Last Updated on [modified_date_only] by Debu Das
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: টানা প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মাঝে ফের ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল হিমাচল প্রদেশ। বুধবার ভোরে এক ঘণ্টার ব্যবধানে দু’বার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে চাম্বা জেলায়(Earthquake)। ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি (এনসিএস)-র তথ্য অনুযায়ী, প্রথম ভূমিকম্পটি রিখটার স্কেলে ৩.৩ মাত্রার ছিল এবং সেটি ঘটে ভোর ৩টে ২৭ মিনিটে। ভূমিকম্পটির উৎসস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে ২০ কিলোমিটার গভীরে। এরপর ভোর ৪টে ৩৯ মিনিট নাগাদ ফের একবার ভূমিকম্প হয়। দ্বিতীয়টির মাত্রা ছিল ৪.০ এবং উৎসস্থল ভূপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার গভীরে।
ক্ষয়ক্ষতির খবর না থাকলেও আতঙ্ক ছড়াল (Earthquake)
ভূমিকম্পের ফলে আপাতত প্রাণহানি বা বড়সড় ক্ষতির খবর মেলেনি(Earthquake)। তবে ভোররাতের কম্পনে ঘুম ভেঙে যায় বহু মানুষের। আতঙ্কে অনেকেই বাড়ি থেকে বেরিয়ে খোলা জায়গায় চলে আসেন। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, ক্ষয়ক্ষতির কোনও তথ্য না মিললেও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। রাজ্যের একাধিক জায়গায় ত্রাণ ও উদ্ধারকারী দলকে সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে।
বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত পাহাড়ি রাজ্য (Earthquake)
ভূমিকম্পের পাশাপাশি প্রাকৃতিক দুর্যোগ যেন হিমাচলকে গ্রাস করেছে(Earthquake)। কয়েক সপ্তাহ ধরে রাজ্যে টানা বৃষ্টি চলছে। মেঘভাঙা বৃষ্টি, ভূমিধস, হড়পা বান এবং হঠাৎ সড়ক দুর্ঘটনা যেন প্রতিদিনকার ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজ্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০ জুন থেকে বর্ষাজনিত কারণে অন্তত ২৭৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।
- এর মধ্যে ১৪৩ জন প্রাণ হারিয়েছেন প্রাকৃতিক দুর্যোগে – ভূমিধস, হড়পা বান, মেঘভাঙা বৃষ্টি কিংবা ডুবে যাওয়ার ঘটনায়।
- বাকি ১৩৩ জন মারা গিয়েছেন সড়ক দুর্ঘটনায়, যা মূলত প্রবল বর্ষণ এবং দুর্গম এলাকায় রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কারণে ঘটেছে।

আরও পড়ুন : Russia oil : কম দামে রুশ তেল কিনে বিক্রি করতো ভারত, বিস্ফোরক দাবি ট্রাম্প প্রশাসনের
হিমাচলের ভৌগোলিক ঝুঁকি (Earthquake)
হিমাচল প্রদেশ ভূমিকম্পপ্রবণ জোনে অবস্থিত। বিশেষজ্ঞদের মতে, হিমালয়ের অল্পবয়সী ভৌগোলিক গঠন, খাড়া পাহাড় এবং ক্রমাগত ভূ-প্রাকৃতিক পরিবর্তনের ফলে এই অঞ্চল বারবার কম্পনের কবলে পড়ে। টানা বৃষ্টির কারণে মাটি আলগা হয়ে যাওয়ায় ভূমিকম্পের অভিঘাত আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে। সামান্য ঝাঁকুনিও বড় ভূমিধস ডেকে আনতে সক্ষম।
প্রশাসনের সতর্কতা ও চ্যালেঞ্জ (Earthquake)
হিমাচল প্রশাসন ইতিমধ্যেই সতর্কতা জারি করেছে। পাহাড়ি রাস্তা ও দুর্গম গ্রামগুলির দিকে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে। বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী এবং উদ্ধারকারী দলগুলি প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এত ঘন ঘন প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা করা প্রশাসনের কাছে এক বড় চ্যালেঞ্জ। পর্যটন মৌসুমে প্রচুর মানুষের আনাগোনা থাকায় বিপদের আশঙ্কাও বহুগুণ বেড়ে যায়।

আরও পড়ুন : ISRO : ৭৫,০০০ কেজি পেলোড বহনে সক্ষম রকেট বানাচ্ছে ইসরো,জানালেন চেয়ারম্যান ভি. নারায়ণন
স্থানীয়দের অভিজ্ঞতা (Earthquake)
ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ার সময় চাম্বার বহু মানুষ ভয়ে বাইরে বেরিয়ে আসেন(Earthquake)। তাঁদের মধ্যে অনেকেরই মনে পড়ে যায় অতীতের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা। প্রাকৃতিক দুর্যোগে ইতিমধ্যেই প্রাণহানি এবং সম্পত্তি নষ্ট হওয়ায় আতঙ্ক চরমে। চাষিরা আশঙ্কা করছেন, টানা বৃষ্টি এবং এই ধরনের ভূমিকম্প তাঁদের ফসলের আরও ক্ষতি করবে।
বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা (Earthquake)
ভূতত্ত্ববিদরা বলছেন, হিমাচল এবং উত্তর ভারতের পাহাড়ি অঞ্চলে ভূমিকম্পের প্রবণতা আগামী দিনেও বাড়তে পারে(Earthquake)। টানা বর্ষণে নদী-খাল পূর্ণ হয়ে গেছে, পাহাড়ের মাটি নরম হয়ে আছে। এই পরিস্থিতিতে ছোট মাত্রার ভূমিকম্পও ভূমিধসের কারণ হতে পারে। তাঁরা মনে করছেন, স্থানীয়দের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধী নির্মাণকাজে জোর দেওয়া জরুরি।
ভূমিকম্প, ভূমিধস, বন্যা এবং টানা বর্ষণে বিপর্যস্ত হিমাচল প্রদেশ এক ভয়ঙ্কর প্রাকৃতিক পরীক্ষার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। বুধবারের চাম্বার ভূমিকম্প সেই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলল। ক্ষয়ক্ষতি না হলেও আতঙ্ক বেড়েছে বহুগুণ। বিশেষজ্ঞ ও প্রশাসন উভয়েরই মত, ভবিষ্যতে আরও সতর্কতা ও প্রস্তুতি ছাড়া এই দুর্যোগ মোকাবিলা সম্ভব নয়।