Last Updated on [modified_date_only] by Debu Das
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: আবারও কড়া সুরে ‘ব্রিকস্’ জোটকে আক্রমণ করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প(Trump Tariff War)। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সামনে তিনি বলেন, “ব্রিকস্ তৈরি হয়েছে আমাদের ক্ষতি করার জন্য। যদি তারা সেই খেলা খেলতে চায়, আমিও প্রস্তুত। ১০% শুল্ক দিতে হবেই।”
এই মন্তব্য ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে শুরু হয়েছে উত্তেজনা। প্রশ্ন উঠছে, যেহেতু ভারত ‘ব্রিকস্’-এর অন্যতম সদস্য, তাহলে ট্রাম্পের এই শুল্ক হুঁশিয়ারির জালে ভারতও কি পড়ে যাচ্ছে?
ব্রিকস্ সদস্যও, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তির আলোচনায় ভারত (Trump Tariff War)
ভারত এমন একটি কূটনৈতিক সমীকরণে রয়েছে, যেখানে একদিকে সে ব্রিকস্-এর গুরুত্বপূর্ণ সদস্য (চিন, রাশিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, ব্রাজিল, ইরান, ইত্যাদির সঙ্গে), অন্যদিকে আমেরিকার সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরেই বাণিজ্য আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে (Trump Tariff War)। যদিও এখনও চুক্তি চূড়ান্ত হয়নি। ট্রাম্প ইতিমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছেন, যেসব দেশের সঙ্গে চুক্তি হবে না, তাদের ১ অগস্ট থেকে বাড়তি শুল্ক দিতে হবে।
গত ৯ এপ্রিল যে ২৬% শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল ভারতের উপর, তা তিন মাসের জন্য স্থগিত রাখা হয়। সেই সময়সীমার শেষ দিন ৯ জুলাই। এই সময়ের মধ্যেই যদি কোনও চুক্তি না হয়, তাহলে বাড়তি শুল্ক কার্যকর হতে পারে ভারতের জন্যও(Trump Tariff War)।
ব্রিকস্ সম্মেলনের প্রেক্ষাপটে তীব্র বার্তা (Trump Tariff War)
রবিবার রিও ডি জেনেইরোয় অনুষ্ঠিত ‘ব্রিকস্’ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সহ উপস্থিত ছিলেন ১০টি সদস্য দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরা (Trump Tariff War)। ৩১ পাতার যৌথ বিবৃতিতে জিএসটি, শুল্ক বৃদ্ধি, এবং বিশ্ব বাণিজ্যের অবনতির জন্য দায়ী বিভিন্ন একতরফা পদক্ষেপের সমালোচনা করা হয়— যদিও আমেরিকার নামোল্লেখ ছিল না।

কিন্তু ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া থেকেই স্পষ্ট, ওই বার্তাকে তিনি নিজের বিরুদ্ধে বলেই ধরেছেন। তাঁর মন্তব্য, “যারা ডলারের বিকল্প তৈরি করতে চায়, তারা মূল্য চোকাতে বাধ্য।”
বাণিজ্য চুক্তি না হলে কী হবে ভারতের? (Trump Tariff War)
ভারতের জন্য এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন— যদি আমেরিকার সঙ্গে চুক্তি চূড়ান্ত না হয় (Trump Tariff War), তবে কি ভারতও ১০% শুল্কের আওতায় পড়বে, নাকি কোনও ছাড় পাওয়া যাবে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারত যদি দ্রুত কোনও আলাদা বাণিজ্য চুক্তিতে পৌঁছাতে না পারে, তাহলে ট্রাম্প (Donald J. Trump) প্রশাসনের চোখে ‘ব্রিকস্ সদস্য’ হিসেবে একইভাবে শাস্তির মুখে পড়তে পারে। আবার চুক্তির পথে এগোলে, ট্রাম্প হয়তো ছাড় দিতে পারেন— তবে সে ক্ষেত্রেও ‘ব্রিকস্’ থেকে ভারতের অবস্থান কতটা পৃথক করে দেখানো যাবে, সেটাই মূল চ্যালেঞ্জ।

কূটনীতির কঠিন পরীক্ষা ভারতের সামনে (Trump Tariff War)
ট্রাম্পের শুল্ক হুঁশিয়ারি কেবল অর্থনৈতিক চাপে ফেলছে না ভারতকে, বরং আন্তর্জাতিক মঞ্চে কূটনৈতিক ভারসাম্য রক্ষা করাও এক বিশাল চ্যালেঞ্জ (Trump Tariff War)। একদিকে আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করার চাপ, অন্যদিকে ব্রিকস্-এ সক্রিয় ভূমিকায় অবিচল থাকা— দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করতে মোদী সরকার কী কৌশল নেয়, সেদিকেই এখন নজর গোটা বিশ্বের। আগামী কয়েক দিন, বিশেষ করে ৯ জুলাই ও ১ অগস্ট— এই দুটি দিন ভারতের বাণিজ্য ভবিষ্যতের জন্য নির্ণায়ক হতে চলেছে।