Last Updated on [modified_date_only] by Suparna Ghosh
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: নবান্নের মন্ত্রিসভার বৈঠকে সোমবার রাজ্য সরকারের তরফে নতুন এক ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ‘দিঘার জগন্নাথ মন্দির’-এর আদলে এবার রাজ্যে তৈরি হতে চলেছে ‘দুর্গা অঙ্গন’(Durga Angan)। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের(Mamata Banerjee) ঘোষণার পর সেই প্রকল্পে পড়ল সরকারি সিলমোহর।
পর্যটন ও হিডকোর যৌথ উদ্যোগ(Durga Angan)
জানা গিয়েছে, এই ‘দুর্গা অঙ্গন’(Durga Angan) নির্মাণের দায়িত্ব পাবে রাজ্যের পর্যটন দফতর ও হিডকো। দুই সংস্থা যৌথভাবে কাজ করবে এই প্রকল্পে। পাশাপাশি এই নির্মাণের জন্য একটি বিশেষ ট্রাস্ট গঠন করার কথাও জানিয়েছেন রাজ্যের বিদ্যুৎমন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। যদিও এখনও পর্যন্ত জানা যায়নি, এই মন্দির ঠিক কোথায় তৈরি হবে কিংবা এর জন্য কত টাকার বাজেট বরাদ্দ করা হচ্ছে। তবে নবান্ন সূত্রে খবর, প্রকল্পটি নিয়ে পরিকল্পনার কাজ শুরু হয়েছে, খুব শীঘ্রই স্থানের নাম এবং বাজেট ঘোষণা করা হবে।
২১ জুলাইয়ের মঞ্চেই সূচনা ‘দুর্গা অঙ্গন’-এর ভাবনার(Durga Angan)
গত ২১ জুলাই, শহীদ দিবসের সভা থেকে প্রথম এই প্রকল্পের কথা ঘোষণা করেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই দিন বিজেপির বিরুদ্ধে আক্রমণ শানাতে গিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন, “একমাত্র ভোটের সময়েই কি আপনাদের কালী-দুর্গার কথা মনে পড়ে?” এরপরই তিনি বলেন, “জগন্নাথ ধামের মতোই বাংলায় তৈরি হবে ‘দুর্গা অঙ্গন’(Durga Angan) ।” সেই ঘোষণার পর এবার আনুষ্ঠানিক ভাবে মন্ত্রিসভার অনুমোদনও মিলল।
আরও পড়ুন: Kolkata: কেষ্টপুরের বাগজোলা খালে অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তির দেহ উদ্ধার!
কটাক্ষ বিজেপির, পাল্টা রাজনীতি তৃণমূলেরও
তবে এই ঘোষণাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। বিজেপির তরফে এই উদ্যোগকে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে কটাক্ষ করা হয়েছে। তাদের দাবি, তৃণমূল এখন ‘দুর্গা প্রেম’ দেখিয়ে ভোটের রাজনীতি করতে চাইছে। তবে পাল্টা তৃণমূল শিবিরেরও দাবি, বিজেপিই প্রথম ধর্মকে রাজনীতির হাতিয়ার করেছে। উল্লেখ্য, চলতি বছর কলকাতার ইজেডসিসি-তে দুর্গাপুজোর আয়োজন করছে বিজেপি ঘনিষ্ঠ একটি সংগঠন। যদিও বিজেপি নেত্রী অগ্নিমিত্রা পাল জানান, “এই পুজো সরাসরি বিজেপি করছে না। অন্য একটি সাংস্কৃতিক সংগঠন করছে, বিজেপি শুধু সহযোগিতা করছে।”
আরও পড়ুন: Severed Leg Mystery: ডায়মন্ড হারবারে রাস্তার ধারে মিলল কাটা পা!
ধর্মীয় আবেগ না ভোটের হিসাব?
‘দুর্গা অঙ্গন’ প্রকল্পকে ঘিরে এখন উঠছে নানা প্রশ্ন। এটি কি শুধুই ধর্মীয় আবেগের জায়গা, নাকি আসন্ন নির্বাচনের আগে ভোট টানার নতুন কৌশল? রাজনৈতিক মহলের মতে, রাজ্যের শাসক দল ও বিরোধী দুই পক্ষই ধর্মীয় ভাবাবেগকে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে। তবে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে তা পর্যটনের মানচিত্রে বাংলার জন্য নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে বলেও মনে করছেন অনেকে।