Last Updated on [modified_date_only] by Sumana Bera
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: রাজ্যে জয়েন্ট এন্ট্রান্স পরীক্ষার (Joint Entrance Exam) মেধা তালিকা প্রকাশ নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশের উপর স্থগিতাদেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি বিআর গবাইয়ের বেঞ্চ এই নির্দেশ দিল। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের ফলে রাজ্যের জয়েন্ট এন্ট্রান্স পরীক্ষার ফলপ্রকাশে আপাতত কোনও বাধা রইল না।
উল্লেখ্য, রাজ্যের জয়েন্ট এন্ট্রান্সের ফলাফল (Joint Entrance Exam) প্রকাশ নিয়ে গতকাল অর্থাৎ বৃহস্পতিবার কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি কৌশিক চন্দর সিঙ্গল বেঞ্চের নির্দেশের উপর আপাতত হস্তক্ষেপ করবে না বলে জানিয়ে দেন বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি স্মিতা দাস দে-র ডিভিশন বেঞ্চ। ডিভিশন বেঞ্চের যুক্তি ছিল, সিঙ্গল বেঞ্চ ইতিমধ্যেই ফল প্রকাশের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে। একইসঙ্গে বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টেও বিচারাধীন। তাই আপাতত কোনও নির্দেশ দিচ্ছে না ডিভিশন।
জয়েন্টের ফল প্রকাশের দাবিতে হাইকোর্টে দায়ের হওয়া অন্য একটি জনস্বার্থ মামলাও ডিভিশন বেঞ্চে ওঠে। কিন্তু সিঙ্গল বেঞ্চের নির্দেশ বহাল থাকায় তাতে কোনও রদবদল আনেনি ডিভিশন বেঞ্চ। রাজ্যের আইনজীবী অবশ্য আদালতে জানান, তাঁরা শুক্রবারই সুপ্রিম কোর্টে জয়েন্টের ফল সংক্রান্ত বিষয়টি উত্থাপন করবেন।
হাইকোর্টের নির্দেশ (Joint Entrance Exam)
প্রথমে রাজ্যের জয়েন্ট এন্ট্রান্স বোর্ডের (Joint Entrance Exam) ফল প্রকাশের তারিখ ধার্য হয়েছিল গত ৭ আগস্ট। কিন্তু ওই দিন জয়েন্ট এন্ট্রান্স বোর্ডের মেধাতালিকা প্রকাশের আগেই তা বাতিল করে দিয়ে নতুন করে মেধা তালিকা তৈরির নির্দেশ দেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি কৌশিক চন্দ। ওবিসি সংক্রান্ত পুরনো বিধি মেনেই প্রকাশ করতে হবে মেধাতালিকা। নতুন ওবিসি তালিকা মেনে মেধাতালিকা প্রকাশ করা যাবে না। ২০১০ সালের আগে ইস্যু হওয়া ওবিসি শংসাপত্রের ভিত্তিতে অর্থাৎ ৬৬টি ওবিসি জনজাতির তালিকার ভিত্তিতেই তৈরি করতে হবে নতুন মেধা তালিকা।
পুরনো বিধি মেনে ওবিসি পড়ুয়াদের জন্য ৭ শতাংশ আসন সংরক্ষণই করতে হবে। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে জয়েন্ট এন্ট্রান্স বোর্ডকে আদালতের এই নির্দেশ কার্যকর করতে হবে বলে নির্দেশ দেন বিচারপতি কৌশিক চন্দর সিঙ্গেল বেঞ্চ। নির্দেশ কার্যকরের ১৫ দিনের মধ্যে আদালতে হলফনামা দিতে হবে বোর্ডের সিনিয়র স্পেশ্যাল সেক্রেটারি পদমর্যাদার কোনও আধিকারিককে। এবং আদালতের এই রায় রাজ্যের মুখ্য সচিবকে জানাতে হবে বলেও নির্দেশে জানিয়েছিলেন বিচারপতি চন্দ। সেই সিদ্ধান্তকেই চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় রাজ্য।
‘সুপ্রিম’ স্থগিতাদেশ (Joint Entrance Exam)
সুপ্রিম কোর্টে ওবিসি শংসাপত্র সংক্রান্ত মামলার শুনানি চলছে। সেই মামলার সঙ্গেই জয়েন্টের (Joint Entrance Exam) ফলপ্রকাশ সংক্রান্ত মামলাটি জুড়ে রয়েছে। এদিন রাজ্যের তরফে জয়েন্টের ফল প্রকাশ সংক্রান্ত বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে এই নিয়ে শুনানি হয়।সুপ্রিম কোর্টে শুক্রবার সেই মামলার শুনানিতেই রাজ্যের আইনজীবী কপিল সিব্বল এবং কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় হাইকোর্টের নির্দেশ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। হাইকোর্টের নির্দেশকে, ‘অবিশ্বাসযোগ্য’ বলে দাবি করেন তাঁরা। তাঁরা প্রশ্ন তোলেন, ‘স্বতঃপ্রণোদিত পদক্ষেপ করে নির্দেশ দিয়েছে সিঙ্গল বেঞ্চ। কী ভাবে এটা করা যায়?’

আরও পড়ুন:WB Weather Update: আবার ঘনাচ্ছে কালো মেঘ, বৃষ্টি নামবে ঝেঁপে!
কপিল সিব্বল বলেন, ‘কলকাতা হাইকোর্ট সুপ্রিম কোর্টের কোনও রায়ই মানছে না। যা ইচ্ছা নির্দেশ দিচ্ছে।’ সেই শুনে বিস্মিত হয়ে প্রধান বিচারপতি গবাইও বলেন, ‘আমরাও কী বলব, তা বুঝতে পারছি না!’ তারপরই হাইকোর্টের নির্দেশের উপর স্থগিতাদেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। ওবিসি শংসাপত্র সংক্রান্ত মূল মামলার শুনানি হবে আগামী সোমবার। ওবিসি সংক্রান্ত সমস্ত মামলা একসঙ্গে যুক্ত করারও নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি বিআর গবাই।