Last Updated on [modified_date_only] by Ananya Dey
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল : চিহ্নিত অযোগ্যদের বাদ দিয়েই নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার কলকাতা হাইকোর্টের (calcutta high court) সিঙ্গেল বেঞ্চের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে এবার ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হল রাজ্য এবং স্কুল সার্ভিস কমিশন। মামলা দায়েরের অনুমতি বিচারপতি সৌমেন সেনের ডিভিশন বেঞ্চের। আগামীকাল, বুধবার শুনানির সম্ভাবনা।
সিঙ্গেল বেঞ্চের রায় (calcutta high court)
গতকালই কলকাতা হাইকোর্টের (calcutta high court) বিচারপতির সৌগত ভট্টাচার্য্য নির্দেশ দিয়েছিলেন নির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত দাগী অযোগ্যদের বাদ দিয়েই এসএসসি’র নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া করতে হবে। চিহ্নিত অযোগ্যরা নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারবেন না। ইতিমধ্যেই যদি কোনও চিহ্নিত অযোগ্য প্রার্থী নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আবেদন করেন, তাহলে অবিলম্বে তাঁদের আবেদন বাতিল করতে হবে। সোমবার মামলার শুনানিতে অযোগ্যদের নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার পক্ষে জোর সওয়াল করেছিলেন রাজ্যের আইনজীবী এবং স্কুল সার্ভিস কমিশনের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু কলকাতা হাইকোর্টের সিঙ্গেল বেঞ্চ অযোগ্যদের বাদ দিয়েই সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করার নির্দেশ দেন। নির্দেশে বলা হয়, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনেই নিয়োগপ্রক্রিয়া শেষ করতে হবে। গত ৩০ মে যে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছিল এসএসসি, তাকে সামনে রেখেই নিয়োগপ্রক্রিয়া চালিয়ে নিয়ে যাওয়া যাবে। বিজ্ঞপ্তির বাকি অংশ নিয়ে আদালত হস্তক্ষেপ করেনি।
সিঙ্গেল বেঞ্চের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ (calcutta high court)
বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য্যের সিঙ্গেল বেঞ্চের এই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করেই এবার ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হল রাজ্য এবং স্কুল সার্ভিস কমিশন (calcutta high court)। মঙ্গলবার বিচারপতি সৌমেন সেন এবং বিচারপতি স্মিতা দে’র ডিভিশন বেঞ্চে সিঙ্গেল বেঞ্চের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে মামলা দায়ের করল রাজ্য ও কমিশন। মামলা দায়েরের অনুমতি দিয়েছেন বিচারপতি সেনের ডিভিশন বেঞ্চ। বুধবার এই আবেদনের শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে (calcutta high court)। মঙ্গলবার সকালেই বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য্যের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে বিচারপতি সেনের ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হয়েছেন বঞ্চিত চাকরি প্রার্থীদের একাংশ। আগামীকাল তাদেরও দায়ের করা মামলার শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে ডিভিশন বেঞ্চে। এবার রাজ্য এবং কমিশনও ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হল।
সুপ্রিম নির্দেশ অমান্যের অভিযোগ
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ২০১৬ সালের এসএসসি’র ২৫ হাজার ৭৫৩ জনের চাকরি বাতিল হয়। চিহ্নিত অযোগ্যদের বাদ দিয়ে যোগ্য প্রার্থীদের নিয়ে নতুন করে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করার নির্দেশ দেয় সুপ্রিম কোর্ট। আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার ডেডলাইনও বেঁধে দেয় সুপ্রিম কোর্ট। সেইমতো গত ৩০ মে নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ার বিজ্ঞপ্তি ও রুল জারি করে এসএসসি ও রাজ্য শিক্ষা দফতর। কিন্তু চাকরিহারা ও বঞ্চিত চাকরিপ্রার্থীদের একাংশ অভিযোগ তোলে, নতুন বিজ্ঞপ্তিতে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অমান্য করা হয়েছে।২০১৬ সালের চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে থেকেই নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া করার নির্দেশ রয়েছে। কিন্তু এই ক্ষেত্রে তা মানা হয়নি। এবং ২০১৬ সালের রুল মেনেই নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া করার আবেদন জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন তাঁরা।পাশাপাশি বয়সের ছাড়ের বিষয়টিও সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে করা হয়নি। সেই মামলায় সোমবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য্য নির্দেশ দেন নির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত অযোগ্য ও দাগিদের বাদ দিয়ে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে এই নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারবেন না চিহ্নিত অযোগ্যরা। যদি কোনও চিহ্নিত অযোগ্য প্রার্থী নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আবেদন করেন, অবিলম্বে তাঁর আবেদন বাতিল করতে হবে।
‘অযোগ্য’ চাকরিপ্রার্থীদের নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের সওয়াল
সোমবারের শুনানিতে কমিশনের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং রাজ্যের আইনজীবী অযোগ্য চাকরিপ্রার্থীদের নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বসার পক্ষে জোড় সওয়াল করেন। কমিশনের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আদালতে দাবি করেন, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে কোথাও বলা নেই যে অযোগ্যরা নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারবেন না। পাশাপাশি রাজ্য ও কমিশনার আইনজীবী আরও যুক্তি দেন, চিহ্নিত অযোগ্য চাকরিপ্রার্থীদের চাকরি যাওয়ার পাশাপাশি সুপ্রিম কোর্ট বেতন ফেরত দেওয়া নির্দেশ দিয়েছে। তারপরও তাদের নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া অংশ নিতে না দেওয়াটা আরও এক শাস্তি। একই অপরাধের জন্য কাউকে দু’বার শাস্তি দেওয়া যায় না। শুধু তাই নয়, কমিশনের আইনজীবী আদালতে দাবি করেন, যদি অযোগ্যদের নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বসতে দেওয়া না হয় তাহলে ২০১৬ সালের পরীক্ষায় যাঁরা সফল হতে পারেননি, তাঁদেরও নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বসতে দেওয়া যাবে না।
আরও পড়ুন : Mafiaraj in Tollywood: টলিউডে মাফিয়ারাজ! বিশ্বাসের আড়ালেই অবিশ্বাসের কালো ছায়া
‘ কমিশনের কাছ থেকে এই ব্যাখ্যা প্রত্যাশিত নয় ‘
কমিশনের এই বক্তব্য শুনে রীতিমত অসন্তুষ্ট হন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য্য। বিচারপতি বলেন, ‘কমিশনের কাছ থেকে এই ব্যাখ্যা প্রত্যাশিত নয়।’ তারপরই বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য্য অযোগ্যদের বাদ দিয়েই সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূ করার নির্দেশ দেন। সিঙ্গেল বেঞ্চের সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করেই এবার ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হল রাজ্য এবং কমিশন।