Last Updated on [modified_date_only] by Debu Das
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: ওয়াশিংটন আবারও সরব হল রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে(US Tariff)। মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট জানান, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের (Donald J. Trump) নেওয়া অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তগুলির মধ্যে অন্যতম ছিল ভারতীয় পণ্যের উপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ(US Tariff)। তবে এই পদক্ষেপ ভারতের বিরুদ্ধে সরাসরি নয়, বরং মস্কোর উপর পরোক্ষ চাপ সৃষ্টি করার কৌশল হিসেবেই তা করা হয়েছিল।
মস্কোর উপর চাপ তৈরির কৌশল (US Tariff)
ক্যারোলিনের বক্তব্য অনুযায়ী, ট্রাম্পের প্রশাসন বিশ্বাস করে, ভারত রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখায় মস্কোকে বড় রকমের সহায়তা দিচ্ছে। বিশেষত, সস্তায় অপরিশোধিত তেল আমদানি রাশিয়ার যুদ্ধকালীন অর্থনীতিকে টিকিয়ে রেখেছে। ফলে ভারতের উপর শুল্ক আরোপের মাধ্যমে আমেরিকার লক্ষ্য ছিল রাশিয়ার তেলের বাজার সংকুচিত করা এবং ইউক্রেন যুদ্ধ দ্রুত শেষ করতে পুতিনকে চাপের মুখে ফেলা।
ক্যারোলিন বলেন,“প্রেসিডেন্ট এই যুদ্ধ বন্ধ করার জন্য নানা পদক্ষেপ নিয়েছেন। ভারতের উপর অতিরিক্ত শুল্ক চাপানোও সেই কৌশলের অংশ, যার আসল উদ্দেশ্য মস্কোর উপর চাপ সৃষ্টি।”
ট্রাম্প-পুতিন আলাস্কা বৈঠক (US Tariff)
গত ১৫ আগস্ট আলাস্কায় প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেন ট্রাম্প। বৈঠক শেষে দুই নেতা দাবি করেন, আলোচনা ‘ফলপ্রসূ’(US Tariff)। তবে ইউক্রেন যুদ্ধের কোনও সমাধানসূত্র বেরোয়নি। বৈঠকে ভারতের রাশিয়া থেকে তেল আমদানির প্রসঙ্গও ওঠে বলে কূটনৈতিক মহলে জল্পনা চলেছে।
যদিও মস্কো বা নয়াদিল্লি—কোনও পক্ষই প্রকাশ্যে কিছু জানায়নি, তবে আমেরিকার পক্ষ থেকে বারবার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে, রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের ব্যবসায়িক সম্পর্কই ছিল আলোচনার অন্যতম বিষয়।
ইউক্রেন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে হোয়াইট হাউসে বৈঠক (US Tariff)
আলাস্কা বৈঠকের কয়েক দিনের মধ্যেই হোয়াইট হাউসে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জ়েলেনস্কির সঙ্গে মুখোমুখি হন ট্রাম্প(US Tariff)। সেখানে যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠক শেষে স্পষ্ট হয়েছে, শিগগিরই জ়েলেনস্কি ও পুতিন সরাসরি বৈঠকে বসতে পারেন। পরে আমেরিকাকে নিয়ে একটি ত্রিপাক্ষিক বৈঠকের সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে।
প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বলেন,“প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যত দ্রুত সম্ভব এই যুদ্ধ বন্ধ করতে চান। তিনি প্রায়ই বলেন, সে সময় তিনি যদি প্রেসিডেন্ট পদে থাকতেন, তাহলে এই যুদ্ধ আদৌ শুরুই হত না।”

আরও পড়ুন : Rajiv Gandhi BirthDay : কীভাবে সমাধান হয়েছিল ভারতের কনিষ্টতম প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর হত্যা রহস্য ?
ভারতের উপর চাপ, কিন্তু দিল্লির দৃঢ় অবস্থান (US Tariff)
প্রসঙ্গত, রাশিয়ার থেকে তেল কেনা নিয়ে ভারতকে বহুবার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ট্রাম্প(US Tariff)। ইতিমধ্যেই ভারতীয় পণ্যের উপর ২৫ শতাংশ বাড়তি শুল্ক বসিয়েছে আমেরিকা। হোয়াইট হাউস থেকে আবারও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে—যদি তেল আমদানি অব্যাহত থাকে, তবে আরও শুল্ক আরোপ করা হবে।
তবে দিল্লির অবস্থান স্পষ্ট। ভারতের সরকারি সূত্র জানাচ্ছে, নিজেদের জ্বালানি নিরাপত্তা ও জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে কোনও আপস করবে না ভারত। অর্থাৎ, আন্তর্জাতিক চাপ সত্ত্বেও রাশিয়া থেকে তেল কেনা চালিয়ে যাবে মোদী সরকার।

কূটনৈতিক অচলাবস্থা নাকি নতুন কৌশল? (US Tariff)
ওয়াশিংটনের শুল্ক-নীতিকে অনেক বিশেষজ্ঞ সরাসরি “অর্থনৈতিক অস্ত্র” হিসেবে ব্যাখ্যা করছেন(US Tariff)। এর ফলে ভারত-আমেরিকা সম্পর্ক যে টানাপোড়েনের মুখে পড়েছে, তা স্পষ্ট। আবার অন্য একদল কূটনীতিকের মতে, ট্রাম্প চাইছেন যুদ্ধবিরতির জন্য মঞ্চ তৈরি করতে। তাই ভারতের উপর চাপ সৃষ্টি করে মস্কোর অর্থনৈতিক পথ সংকুচিত করাই তাঁর মূল লক্ষ্য।
তবে প্রশ্ন থেকেই যায়—ভারত কি সত্যিই রাশিয়ার থেকে তেল কেনা কমাবে? না কি নিজেদের অর্থনৈতিক কৌশলেই অটল থাকবে? এ নিয়ে দিল্লির অবস্থান দৃঢ় থাকায় ট্রাম্পের পরিকল্পনা কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে সংশয় বাড়ছে।