Last Updated on [modified_date_only] by Debu Das
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: প্রতি ৯০ মিনিটে একবার পৃথিবী প্রদক্ষিণ, দিনে ১৬ বার সূর্যোদয়-সূর্যাস্ত— এই নিয়েই কৌতূহল তুঙ্গে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে(Shubhanshu Shukla)। সেই কৌতূহলের জবাব এল আন্তর্জাতিক মহাকাশ কেন্দ্র (আইএসএস) থেকে, ভারতের প্রথম আইএসএস অভিযাত্রী গ্রুপ ক্যাপ্টেন শুভাংশু শুক্ল-র মুখে।
ইসরো-র উত্তর-পূর্ব স্পেস অ্যাপ্লিকেশন সেন্টার (NESAC) আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে ছাত্রছাত্রীরা সরাসরি কথা বলার সুযোগ পায় শুভাংশুর সঙ্গে। তাঁদের প্রশ্ন ছিল— “দিনে এতবার সূর্য ওঠে আর অস্ত যায়, তাহলে ঘুমোন কীভাবে?”
সূর্যের আলো নয়, কাজ চলে গ্রিনিচ সময় ধরে (Shubhanshu Shukla)
মহাকাশ থেকে উত্তর দেন শুভাংশু, “আমরা সূর্য ধরে কাজ করি না। গ্রিনিচ মান সময় (GMT) ধরে আমাদের দিন চলে(Shubhanshu Shukla)। কারণ, আইএসএস প্রতি ৯০ মিনিটে পৃথিবী প্রদক্ষিণ করে, ফলে আমরা দিনে ১৬ বার সূর্যোদয় ও ১৬ বার সূর্যাস্ত দেখি। এমন অবস্থায় ‘সূর্যের ওঠা-নামা’ ধরলে কিছুই সম্ভব হবে না।”
শূন্য মাধ্যাকর্ষণে শরীরের উপর প্রভাব ও তার মোকাবিলা (Shubhanshu Shukla)
ছাত্রদের প্রশ্নে উঠে আসে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়— মাধ্যাকর্ষণহীন অবস্থায় শরীর কীভাবে মানিয়ে নেয়? শুভাংশু জানান, “পৃথিবীতে আমরা সব সময় মাধ্যাকর্ষণের মধ্যে থেকেছি(Shubhanshu Shukla)। কিন্তু মহাকাশে সেটা নেই। ফলে শরীরের নানা পরিবর্তন হয়। শুরুতে অস্বস্তি হয়, যাকে বলা হয় স্পেস সিকনেস। কিন্তু প্রশিক্ষণ এবং ওষুধে তা সামলে নেওয়া যায়। আমাদের মূল লক্ষ্য হল শরীরকে সুস্থ রাখা।”
তিনি জানান, শূন্য মাধ্যাকর্ষণে পেশি ও হাড় ক্ষয় হতে পারে, তাই প্রতিদিন ট্রেডমিল, সাইকেল, স্ট্রেংথ এক্সারসাইজ করতে হয়। “মহাকাশে থাকাকালীন যেমন, তেমনই পৃথিবীতে ফেরার পরও সুস্থ থাকতে হবে আমাদের,” বলেন তিনি।

রোবোটিক বাহু আর ভবিষ্যতের ভারতীয় মহাকাশপ্রেমীরা (Shubhanshu Shukla)
শুভাংশু জানান, মহাকাশ অভিযানে অনেক কাজেই এখন রোবোটিক আর্মব্যবহার করা হচ্ছে(Shubhanshu Shukla)। এটা শুধু সময় বাঁচায় না, কার্যক্ষমতাও বাড়ায়। তাঁর মতে, এই প্রযুক্তির ব্যবহার ভবিষ্যতের মহাকাশ অভিযানে আরও বড় ভূমিকা নেবে।
পড়ুয়াদের উদ্দেশে শুভ বার্তা দিয়ে শুভাংশু বলেন, “তোমরা মহাকাশ নিয়ে আরও বড় স্বপ্ন দেখো। আগামী দিনে আরও অনেক ভারতীয়কে আমি চাই এই স্টেশনে আসতে।”

ভারতের প্রথম আইএসএস নভশ্চর (Shubhanshu Shukla)
গত ২৬ জুন মার্কিন মহাকাশ সংস্থা NASA-র অ্যাক্সিয়ম-৪ (Axiom-4)অভিযানে SpaceX-এর ড্রাগন মহাকাশযানে চড়ে আইএসএসে পৌঁছেছেন শুভাংশু(Shubhanshu Shukla)। তাঁর সঙ্গী তিন নভশ্চর— ক্রু-কমান্ডার পেগি হুইটসন, মিশন বিশেষজ্ঞ স্লাওস উজানস্কি-উইজ়নিউস্কি এবং টিবর কাপু।
এই ঐতিহাসিক অভিযানে অংশগ্রহণ করে লখনউয়ের ছেলে শুভাংশু হয়ে উঠেছেন ভারতের গর্ব(Shubhanshu Shukla)। তাঁর কথায়, “আমি শুধু একজন নভশ্চর নই, আমি ভারতের প্রতিনিধি। আমি চাই, আমার পর আরও অনেক শুভাংশু আইএসএসে পা রাখুক।” মহাকাশে সময়, অভিকর্ষ, বা দিন-রাত্রি সবই নতুন করে সংজ্ঞায়িত হয়। কিন্তু কল্পনাকে বাস্তবে রূপ দিতে যে শিক্ষা, প্রশিক্ষণ আর সংকল্প লাগে, তার এক জীবন্ত উদাহরণ শুভাংশু শুক্ল। তিনি শুধু প্রশ্নের উত্তর দেননি, ভবিষ্যতের ভারতীয় নভশ্চরদের পথ দেখিয়েছেন।