Last Updated on [modified_date_only] by Megha
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: আহমেদাবাদে ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনার এক মাসের মাথায় প্রাথমিক রিপোর্ট দিল এয়ারক্রাফট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো (এএআইবি)। শনিবার মধ্যরাতে ১৫ পাতার রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়েছে(Ahmedabad Plane Crash)। রিপোর্টে দেখা গিয়েছে, শেষ মুহূর্তে কী ভাবে ইঞ্জিন চালু করার মরিয়া চেষ্টা করেছিলেন দুই পাইলট। সক্রিয় করেছিলেন বিকল্প এক যন্ত্রও। কিন্তু লাভ হয়নি। একটি ইঞ্জিন চালু হলেও দ্বিতীয় ইঞ্জিনটি আর চালানো যায়নি। ফলে মুহূর্তের মধ্যে বিমানটি সামনের বহুতলে ধাক্কা খায় এবং ভেঙে পড়ে।
ককপিট ভয়েস রেকর্ডিং (Ahmedabad Plane Crash)
দুর্ঘটনার ঠিক আগের মুহূর্তে দুই ইঞ্জিনের জ্বালানিই ‘রান’ (চালু) থেকে কাটঅফ (বন্ধ) মুডে চলে যায়।ককপিট ভয়েস রেকর্ডিংয়ে শোনা গেছে, এক পাইলট অপর পাইলটকে জিজ্ঞাসা করছেন, ‘Why did you cut off?’ অর্থাৎ কেন জ্বালানি সরবরাহ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হল তা জানতে চান তিনি(Ahmedabad Plane Crash)। অপর পাইলট উত্তরে জানান, তিনি তা করেননি। কিন্তু, কী এই CUTOFF ব্যবস্থা ? এর অর্থ বিমানের জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ হওয়া। উড়ানের সঙ্গে সঙ্গেই যদি তা হয়, তাহলে তার পরিণতি সহজেই অনুমান করা যায়। এবং এই কারণে, ১২ জুন বোয়িং ড্রিমলাইনার ৭৮৭-৮ এ জটিলতা সৃষ্টি হয়েছিল বলে প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্টে মনে করা হচ্ছে।

‘রাম এয়ার টার্বাইন’(Ahmedabad Plane Crash)
রিপোর্টে বলা হয়েছে, ইঞ্জিন চালু করার জন্য এর পর ‘রাম এয়ার টার্বাইন’ চালু করা হয়(Ahmedabad Plane Crash)। একটি ছোট একটি বিকল্প যন্ত্র। যা ইঞ্জিনে স্বয়ংক্রিয় ভাবে জরুরি ভিত্তিতে বিদ্যুৎ (হাইড্রলিক পাওয়ার) পৌঁছে দেয়। উড়ন্ত বিমানের বাইরে থেকে এই যন্ত্র দেখা যায়। ছোট পাখার মতো ব্লেড থাকে এতে। বিমানবন্দর থেকে যে সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে, তাতে এই যন্ত্র বেরিয়ে আসতে দেখা গিয়েছে।ইঞ্জিন দ্রুত চালু করার চেষ্টা করছিলেন পাইলটেরা। একটি ইঞ্জিন আংশিক চালু হয়েও গিয়েছিল। কিন্তু অন্য ইঞ্জিনটি কোনও ভাবেই চালু করা যায়নি।
থ্রাস্ট লিভারগুলি নিষ্ক্রিয় (Ahmedabad Plane Crash)
বিমানের থ্রাস্ট লিভারগুলি নিষ্ক্রিয় অবস্থায় পাওয়া গিয়েছে। কিন্তু ব্ল্যাক বক্সের তথ্য বলছে, বিমান ছাড়ার পর থ্রাস্ট ঠিকঠাকই ছিল(Ahmedabad Plane Crash)। এটি আচমকা সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার দিকেই ইঙ্গিত করে।তবে বিমান ওড়ার সময়ে জ্বালানি ঠিকঠাক ছিল। জ্বালানি ভরার সময়ে কোনও গোলমাল হয়নি। তদন্তে তেমন কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি।বিমান ওড়ার সময়ে ফ্ল্যাপ সেটিং এবং গিয়ারের অবস্থাও স্বাভাবিক ছিল। সেগুলি সঠিকভাবে পরীক্ষাও করা হয়।বিমানটি ইঞ্জিন বন্ধের ঠিক আগের মুহূর্তে সর্বোচ্চ গতিতে (১৮০ নটস আইএএস) পৌঁছে যায়। এরপরই একে একে দুই ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যায়।

