ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের (Donald Trump) নতুন ‘পাল্টা শুল্ক’ নীতির ঘোষণার দিকে নজর ছিল গোটা বিশ্বের, বিশেষত ভারতের (US Tariff War) । বুধবার আমেরিকার স্থানীয় সময় বিকেল ৪টেয় এবং ভারতে মধ্যরাতে ট্রাম্প আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করবেন, যে দেশ আমেরিকার পণ্যে যতটা শুল্ক আরোপ করে, সেই দেশের পণ্যেও সমপরিমাণ শুল্ক বসানো হবে। ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই কার্যকর হয়ে যাবে এই নীতি, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নতুন সঙ্কটের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ভারতের উপর প্রভাব (US Tariff War)
ট্রাম্পের এই নীতির ফলে ভারত-আমেরিকার দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে প্রভাব পড়তে পারে (US Tariff War)। আমেরিকা সম্প্রতি পরিসংখ্যান প্রকাশ করে জানিয়েছে যে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন আমেরিকার দুগ্ধজাত দ্রব্যে ৫০ শতাংশ, জাপান আমেরিকায় উৎপাদিত চালে ৭০০ শতাংশ, ভারত আমেরিকার কৃষিজাত পণ্যে ১০০ শতাংশ এবং কানাডা আমেরিকার দুগ্ধজাত দ্রব্যে প্রায় ৩০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে। এই তথ্যের ভিত্তিতেই ট্রাম্প পাল্টা শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ফলে যুক্তরাষ্ট্র থেকেও ভারতের রফতানিকৃত পণ্যে সমপরিমাণ শুল্ক বসতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর ফলে ভারতের রফতানিতে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে, বিশেষ করে কৃষিপণ্য, ইলেকট্রনিক্স, ওষুধ এবং টেক্সটাইল শিল্পে। আমেরিকা ভারতের জন্য অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদার হওয়ায়, এই শুল্ক বৃদ্ধির ফলে ভারতীয় কোম্পানিগুলোর রফতানি খরচ বেড়ে যাবে এবং প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়তে পারে।
নয়াদিল্লির কৌশল (US Tariff War)
ভারত এই পরিস্থিতিতে ধীরস্থির অবস্থান নিতে চায় (US Tariff War) । সরকারি সূত্রের জানা য়েছে, ভারত সরকার ট্রাম্পের ঘোষণার প্রভাব বিশ্লেষণ করে তবেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে। এক শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তা বলেন, “আমরা ট্রাম্পের ঘোষণার আনুষ্ঠানিক বিবরণ পাওয়ার পরই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব। ”বিশ্লেষকদের মতে, ভারত চাইবে কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান করতে। যদি আলোচনার মাধ্যমে সমাধান সম্ভব না হয়, তাহলে ভারতও পাল্টা শুল্ক আরোপ করতে পারে, যা দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যযুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে পারে। এর আগেও ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য নিয়ে বিভিন্ন সময়ে টানাপোড়েন দেখা গেছে, তবে সেগুলো আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমে মিটিয়ে ফেলা হয়েছে।

আরও পড়ুন: Modi Government Debt : দেশ চালাতে প্রায় ১৫ লক্ষ কোটি টাকা ঋণ নিচ্ছে মোদী সরকার!বাড়ছে অর্থনৈতিক চাপ
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও ভবিষ্যৎ (US Tariff War)
ট্রাম্পের ঘোষণার পর ইউরোপীয় ইউনিয়ন (EU) , জাপান, কানাডা এবং চীনও সতর্ক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে (US Tariff War) । বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আমেরিকার এই পদক্ষেপ বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (WTO) নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে, যার ফলে বাণিজ্যিক বিবাদ আরও বেড়ে যেতে পারে। বিশ্ব বাণিজ্য বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত আমেরিকার নিজস্ব অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে। যদি অন্যান্য দেশও পাল্টা শুল্ক আরোপ করে, তাহলে আমেরিকার রফতানি শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং পণ্যের দাম বেড়ে যেতে পারে, যা শেষ পর্যন্ত সাধারণ আমেরিকান ভোক্তাদের ওপর প্রভাব ফেলবে। ভারত আপাতত পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে এই নতুন শুল্ক নীতি ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য সম্পর্কে দীর্ঘমেয়াদী কী প্রভাব ফেলবে, তা সময়ই বলবে।

আরও পড়ুন: Russia ukraine war : রাশিয়াকে সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহের অভিযোগ, দাবি অস্বীকার ভারতের!
বৈশ্বিক বাণিজ্যে নতুন মোড় (US Tariff War)
ট্রাম্পের নতুন শুল্ক নীতির ফলে বৈশ্বিক বাণিজ্যে এক নতুন মোড় দেখা যাচ্ছে (US Tariff War) । ভারতের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। এখন দেখার বিষয়, ভারত কিভাবে কৌশল নির্ধারণ করে এবং দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে এই সংকটের সমাধান করতে পারে কি না।