ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: ভারতকে আক্রমণ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নতুন শুল্ক আরোপের ফলে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে ব্যাপক ছাঁটাই হতে পারে (US Tariff Effect on Indian IT)। এর ফলে ভারতের কর্মসংস্থান এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
ভারতের বিরুদ্ধে ‘অন্যায্য বাণিজ্যের’ অভিযোগ (US Tariff Effect on Indian IT)
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতের বিরুদ্ধে ‘অন্যায্য বাণিজ্যনীতি’ অনুসরণের অভিযোগ তুলে নতুন শুল্ক আরোপ করেছেন (US Tariff Effect on Indian IT)। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, সব দেশের জন্য ১০ শতাংশ বেসলাইন শুল্ক এবং বিশেষভাবে ভারত থেকে আমদানি হওয়া পণ্যের ওপর ২৬ শতাংশ শুল্ক বসানো হয়েছে।
এমকেই গ্লোবালের ২৫ মার্চের এক রিপোর্ট অনুযায়ী, ২৫ শতাংশ হারে শুল্ক বসলে ভারতের জিডিপি থেকে প্রায় ৩১ বিলিয়ন ডলার ক্ষতি হতে পারে, যা মোট জিডিপির ০.৭২ শতাংশ। এই সিদ্ধান্ত ভারতের জন্য উদ্বেগজনক কারণ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এখনও ভারতের সবচেয়ে বড় রপ্তানি বাজার। ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে ভারতে থেকে আমেরিকায় রপ্তানি হয়েছে ৭৭.৫ বিলিয়ন ডলার।
ট্রাম্পের বক্তব্য: “ভারত আমাদের সঙ্গে সুবিচার করছে না” (US Tariff Effect on Indian IT)
“মেক আমেরিকা ওয়েলদি অ্যাগেইন” অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দিতে গিয়ে ট্রাম্প ভারতকে কঠোর সমালোচনা করেন (US Tariff Effect on Indian IT)। তিনি বলেন, “ভারত খুব কঠিন দেশ। প্রধানমন্ত্রী মোদী সবে এখানে এসেছেন, তিনি আমার ভালো বন্ধু। কিন্তু ভারত আমাদের ঠিকমতো আচরণ করছে না। তারা আমাদের ৫২ শতাংশ শুল্ক নেয়, আর আমরা তাদের কাছ থেকে প্রায় কিছুই নিই না।”
আরও পড়ুন: Discounted Reciprocal Tariff: ট্রাম্পের ‘ছাড়যুক্ত পারস্পরিক শুল্ক’ নীতির কতটা প্রভাব পড়বে ভারতে?
IT সেক্টরে নিয়োগে ধাক্কা, আশঙ্কায় সফটওয়্যার কোম্পানিগুলো
শুল্কের সরাসরি প্রভাব পড়তে চলেছে ভারতীয় তথ্যপ্রযুক্তি (IT) শিল্পে। যুক্তরাষ্ট্রে সফটওয়্যার পরিষেবা রপ্তানির ক্ষেত্রে ভারত শীর্ষে থাকলেও এই নতুন শুল্ক IT কোম্পানিগুলোর ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করতে পারে (US Tariff Effect on Indian IT)। মার্কিন বাজারে ব্যয় কমানোর প্রবণতা দেখা দিলে, ভারতীয় IT সংস্থাগুলির নিয়োগ কমতে পারে এবং রাজস্ব হ্রাসের আশঙ্কা রয়েছে।
এমকেই গ্লোবালের রিপোর্ট অনুযায়ী, IT খাতে নিয়োগ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। মার্চ ২০২৫-এ নকরি জবস্পিক ইনডেক্স (Naukri JobSpeak Index) বার্ষিক ভিত্তিতে ২.৫ শতাংশ এবং মাসিক ভিত্তিতে ৮ শতাংশ কমেছে। BPO ও ITES সেক্টরে নিয়োগ ৭.৫ শতাংশ কমেছে।
এটি IT কোম্পানিগুলিকে নতুন কর্মী নিয়োগের বদলে বর্তমান কর্মীশক্তি ব্যবহারের দিকে মনোযোগী করছে। TCS, Infosys, এবং Wipro ইতিমধ্যেই ক্রমশ ৪০,০০০, ২০,০০০, ও ১০,০০০-১২,০০০ ফ্রেশার নিয়োগের পরিকল্পনা করেছে FY26-এ, যা মূলত ব্যয় সংকোচনের কৌশল।
এই শুল্ক বৃদ্ধির ফলে কি ভারতে IT খাতে ব্যাপক ছাঁটাই হবে?
IT শিল্পের নেতারা ইতিমধ্যেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, এই শুল্ক বৃদ্ধির ফলে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় ছাঁটাই হতে পারে। এক IT উদ্যোক্তা রাকেশ নায়ক সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন, “যদি ট্রাম্প সফটওয়্যার আমদানির ওপর ২০ শতাংশ শুল্ক বসান, তাহলে আমাদের কোম্পানির ভারতে থাকা সব কর্মীকে ছাঁটাই করা ছাড়া উপায় থাকবে না। আমাদের ১৬ বছরের ইতিহাসে এমন কিছু ঘটেনি।”
আরেকজন বিশেষজ্ঞ মন্তব্য করেন, “ডট-কম বুম, সাবপ্রাইম সংকটের সময়েও ছাঁটাই হয়েছিল, কিন্তু এবারের পরিস্থিতি সবচেয়ে ভয়াবহ হতে পারে।”
ভারতের অর্থনীতিতে কি এর প্রভাব পড়বে?
এই ছাঁটাই শুধু IT সেক্টরেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং পুরো ভারতীয় অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে। ভারতে প্রচুর বিদেশি মূলধন আসে এবং চাকরি হারালে ক্রেতাদের ব্যয়ক্ষমতা কমবে, যা অর্থনৈতিক বৃদ্ধিকে ধাক্কা দিতে পারে। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, এই সংকট আগের আর্থিক মন্দার মতো হলেও প্রভাব আরও বড় হতে পারে।
এখন প্রশ্ন একটাই, ভারতীয় IT সংস্থাগুলি এবং নীতিনির্ধারকরা এই পরিস্থিতির মোকাবিলা কীভাবে করবেন?