Last Updated on [modified_date_only] by Debu Das
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: চিন-ভারত সীমান্ত উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে, লাদাখের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা (LAC) বরাবর একটি নতুন রেলপ্রকল্প শুরু করতে চলেছে বেজিং(Tibet Railway Project)। জিনজিয়াং থেকে তিব্বত পর্যন্ত এই রেললাইন তৈরির কাজের পরিকল্পনা ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে, যা ভারতীয় নিরাপত্তা মহলে গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট জানিয়েছে, নতুন এই রেললাইন হোতান শহরকে তিব্বতের রাজধানী লাসার সঙ্গে সংযুক্ত করবে এবং পথিমধ্যে লাসা-শিগাৎসে রেললাইনের সঙ্গে যুক্ত হবে।
কৌশলগত অবস্থান (Tibet Railway Project)
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই রেললাইন সরাসরি চিনের উত্তর-পশ্চিম প্রদেশ জিনজিয়াংয়ের সঙ্গে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল তিব্বতকে যুক্ত করবে(Tibet Railway Project)। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই রেললাইন প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখার খুব কাছ দিয়ে যাবে, যা ভারতের জন্য কৌশলগত দিক থেকে সংবেদনশীল। তাছাড়া, নতুন রেলপথ সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৪,৫০০ মিটার উচ্চতায় নির্মিত হবে, যা বিশ্বের অন্যতম উচ্চতম রেললাইন হিসেবে পরিচিত হতে পারে।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট (Tibet Railway Project)
২০০৬ সালে প্রথমবার লাসাকে চিনের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে রেলপথে যুক্ত করা হয়। তারপর থেকে চিন ধাপে ধাপে তিব্বতের রেল সংযোগ সম্প্রসারণ করছে। এবার তারা হোতান-লাসা সংযোগ স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে, যা আকসাই চিনের মধ্য দিয়ে যাবে। উল্লেখযোগ্য যে, আকসাই চিন অঞ্চল নিয়ে ভারত ও চিনের দীর্ঘদিনের সীমান্ত বিরোধ রয়েছে।
সামরিক প্রভাব (Tibet Railway Project)
প্রস্তাবিত এই রেলপথ কার্যকর হলে চিন সীমান্তে দ্রুত অস্ত্র ও সেনা মোতায়েন করতে পারবে(Tibet Railway Project)। বিশেষজ্ঞদের মতে, উচ্চভূমি অঞ্চলে সড়কপথের তুলনায় রেলপথে বড় পরিসরে সরঞ্জাম পরিবহন অনেক বেশি দ্রুত এবং নির্ভরযোগ্য। ফলে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে এই রেললাইন বেজিংয়ের জন্য বিশাল কৌশলগত সুবিধা এনে দিতে পারে।

আরও পড়ুন : SC On Stray Dogs : পথকুকুর মুক্তের পর এবার রাজধানীর রাস্তায় খাবার ফেলা নিয়েও সুপ্রিম নির্দেশ
ভারতের প্রতিক্রিয়া (Tibet Railway Project)
নয়াদিল্লি ইতিমধ্যেই প্রকল্পটির উপর কড়া নজর রাখছে(Tibet Railway Project)। সরকারি সূত্রে জানা গেছে, ভারতীয় সেনা (INDIAN ARMY) ও কূটনৈতিক মহল এই রেললাইন নির্মাণের নিরাপত্তাজনিত প্রভাব নিয়ে সমীক্ষা চালাচ্ছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে গালওয়ান সংঘর্ষের পর থেকে ভারত সীমান্তে অবকাঠামো উন্নয়ন জোরদার করেছে। সড়ক, সেতু এবং এয়ারস্ট্রিপ নির্মাণের পাশাপাশি ভারতও কয়েকটি রেলপথ প্রকল্পের কাজ দ্রুত করছে, যা সীমান্তবর্তী এলাকায় সরবরাহ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করবে।
আরও পড়ুন : Gaza Journalist Killed : ছেলে প্রথম গাজার ছবি তুলে ধরায় খুশি হয়েছিলেন নিহত সাংবাদিক আনাস আল-শরীফের বাবা
ভূ-রাজনৈতিক বার্তা (Tibet Railway Project)
বিশ্লেষকদের মতে, এই রেললাইন শুধু একটি পরিবহন প্রকল্প নয়, বরং এটি একটি শক্তিশালী ভূ-রাজনৈতিক বার্তাও বহন করছে। চিন এভাবে ভারত-চিন সীমান্তে তার সামরিক উপস্থিতি দৃঢ় করার পাশাপাশি জিনজিয়াং এবং তিব্বতের অর্থনৈতিক সংযোগও মজবুত করতে চাইছে।
সব মিলিয়ে, লাদাখ সীমান্তের কাছ দিয়ে এই নতুন রেললাইন নির্মাণ ভবিষ্যতে ভারত-চিন সম্পর্কের নতুন উত্তেজনার কারণ হতে পারে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এ বছরের মধ্যেই প্রকল্পটির কাজ শুরু হওয়ার সম্ভাবনা থাকায়, পরিস্থিতি কোন দিকে গড়ায়, তা নিয়ে এখনই উদ্বেগ বাড়ছে কূটনৈতিক অঙ্গনে।