ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: রামনবমী উদযাপন ঘিরে রাজনৈতিক স্তরে তরজা (TMC-BJP Conflicts) অবশ্য অব্যাহত। এ দিন সেই সঙ্গেই যুক্ত হয়েছে সংসদে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রস্তাবিত ওয়াকফ বিল। রাজ্যে একাধিক জায়গায় তৃণমূলেরই একাংশও রামনবমী উদাযপনে নেমে পড়েছে। এই তরজার সঙ্গে এ দিন যুক্ত হয়েছে ওয়াকফ সম্পত্তি সংক্রান্ত কেন্দ্রীয় আইনের প্রস্তাব। সংসদে তো বটেই, বাইরেও বিলের বিরোধিতায় একসুর কংগ্রেস, তৃণমূল ও বামেরা। এই বিষয়টি ঘিরে জল্পনার শেষ নেই বিরোধীমহলে।
‘মানবিক হোন, দানবিক হবেন না’ (TMC-BJP Conflicts)
মমতা বলেন, “এরা যে রামনবমীতে মিছিল করে, আমাদের অনেকেও রামনবমীতে মিছিল করেন, আপত্তি নেই আমাদের। আমরা শুধু চাই শান্তিপূর্ণ হোক। এখন যেটা চৈত্র মাসে হয়, সেটাই ছিল। কিন্তু রাবণকে ধ্বংস করতে রামচন্দ্র যখন অকাল বোধন করেন যখন, সেটাকেই আসল দুর্গাপুজো হিসেবে পালন করি আমরা। এটাও পালন করি, কিন্তু ওভাবে নয়। সবাই সবার মতো করে নবরাত্রি পালন করবে, পুজো করবে, এটাই ধর্ম। শরতে শিউলি, কাশফুল ভাসে। আমরা করিনি, রামচন্দ্র করেছিলেন। সেটা কি রামনবমী নয়? সেটা কি আপনাদের মনে পড়ে না। রামচন্দ্র ১০৭টা ফুল দিয়ে একটা বাকি ছিল বলে নিজের চোখ দিতে গিয়েছিলেন। ইতিহাসটা জানুন। ইতিহাসের এটাই শিক্ষা। কর্ম মানেই ধর্ম, ধর্ম মানে কর্ম। মানবিক হোন, দানবিক হবেন না দয়া করে।”
‘আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে’ (TMC-BJP Conflicts)
বুধবার মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে। উৎসব হতে হবে উৎসবের মতো।’’ সেই সঙ্গে ফের একবার অশান্তির পরিকল্পনা করার অভিযোগে গেরুয়া শিবিরকে নিশানা করেছেন তিনি। অন্যদিকে, বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী পাল্টা বলেন, ‘‘উনি নিজের লোকেদের সামলে রাখুন। আমরা কিছু করব না।’’ এ দিন বিজেপি অফিস থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত মিছিল শুরুর আগে তিনি বলেন, ‘‘শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জন্য আমরা বাংলায় থাকতে পারছি। ‘বন্দে মাতরম্’ ধ্বনি তুলতে পারছি, ধুতি পরতে পারছি, মা-বোনেরা শাখা-সিঁদুর পরতে পারছেন। এই মাটিকে বাঁচানোর দায়িত্ব আমাদের।’’ তারপরই তাঁর আহ্বান, ‘‘আগে বলেছিলাম, এক কোটি হিন্দু রাস্তায় নামবেন। এখন বলছি, দেড় কোটি হিন্দু রাস্তায় নামবেন। কেউ বাড়িতে থাকবেন না। রামনবমীর দিন শক্তি দেখাবেন তো?’’
আরও পড়ুন: Suvendu Adhikari: পাঁচ দিন ধরে রাজ্য় জুড়ে শুভেন্দুর রামনবমীর কর্মসূচি, ভবানীপুরেও আমন্ত্রণ নেতার!
‘ওয়াকফ সম্পত্তি ওঁরা মেরে খাচ্ছেন’
ওয়াকফ বিল সম্পর্কে মুখ্যমন্ত্রী এ দিন বলেন, ‘‘সংসদে আমাদের সাংসদরা বিরোধিতা করছেন। ওরা সব কিছুতেই বিভাজন করে। আমরা তা চাই না।’’ পাল্টা রাজ্যের এক মন্ত্রীর নাম করে শুভেন্দু’র অভিযোগ, ‘‘এখানে ওয়াকফ সম্পত্তি ওঁরা মেরে খাচ্ছেন। তাই এই বিরোধিতা।’’ কেন্দ্রের ওয়াকফ বিলের বিরোধিতা করে মাদুরাইয়ে দলের পার্টি কংগ্রেসে নির্দিষ্ট প্রস্তবনা নিচ্ছে সিপিএম। প্রদেশ কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি অধীর চৌধুরী বলেন, ‘‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর দল সুকৌশলে বিজেপিকে বেশি করে প্রাসঙ্গিক করে দিচ্ছেন, যাতে ধর্মনিরপেক্ষ দল হিসেবে কংগ্রেস-বামের সঙ্কট বাড়ে। কেউ রামনবমীর মিছিল করতেই পারে, প্রশাসনকে দায়িত্ব দেওয়া হোক যাতে কোনও গন্ডগোল না হয়।’’