Last Updated on [modified_date_only] by Debu Das
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে আলাস্কায় প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে বৈঠক করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প(Russia Ukraine War)। আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সমাধান সূত্র। তবে বৈঠকে কোনও চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি। তবুও দুই রাষ্ট্রনেতার দাবি, এই বৈঠক ‘ফলপ্রসূ’ এবং ‘ইতিবাচক’ হয়েছে।
বৈঠকের পর মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজ়–কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প (Donald J. Trump) বলেন, এখন পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার দায়িত্ব মূলত ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জ়েলেনস্কির হাতে। তিনি ইঙ্গিত দেন, পুতিন ও জ়েলেনস্কির মধ্যে ভবিষ্যতে যে বৈঠক হবে, তাতে চাইলে তিনিও অংশ নিতে পারেন।
ত্রিপাক্ষিক বৈঠকের সম্ভাবনা (Russia Ukraine War)
ট্রাম্প স্পষ্ট করে বলেন, “এ বার বিষয়টা সম্পূর্ণ জেলেনস্কির উপর নির্ভর করছে(Russia Ukraine War)। যদি তাঁরা চান, আমি পরবর্তী বৈঠকে থাকতে পারি। আমার মনে হয়, এবার জ়েলেনস্কি, পুতিন এবং আমার মধ্যে একটি বৈঠকের আয়োজন হতে পারে।”
তিনি আরও জানান, শুধু ইউক্রেনের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়—ইউরোপের দেশগুলিকেও এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত হতে হবে। তবেই রাশিয়া-ইউক্রেনের মধ্যে স্থায়ী সমঝোতা সম্ভব হবে। পাশাপাশি, জ়েলেনস্কিকে পুতিনের সঙ্গে সরাসরি চুক্তি করারও পরামর্শ দিয়েছেন ট্রাম্প।
ভারতের বিরুদ্ধে কড়া অর্থনৈতিক পদক্ষেপ (Russia Ukraine War)
পুতিনের সঙ্গে আলোচনার আগে ভারতের বিরুদ্ধে কড়া বাণিজ্যিক পদক্ষেপের ঘোষণা করেন ট্রাম্প(Russia Ukraine War)। রাশিয়ার কাছ থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানির জন্য ভারতের পণ্যের উপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা করেন তিনি। এই শুল্কহার আগামী ২৭ অগস্টের মধ্যে বাণিজ্য সমঝোতা না হলে কার্যকর হবে।
তবে শুধু ভারত নয়, রাশিয়া থেকে তেল কেনা দেশের তালিকায় আছে চিনসহ একাধিক দেশ। সাংবাদিকরা প্রশ্ন তোলেন, সমঝোতা ব্যর্থ হলে কি এই দেশগুলির বিরুদ্ধেও একই পদক্ষেপ নেওয়া হবে? উত্তরে ট্রাম্প বলেন, “আজ যা হয়েছে, আশা করি আর ভাবতে হবে না। তবে দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে হয়তো আবার বিষয়টি পর্যালোচনা করব(Russia Ukraine War)।”

আরও পড়ুন : Trump Zelenesky Meeting : জেলেনস্কিকে ফোন ট্রাম্পের, সোমবারই ওয়াশিংটনে বৈঠকের সম্ভাবনা !
যুদ্ধ বন্ধে ট্রাম্পের দীর্ঘ প্রচেষ্টা (Russia Ukraine War)
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ চলছে(Russia Ukraine War)। ক্ষমতায় ফেরার পর থেকেই ট্রাম্প এই সংঘাত থামানোর চেষ্টা করছেন। তিনি একাধিকবার জ়েলেনস্কির সঙ্গে বৈঠক করেছেন এবং পুতিনের সঙ্গেও ফোনে কথা বলেছেন।
প্রায় পাঁচ বছর পর গত শুক্রবার আলাস্কায় মুখোমুখি হলেন ট্রাম্প ও পুতিন। বৈঠক শেষে দুই নেতা যৌথ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হলেও সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেননি, শুধু নিজেদের মতামত প্রকাশ করেন। যদিও শান্তি প্রক্রিয়া নিয়ে কোনও নির্দিষ্ট রূপরেখা প্রকাশ পায়নি।

বৈঠকে আশার আলো নাকি অনিশ্চয়তা? (Russia Ukraine War)
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প–পুতিন বৈঠক সরাসরি কোনও সমাধান না আনলেও ভবিষ্যতের সম্ভাব্য আলোচনার পথ খুলে দিয়েছে(Russia Ukraine War)। জ়েলেনস্কি ও পুতিনের মধ্যে বৈঠকই এখন মূল চাবিকাঠি। তাতে ট্রাম্প অংশ নেবেন কি না, তা নির্ভর করছে কূটনৈতিক পরিস্থিতির উপর।
বর্তমানে ইউক্রেন যুদ্ধ শুধু দুই দেশের বিষয় নয়, বরং বৈশ্বিক নিরাপত্তা, বাণিজ্য এবং জ্বালানি বাজারের উপরও প্রভাব ফেলছে। সেই কারণে ট্রাম্পের ত্রিপাক্ষিক আলোচনার প্রস্তাবকে আন্তর্জাতিক মহল গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। তবে শান্তি চুক্তি কার্যকর হবে কি না—তা এখনও অনিশ্চিত।