অন্তর্ঘাত-পাখির ধাক্কায় দুর্ঘটনার তত্ত্ব খারিজ (Ahmedabad Plane Crash)
দুর্ঘটনার সময়ে বিমানের গতিপথে কোনও পাখি আসেনি(Ahmedabad Plane Crash)। আবহাওয়াও পরিষ্কার ছিল। দৃশ্যমানতায় কোনও সমস্যা হয়নি।প্রাথমিক ভাবে অন্তর্ঘাতের কোনও প্রমাণও মেলেনি। তবে এফএএ জ্বালানির সুইচে গোলমাল সম্পর্কে পরিচিত একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে রেখেছিল। এয়ার ইন্ডিয়া তা পরিদর্শন করেনি। বিমানের ওজন এবং ভারসাম্য স্বাভাবিক ছিল। তাতে কোনও বিপজ্জনক পণ্যও ছিল না।পাশাপাশি দুই পাইলটই শারীরিকভাবে সম্পূর্ণ সুস্থ ছিলেন। পর্যাপ্ত বিশ্রাম পেয়েছিলেন তাঁরা। তাঁদের শারীরিক দিক থেকে কোনও ত্রুটি ছিল না।
আরও পড়ুন-Emergency: ‘বিজেপির তোতাপাখি!’ জরুরি অবস্থার সমালোচনা শশীর, বিড়ম্বনায় কংগ্রেস
বিমানের জ্বালানি কেন বন্ধ হল? (Ahmedabad Plane Crash)
এখন প্রশ্ন হল, বিমানের জ্বালানি কেন বন্ধ হল(Ahmedabad Plane Crash)। কোনও যান্ত্রিক ত্রুটি? নাকি সত্যিই কোনও এক পাইলট ভুলবশত জ্বালানি বন্ধ করেছিলেন? দুর্ঘটনার প্রাথমিক রিপোর্টে পাখির ধাক্কার উল্লেখ নেই। বিমানসংস্থা বোয়িংকেও কোনও নোটিস দেওয়া হয়নি। কিন্তু যান্ত্রিক গোলযোগের তত্ত্ব এখনই উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। অভিশপ্ত বিমানের পাইলট সুমিত সভরওয়ালের ৮২০০ ঘণ্টা বিমান চালানোর অভিজ্ঞতা ছিল। সহকারী পাইলট ছিলেন ক্লাইভ কুন্দার। ১১০০ ঘণ্টা বিমান চালানোর অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁরও। এ হেন অভিজ্ঞ দুই পাইলট ভুলবশত জ্বালানি বন্ধ করে দেবেন, সেটা অস্বাভাবিক। স্বাভাবিকভাবেই যান্ত্রিক গোলযোগ নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই পারে।
অভিশপ্ত ১২ জুন (Ahmedabad Plane Crash)
এয়ার ইন্ডিয়ার বিমানটি গত ১২ জুন অহমদাবাদে দুর্ঘটনার কবলে পড়েছিল(Ahmedabad Plane Crash)। রানওয়ে ছাড়ার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই বিমানের দু’টি ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যায়। এয়ার ইন্ডিয়ার বোয়িং সংস্থার ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার বিমানটি আহমেদাবাদ থেকে লন্ডনের অদূরে গ্যাটউইকের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল। যাত্রী এবং বিমানকর্মী-সহ তাতে ছিলেন মোট ২৪২ জন। বিমানটি নিকটবর্তী একটি ডাক্তারদের হস্টেল ভবনে ধাক্কা খায় এবং প্রচণ্ড শব্দে বিস্ফারিত হয়। এই বিমানে ছিলেন গুজরাটের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিজয় রূপানিও। বিমানের একজন মাত্র যাত্রী বেঁচে গিয়েছেন। সরকারি হিসাবে দুর্ঘটনায় মোট মৃতের সংখ্যা ২৬০।
