ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: তুরস্কের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে একটি বিস্ফোরক কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণে (Turkiye Blast) ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ৪ জন আহত হয়েছেন। এই তথ্য জানিয়েছেন স্থানীয় সরকারি কর্মকর্তারা।
বালিকেসির প্রদেশের কাভাকলি গ্রামের কারখানায় এই বিস্ফোরণ ঘটে।
বালিকেসিরের গভর্নর ইসমাইল উস্তাওগলু বলেছেন, “প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, বিস্ফোরণের ফলে ১২ কর্মচারী মারা গেছেন এবং ৪ জন আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।”
তদন্ত শুরু, নাশকতা নয় (Turkiye Blast)
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে সম্প্রচারিত ফুটেজে দেখা গেছে, কারখানার বাইরে কাচ এবং ধাতুর টুকরো ছড়িয়ে আছে (Turkiye Blast)। ঘটনাস্থলে অ্যাম্বুলেন্সগুলো দাঁড়িয়ে রয়েছে।
তুরস্কের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলি ইয়েরলিকায়া মঙ্গলবার এই বিস্ফোরণের (Turkiye Blast) পর তদন্ত শুরুর কথা জানিয়েছেন এবং মৃতের সংখ্যা নিশ্চিত করেছেন।
আরও পড়ুন: Bashar al-Assad Divorce: বিদ্রোহে দেশ-ছাড়া বাশার আরও বিপাকে! ডিভোর্স চাইলেন স্ত্রী আসমা
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আহতরা গুরুতর অবস্থায় নেই। তবে বিস্ফোরণের সঠিক কারণ এখনো জানা যায়নি। ইয়েরলিকায়া বলেছেন, “আমরা খুঁজে বের করার চেষ্টা করছি যে এর পেছনে কী কারণ রয়েছে। তবে নাশকতা থাকার সম্ভাবনা নেই।”
সকালবেলার শিফট পরিবর্তনের সময় বিস্ফোরণ (Turkiye Blast)
বিস্ফোরণটি (Turkiye Blast) স্থানীয় সময় সকাল ৮:২৫-এ (গ্রিনউইচ সময় ৫:২৫) ঘটে, যখন শিফট পরিবর্তন হচ্ছিল। আল জাজিরার সাংবাদিক সিনেম কোসিওগলু জানিয়েছেন, যেখানে বিস্ফোরণ ঘটে সেই অংশটি বুলেট ক্যাপসুল তৈরির জন্য ব্যবহৃত হয়। বিস্ফোরণের ধাক্কায় সেই অংশটি ধসে পড়ে।
তিনি আরও জানান, বিস্ফোরণের ফলে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় উদ্ধারকাজ ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে চালানো হচ্ছে।
সরকারি যোগাযোগ বিভাগ জানিয়েছে, অগ্নিনির্বাপক দল ঘটনাস্থলে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা কর্মীরা মোতায়েন রয়েছেন।
প্রতিরক্ষা শিল্পে গুরুত্বপূর্ণ কারখানা
এই কারখানাটি দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারের জন্য গোলাবারুদ, বিস্ফোরক এবং ফ্লেয়ার উৎপাদন করে।
আরও পড়ুন: Panama President on Trump: পানামা খাল নিয়ে ট্রাম্পের হুমকি প্রত্যাখ্যান করলেন পানামা প্রেসিডেন্ট
তুরস্ক সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রতিরক্ষা শিল্পে বিশেষভাবে অগ্রণী হয়েছে, বিশেষ করে ড্রোন রপ্তানিতে। প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান প্রতিরক্ষা শিল্পকে জোরালো সমর্থন করে আসছেন বেশ কিছুদিন ধরে।
দুই মাস আগের আরেকটি ঘটনা
এই ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটল, যখন মাত্র দুই মাস আগে রাজধানী আঙ্কারার কাছে একটি তুর্কি রাষ্ট্র-পরিচালিত প্রতিরক্ষা কারখানায় হামলা হয়েছিল। সেই হামলায় ৫ জন নিহত এবং ২২ জন আহত হয়েছিলেন।
সেই হামলার দায় স্বীকার করেছিল নিষিদ্ধ কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টি (পিকেকে)। এর পর তুরস্ক, ইরাক এবং সিরিয়ার পিকেকে লক্ষবস্তুতে একাধিক হামলা চালায়।