Last Updated on [modified_date_only] by Anustup Roy Barman
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: ভাগবতের বক্তব্য প্রধানমন্ত্রীর জন্য একটি ‘ইঙ্গিত’, সেই কথা অস্বীকার করে (Bhagwat on Retirement at 75), একজন প্রবীণ আরএসএস কর্মকর্তা বলেন যে তার বক্তব্য ‘প্রসঙ্গ’ এবং ‘অনুপাত’ থেকে সরিয়ে দেখা হয়েছে।
নাগপুরে সংঘ সভায় ‘৭৫-এ সরে দাঁড়ানো’-র বার্তা, ইঙ্গিত মোদির জন্য? (Bhagwat on Retirement at 75)
রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস)-এর প্রধান মোহন ভাগবতের সাম্প্রতিক মন্তব্য ঘিরে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক বিতর্ক (Bhagwat on Retirement at 75)। তিনি বলেন, নেতাদের ৭৫ বছর বয়সে সরে দাঁড়ানো উচিত। এই মন্তব্যকে ঘিরে কংগ্রেস ও বিরোধী নেতারা একে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে লক্ষ্য করে দেওয়া ইঙ্গিত বলেই ব্যাখ্যা করছেন। উল্লেখযোগ্যভাবে, সেপ্টেম্বরে মোদির বয়স ৭৫ বছর হতে চলেছে। ৯ জুলাই নাগপুরে প্রবীণ সংঘ নেতা মোরোপন্ত পিংলের জীবনীগ্রন্থ প্রকাশ অনুষ্ঠানে মোহন ভাগবত এই মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, বৃন্দাবনে সংঘের এক বৈঠকে মোরোপন্ত পিংলেকে ৭৫ বছর পূর্তিতে একটি চাদর দিয়ে সম্মান জানানো হয়েছিল।
“৭৫ বছর বয়সে চাদর মানে এখন সরে যাওয়ার সময়” — পিংলের উদ্ধৃতি ভাগবতের (Bhagwat on Retirement at 75)
ভাগবত বলেন (Bhagwat on Retirement at 75), “তখন পিংলজি মঞ্চে উঠে বলেন— লোকে এখন আমার কথা শুনে হাসে… মনে হয় তারা আমাকে আর গুরুত্ব দেয় না… আপনি আমাকে ৭৫ বছরে চাদর দিলেন, কিন্তু আমি এর মানে জানি। এই বয়সে চাদর মানে, এখন আমি বুড়ো হয়েছি, এখন সরে দাঁড়াতে হবে, আপনাদের কাজ করতে দিতে হবে। যদিও এটা সম্মান জানানোর ভাবনায় করা হয়েছে, তবু পিংলজি সেই গর্বে নিজেকে জড়িয়ে ফেলেননি।”
কংগ্রেসের কটাক্ষ: “অভিষেকের পরে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হল বিদায়ের সময়” (Bhagwat on Retirement at 75)
ভাগবতের এই বক্তব্যের পরপরই কংগ্রেস নেতারা তীব্র কটাক্ষ শুরু করেন। দলের সাংসদ ও যোগাযোগ দফতরের প্রধান জয়রাম রমেশ বলেন, “দুর্ভাগ্যজনক পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রী! দেশে ফিরে আরএসএস প্রধান মনে করিয়ে দিলেন, আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর তিনি ৭৫ বছরে পা দেবেন।” এরপরেই রমেশ রসিকতা করে বলেন, “কিন্তু প্রধানমন্ত্রীও বলতে পারেন যে সংঘ প্রধান নিজেও ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৫-এ ৭৫ বছরে পা দেবেন! এক তিরে দুই লক্ষ্য।” কংগ্রেস নেতা পবন খেরা বলেন, “ভাগবতজি ও মোদিজি, দু’জনেই ব্যাগ গুছিয়ে একে অপরকে পথ দেখাতে পারেন।”
আরও পড়ুন: Heart Attack Case: বাড়ছে হৃদরোগে মৃত্যুর সংখ্যা, হাসপাতালে অগণিত মানুষের লাইন!
শিবসেনার তির্যক মন্তব্য: “আদবানিদের সরিয়েছেন, এবার নিজের পালা?”
শিবসেনা (উদ্ধব বল) নেতা তথা রাজ্যসভার সদস্য সঞ্জয় রাউত বলেন, “মোদিই এল. কে. অ্যাডভানি, মুরলি মনোহর যোশি ও যশবন্ত সিংদের ৭৫ বছর বয়সের পরে রাজনীতি থেকে কার্যত সরিয়ে দিয়েছিলেন। এবার দেখা যাক, তিনি নিজেও সেই নিয়ম নিজের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করেন কি না।”
সংঘের ব্যাখ্যা: “কোনও ইঙ্গিত নয়, প্রসঙ্গের বাইরে টেনে আনা হয়েছে”
তবে সংঘ সূত্রে জানানো হয়েছে, এই মন্তব্যকে ‘অতিরঞ্জিত’ এবং ‘প্রসঙ্গের বাইরে’ ব্যাখ্যা করা হয়েছে। এক সংঘ নেতা বলেন, “ভাগবতজি অবসর নিয়ে কিছু বলেননি। তিনি শুধু পিংলজির এক বক্তব্যের উদ্ধৃতি দিয়েছেন। তাঁর দীর্ঘ বক্তৃতায় পিংলজির রসবোধ এবং বুদ্ধির নানা দৃষ্টান্তও তিনি শেয়ার করেন। এটি কারোর উদ্দেশে ছিল না।”
অবসর প্রসঙ্গে সংঘ নেতাদের আগেও মন্তব্য
এটাই প্রথমবার নয়, যখন কোনও আরএসএস প্রধান নেতাদের অবসরের বয়স নিয়ে মন্তব্য করলেন। সংঘের পঞ্চম সরসংঘচালক কে সুদর্শন ৭৮ বছর বয়সে অবসর গ্রহণ করেন। তিনি বিজেপির প্রবীণ নেতা এল.কে. আদবানি ও অটলবিহারী বাজপেয়ীকেও ৭৫ বছর বয়সে সরে দাঁড়াতে বলেন, যাতে নতুনদের সুযোগ দেওয়া যায়। সামনে লোকসভা নির্বাচন এবং মোদির ৭৫ বছর পূর্তিকে ঘিরে এই বিতর্ক আরও রাজনৈতিক গুরুত্ব পেতে চলেছে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।