Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: আজকের দিনে দাঁড়িয়ে (Brahmin) একটি প্রশ্ন বারবার সামনে উঠে আসছে, ভগবানের কথা বলার অধিকার কি শুধুই জন্মসূত্রে ব্রাহ্মণদের? উত্তরপ্রদেশের ইটাওয়ার এক গ্রামে এক অ-ব্রাহ্মণ কাহিনীকারকে ধর্মীয় আচার পালনের জন্য নিগৃহীত হওয়ার ঘটনা সেই প্রশ্নকে আরও জোরালো করে তুলেছে। শুধু জাতের কারণে তাঁর টিকি কেটে দেওয়া হয়, মাথায় গোমূত্র ঢেলে ‘শুদ্ধিকরণ’ করা হয়। এই একবিংশ শতাব্দীতেও এমন ঘটনা ঘটছে, যা শুধু নিন্দনীয় নয়, আমাদের ধর্মীয় চেতনাকেও প্রশ্নচিহ্নের মুখে ফেলে দেয়।
ভক্তি কী? (Brahmin)
আসলে ভক্তি কোনও পেশাগত (Brahmin) যোগ্যতা নয়। এটা জন্মসূত্রে পাওয়া অধিকারও নয়। ঈশ্বরের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন একান্তই ব্যক্তিগত, আর সেই সম্পর্কের ভিত্তি হল প্রেম, বিশ্বাস ও আত্মসমর্পণ। যাঁরা মনে করেন, ঈশ্বরের স্তবগান, নামজপ বা ধর্মীয় উপদেশ দেওয়ার অধিকার কেবলমাত্র ব্রাহ্মণদের, তাঁরা হয়তো ইতিহাসের দিকেই ফিরে তাকাননি।
জাত না জ্ঞান, জন্ম না ভক্তি? (Brahmin)
রামায়ণ ও মহাভারতের কথা (Brahmin) ধরা যাক। রামায়ণ রচয়িতা বাল্মীকি ছিলেন শূদ্র। মহাভারতের কাহিনীকার বেদব্যাসের মা ছিলেন এক মৎস্যজীবিনী। পুরাণের শ্রোতা সূতজীও ব্রাহ্মণ ছিলেন না। তাহলে প্রশ্ন ওঠে ঈশ্বরের কথা বলার অধিকার কে দেয়? জাত না জ্ঞান, জন্ম না ভক্তি?
জাতিগত বৈষম্যের শিকার
ভারতের ভক্তি আন্দোলনের ইতিহাস ঘাঁটলেও দেখা যাবে, অধিকাংশ পথপ্রদর্শকই ছিলেন তথাকথিত নিম্নবর্ণের। নামদেব, তুকারাম, কবীর, রৈদাস, দাদু দয়াল, রামানন্দ তাঁদের কারও পরিচয় জন্ম দিয়ে নয়, ভক্তি দিয়ে তৈরি। তুলসীদাস নিজেও একসময় জাতিগত বৈষম্যের শিকার হয়েছিলেন। তবু তিনি ঘোষণা করেছিলেন, “আমি কেবল রামের দাস।”

ধর্মের প্রকৃত উদ্দেশ্য
ধর্মের প্রকৃত উদ্দেশ্যই হল সকলকে আপন করে নেওয়া, বিভাজন নয়। বিশিষ্টাদ্বৈত দর্শনের প্রবর্তক রামানুজাচার্য এক হাজার বছর আগেই বলেছিলেন-“ব্রাহ্মণ্যত্ব জন্মে নয়, আচরণে নির্ধারিত হয়।” তিনি নিজে শূদ্রদের কাঁধে হাত রেখে মন্দির সেবায় যুক্ত করেছিলেন, গুরুমন্ত্র গোপন না রেখে সকলের কাছে ঘোষণা করেছিলেন-তাঁর নরকযাত্রা মেনে নিলেও, যদি তাতে হাজারো মানুষ মুক্তি পায়, সেটাই তিনি শ্রেয় বলে মনে করেন।
আরও পড়ুন: Ulto Rath: দুঃখ কষ্ট হবে দূর, উল্টোরথে ভাগ্যের চাকা ঘুরবে এই চার রাশির
ভক্তির জগতে জাতি, বর্ণ, লিঙ্গ-এসব বিষয় অপ্রাসঙ্গিক। যদি অন্তরে থাকে প্রেম, বিশ্বাস এবং প্রার্থনার শক্তি তবে কোনও দেওয়ালই ভগবানের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না। জন্ম নয়, মন-ভাবনাই ঠিক করে কে প্রকৃত ভক্ত। তাই আজকের দিনে আমাদের দরকার অন্তরের জাগরণ, ভক্তির প্রকৃত অর্থকে উপলব্ধি করা না হলে আমরা শুধুই ধর্মের ছায়া ধরে থাকব, আলো নয়।