্ট ফিডিং জোন, আশ্রয়কেন্দ্রের ন্যূনতম মানদণ্ড, ট্র্যাকিং রেকর্ড ও প্যান-ইন্ডিয়া নীতিমালার খসড়া—সবই এখন নজরে। বিশেষজ্ঞ ও প্রাণীহিতৈষীরা বলছেন, ক্যাচ-নিউটার-রিলিজ মডেল বাস্তবায়নই দীর্ঘমেয়াদে টেকসই সমাধান দিতে পারে, শর্ত একটাই—শহরজুড়ে সমন্বিত ও ধারাবাহিক প্রয়াস।