মলয় দে, নদীয়া: দীর্ঘক্ষন নিখোঁজ থাকার পর হাত-পা বাঁধা অবস্থায় পিঁপড়ের চাক থেকে উদ্ধার পাঁচ বছরের এক নাবালক কিশোর। কিশোরের বক্তব্য অনুযায়ী প্রতিবেশী এক যুবকের সাথে ইয়ার্কি মারার জন্যই শাস্তির এই বেনজির দৃষ্টান্ত। অভিযুক্ত এলাকার দাপুটে সিপিএম নেতা হওয়ার কারণে থানায় অভিযোগ করতে বাধা কিশোরের মাকে। চরম অমানবিক এবং নির্মম ঘটনাটি নদীয়ার শান্তিপুর হরিপুর পঞ্চায়েতের সাহেব ডাঙা গ্রামে।
সেখানে গতকাল বিকাল তিনটা থেকে জসিদ আলী ধাবকের ৫ বছরের নাবালক সন্তান রাজীবকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। বাবা জসিদ এবং মা রোজিনা বিবি সে সময় বাড়ি ছিলেন না। সন্ধের সময় তারা ফিরে এসে ছেলেকে খোঁজ করতে গিয়ে লক্ষ্য করে মাঠে যাওয়ার একটি নির্জন রাস্তায়হাত-পা বাঁধা অবস্থায় রয়েছে একটি পিঁপড়ের চাকের উপর পরে রয়েছে তাদের সন্তান। নাবালক ওই কিশোরের বক্তব্য অনুযায়ী প্রতিবেশী ইসমাইল ধাবক তাকে এই অবস্থা করেছে, সহযোগিতা করেছে সাইফুল নামে পাড়ারই অপর এক যুবক। তবে সে সময় আরও বেশকিছু মানুষজন দাঁড়িয়ে দেখছিল। অভিযোগকারী এবং অভিযুক্ত দুইই একই পাড়ার হওয়ার কারণে গতকাল রাতে নিজেদের মধ্যে মীমাংসা চেষ্টা করে এলাকাবাসী।
আরও পড়ুন: https://tribetv.in/massive-fire-in-sealdah-esi-hospital/
কিন্তু আজ সকালে ওই নাবালক শিশুকে ঘরের দরজা আটকে গত কালকের ঘটনা বলতে বারণ করেছে ইসমাইল। এমনকি বলতে বলেছে পাট কাঠির গাদায় হেলান দিয়ে দাঁড়ানোর জন্যই এই অবস্থা। এমনকি হাত-পা বেঁধে তার পিঠের উপরে বসে থাকার ঘটনাটাও ওই শিশুকে না বলার জন্য ভয় দেখানো হয়। এরপর নাবালক শিশুর মা রোজিনা বিবি বিষয়টি পরিবারের অন্য সদস্যদের জানায়। শান্তিপুর সহ বিভিন্ন জায়গা থেকে তাদের আত্মীয়-স্বজন দেখতে আসে ওই কিশোরকে তখন তাদের গাড়ি আটকে এমনকি নাবালিকের মাকে থানায় যেতে বাধা দেওয়া হয় বলেই অভিযোগ।
আরও পড়ুন:https://tribetv.in/liquor-worth-148-crore-was-sold-in-the-week-of-puja-in-kolkata/
অন্যদিকে শিশুর শারীরিক পরিস্থিতি সুস্থ করার জন্য শান্তিপুর স্টেট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। শান্তিপুর থানায় খবর দিলে পুলিশ প্রশাসন গিয়ে ওই মহিলাকে উদ্ধার করে। শিশুটি বর্তমানে শান্তিপুর স্টেট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি। ইসমাইল স্থানীয় সিপিআইএম নেতৃত্ব হওয়ার কারণে প্রভাব খাটিয়ে এলাকার মানুষদের জড়ো করে আজকের অশান্তি শুরু করেছে বলে দাবি ওই শিশুর পরিবার। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে শান্তিপুর থানার পুলিশ ঘটনার স্থলে পৌঁছেছে। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন অপরাধমূলক কাজের জন্য রণক্ষেত্র হয়ে ওঠা সাহেবডাঙা গ্রাম আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে এই ঘটনাকা ঘিরে।