ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল : মাওবাদী উপদ্রুত ছত্তীসগড়ের বস্তার অঞ্চলে ফের রক্ত ঝরল এক নিরপরাধ শিক্ষকের(Maoist Attack)। শিক্ষার আলো গ্রামে গ্রামে ছড়িয়ে দিতে প্রাণপাত করা সেই শিক্ষককে ‘পুলিশের চর’ তকমা দিয়ে নৃশংসভাবে খুন করল মাওবাদী জঙ্গিরা। নিহতের নাম লক্ষ্মণ বরসে, সুকমা জেলার সিলগার গ্রামের বাসিন্দা।
গণআদালতে মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা (Maoist Attack)
পুলিশ সূত্রে খবর, গভীর রাতে লক্ষ্মণের বাড়িতে হামলা চালায় সিপিআই (মাওবাদী)-র সশস্ত্র বাহিনী পিএলজিএ (পিপলস লিবারেশন গেরিলা আর্মি)-র সদস্যরা(Maoist Attack)। পরিবারের সদস্যরা বাধা দিলে তাঁদেরও মারধর করা হয়। এরপর লক্ষ্মণকে টেনে নিয়ে গিয়ে তথাকথিত গণআদালতে হাজির করা হয়। সেখানে তাঁকে ‘পুলিশের চর’ আখ্যা দিয়ে মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করা হয়। নির্মমভাবে পিটিয়ে এবং কুপিয়ে শেষ করে দেওয়া হয় তাঁর জীবন।
শিক্ষার দূত থেকে মাওবাদীদের নিশানায় (Maoist Attack)
লক্ষ্মণ বরসে ছিলেন ছত্তীসগঢ় সরকারের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগকৃত এক শিক্ষাদূত(Maoist Attack)। তাঁর মূল দায়িত্ব ছিল প্রত্যন্ত আদিবাসী গ্রামগুলিতে গিয়ে শিশুদের সরকারি স্কুলে ভর্তি করানো এবং তাদের পড়াশোনার সঙ্গে যুক্ত রাখা। আদিবাসী পরিবারগুলির কাছে তিনি ছিলেন আশার আলো। কিন্তু শিক্ষার এই প্রচেষ্টা মাওবাদীদের চোখে সন্দেহজনক হয়ে ওঠায় তাঁকে প্রাণ হারাতে হল।

বাড়ছে শিক্ষাদূত হত্যার ঘটনা (Maoist Attack)
বস্তারের জঙ্গলে চলতি এক বছরে নিরাপত্তা বাহিনীর (INDIAN ARMY) ধারাবাহিক অভিযানে মাওবাদীরা ক্রমশ কোণঠাসা হয়ে পড়ছে। এরই জেরে বেড়েছে শিক্ষক ও শিক্ষাদূত হত্যার ঘটনা।
- ১৪ জুলাই সুকমার পার্শ্ববর্তী বিজাপুর জেলায় একইভাবে দুই শিক্ষাদূতকে হত্যা করা হয়।
- ১৯ ফেব্রুয়ারি দান্তেওয়াড়া জেলায় মাওবাদীদের হাতে খুন হন এক শিক্ষাদূত-সহ দুই জন।
- গত বছরের সেপ্টেম্বরে সুকমা জেলায় দুড়হী অর্জুন নামে আরও এক শিক্ষাদূতকে হত্যা করেছিল মাওবাদীরা।
এই ধারাবাহিক ঘটনার ফলে শিক্ষা প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি হয়েছে বড় প্রশ্নচিহ্ন।

আরও পড়ুন : Russia Ukraine War : কিভে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা রাশিয়ার, ট্রাম্পের শান্তির প্রস্তাবে জল ঢাললেন পুতিন ?
প্রশাসনের উদ্বেগ বাড়ছে (Maoist Attack)
শিক্ষাদূতদের মূল লক্ষ্য ছিল দুর্গম অঞ্চলে শিক্ষা পৌঁছে দেওয়া(Maoist Attack)। কিন্তু মাওবাদীদের ভয়ে এখন অনেক শিক্ষকই কাজ করতে ভয় পাচ্ছেন। প্রশাসনের আশঙ্কা, যদি এই হত্যার প্রবণতা চলতেই থাকে, তবে শিক্ষা থেকে আরও পিছিয়ে পড়বে বস্তারের প্রান্তিক শিশু-কিশোরেরা।
অন্ধকারে বস্তারের ভবিষ্যৎ
আদিবাসী শিশুদের জন্য শিক্ষা মানে উন্নয়নের প্রথম ধাপ। আর সেই স্বপ্নই বারবার ভেঙে দিচ্ছে মাওবাদী সন্ত্রাস। সমাজকর্মী ও শিক্ষা আন্দোলনের সঙ্গে যুক্তরা বলছেন, শিক্ষাদূতদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে এই উদ্যোগ ভেস্তে যাবে। প্রশ্ন উঠছে— যে অঞ্চলে শিক্ষার জন্য প্রাণ দিতে হয়, সেখানে আলো ফিরবে কীভাবে?