Last Updated on [modified_date_only] by Debu Das
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল : মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald J. Trump) এবং রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন শুক্রবার গভীর রাতে আলাস্কার অ্যাঙ্কোরেজ শহরের অদূরে অবস্থিত মার্কিন সেনাঘাঁটি ‘জয়েন্ট বেস এলমেনডর্ফ-রিচার্ডসন’-এ এক ঐতিহাসিক বৈঠকে মিলিত হন (Trump Putin Meeting)। প্রায় পাঁচ বছর পর মুখোমুখি বসা দুই রাষ্ট্রনেতার এই বৈঠক কেবল রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ নয়, বরং সাম্প্রতিক কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক অচলাবস্থা কাটিয়ে ওঠার সম্ভাবনা তৈরি করেছে।
রানওয়েতে শুরু কূটনৈতিক আলাপ (Trump Putin Meeting)
রাশিয়ার সরকারি সংবাদ সংস্থা তাস-এর দাবি, বৈঠক শুরু হয় আনুষ্ঠানিক অধিবেশন কক্ষে নয়, বরং রানওয়েতে দাঁড়িয়ে থাকা মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিশেষ সুরক্ষিত ক্যাডিলাক লিমুজ়িন ‘দ্য বিস্ট’-এ সওয়ার হওয়ার পর। গাড়ির ভেতরে পাশাপাশি বসা দুই নেতা একান্তে প্রাথমিক রূপরেখা ঠিক করেন। সেই ব্যক্তিগত আলাপই পরে শীর্ষ বৈঠকের এজেন্ডা গঠনে মুখ্য ভূমিকা রাখে।
‘থ্রি-অন-থ্রি’ কূটনৈতিক বিন্যাস (Trump Putin Meeting)
বৈঠকে দুই রাষ্ট্রনেতার সঙ্গে ছিলেন তাঁদের দুইজন করে শীর্ষ কর্মকর্তা(Trump Putin Meeting)। মার্কিন পক্ষে ছিলেন বিদেশসচিব মার্কো রুবিও এবং প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ; রুশ পক্ষে উপস্থিত ছিলেন বিদেশমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ এবং প্রেসিডেন্টের সহকারী ইউরি উশাকভ। কূটনীতির পরিভাষায় একে বলা হয় ‘থ্রি-অন-থ্রি ফরম্যাট’, যা আলোচনাকে কার্যকর ও সুনির্দিষ্ট করতে সহায়ক।
ভূমি বিনিময়ের প্রস্তাব দেবেন? (Trump Putin Meeting)
বৈঠক ঘিরে সবচেয়ে বড় জল্পনা ছিল—পুতিন কি ইউক্রেনের সঙ্গে ‘ল্যান্ড সোয়াপিং’ বা ভূমি বিনিময়ের প্রস্তাব দেবেন? কিছুদিন আগেই ক্রেমলিন জানিয়েছিল, সীমান্ত ও মানচিত্রে পরিবর্তনের মাধ্যমেই শান্তির পথ তৈরি হতে পারে। কিন্তু চূড়ান্ত বৈঠকে এই প্রসঙ্গ এড়িয়ে যাওয়া হয়। পরিবর্তে ট্রাম্প যুদ্ধবন্দি বিনিময় ও তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতির আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
ট্রাম্প বলেন, “যুদ্ধবন্দি বিনিময়ের বিষয়টিও চুক্তির অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। আমি আশা করছি খুব শিগগিরই যুদ্ধবিরতি হবে।”

আরও পড়ুন : Russia Ukraine War : যুদ্ধবিরতির সমাধান সূত্র জেলেনস্কির হাতে, পুতিনের সঙ্গে বৈঠক শেষে বললেন ট্রাম্প
পুতিনের প্রশংসা ও ট্রাম্পের বার্তা (Trump Putin Meeting)
ক্রেমলিন মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বৈঠককে ‘অত্যন্ত ইতিবাচক’ আখ্যা দিয়ে বলেন, এই আলোচনা দুই দেশকে শান্তির পথে আত্মবিশ্বাসী পদক্ষেপ নিতে সহায়তা করবে(Trump Putin Meeting)। পুতিনও ট্রাম্পের “ইতিবাচক মনোভাব” এর প্রশংসা করে জানান—
“২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে যদি ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট থাকতেন, তাহলে যুদ্ধ শুরুর প্রয়োজনই হতো না।”
সাম্প্রতিক উত্তেজনা ও পারমাণবিক সংকেত (Trump Putin Meeting)
বৈঠকের প্রেক্ষাপট আরও তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ মাত্র দুই সপ্তাহ আগে ট্রাম্প রুশ নিরাপত্তা পরিষদের ডেপুটি চেয়ারম্যান দিমিত্রি মেদভেদেভকে ‘পরমাণু হামলার হুমকি’ দেওয়ার অভিযোগ তোলেন এবং রাশিয়ার উপকূলের কাছে মার্কিন পারমাণবিক অস্ত্রবাহী ডুবোজাহাজ মোতায়েন করেন(Trump Putin Meeting)। এই প্রেক্ষাপটে বৈঠকটি দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা কিছুটা হলেও প্রশমিত করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিলের ইঙ্গিত (Trump Putin Meeting)
বৈঠকের শেষে ট্রাম্প অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও অতিরিক্ত শুল্ক শিথিলের সম্ভাবনার ইঙ্গিত দেন—
“আজকের আলোচনার পর আমার মনে হচ্ছে, এখনই অতিরিক্ত শুল্ক নিয়ে ভাবার সময় এসেছে। দুই থেকে তিন সপ্তাহ পরে অবশ্যই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করব।”
আরও পড়ুন : Trump Zelensky Meeting : জেলেনস্কিকে ফোন ট্রাম্পের, সোমবারই ওয়াশিংটনে বৈঠকের সম্ভাবনা !
আলাস্কার সামরিক পরিবেশের প্রতীকী বার্তা(Trump Putin Meeting)
বৈঠকের আগে পুতিনকে স্বাগত জানাতে আকাশে উড়ানো হয় মার্কিন বিমানবাহিনীর বি-২ স্পিরিট স্টেলথ বোমারু বিমান এবং চারটি এফ-২২ র্যাপ্টর যুদ্ধবিমান। সামরিক শক্তির এই প্রদর্শনী কেবল সম্মান নয়, বরং বৈঠকের প্রেক্ষাপটে এক ধরনের কূটনৈতিক বার্তাও বহন করে।
ওয়াশিংটন ও মস্কো—দুই পক্ষই আশা করছে, আলাস্কার এই বৈঠক রুশ-আমেরিকা সম্পর্কের বরফ গলানোর প্রথম ধাপ হবে। যদিও যুদ্ধবিরতির চূড়ান্ত রূপরেখা এখনও নির্ধারিত হয়নি, তবুও এই বৈঠককে কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।