ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: ভারতীয় ভূতত্ত্ব সর্বেক্ষণ (GSI) ও ওড়িশা মাইনিং কর্পোরেশনের যৌথ অনুসন্ধানে (Gold Mine in Odisha) রাজ্যের বিভিন্ন অংশে বিপুল পরিমাণ সোনার উপস্থিতির সন্ধান মিলেছে। বিশেষ করে সুন্দরগড়, নবরঙ্গপুর, কেওনঝড় এবং দেওগড় জেলার মাটির নিচে সোনার সম্ভাবনা সম্পর্কে ইতিবাচক তথ্য উঠে এসেছে। এই আবিষ্কার শুধু ওড়িশার অর্থনীতিকেই নয়, ভারতীয় অর্থনীতিতেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
সোনার খনি আবিষ্কারের পটভূমি (Gold Mine in Odisha)
ওড়িশার খনিমন্ত্রী (Bibhuti Bhusan Jena) বিভূতি জেনা সম্প্রতি ঘোষণা করেছেন যে, একাধিক জেলার ভূগর্ভে সোনার বিশাল ভাণ্ডার রয়েছে (Gold Mine in Odisha)। বিশেষ করে দেওগড় জেলার আদাসা-রামপল্লি এলাকায় সবচেয়ে বেশি সোনার মজুত থাকার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। এছাড়াও, মালকানগিরি ও সম্বলপুরে আরও অনুসন্ধান চলছে। প্রাথমিক সমীক্ষায় ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে এবং পরবর্তী ধাপে গহন গবেষণা চালানো হবে।প্রসঙ্গত, জিএসআই এবং ওড়িশা মাইনিং কর্পোরেশন যৌথভাবে এই অনুসন্ধান চালাচ্ছে, যেখানে অত্যাধুনিক ভূতাত্ত্বিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। কারিগরি বিশেষজ্ঞদের মতে, চূড়ান্ত অনুসন্ধানের প্রতিবেদন ২০২৫ সালের মধ্যে প্রকাশিত হতে পারে।
অর্থনৈতিক প্রভাব (Gold Mine in Odisha)
এই সোনার খনির (Gold Mine in Odisha) সন্ধান ওড়িশার অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক কাঠামোতেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি এই সোনা উত্তোলন শুরু হয়, তাহলে, সোনার খনি নিলামের মাধ্যমে রাজ্যের তহবিলে বিপুল অর্থ প্রবাহিত হবে। পাশাপাশি খনি খনন, প্রক্রিয়াকরণ এবং বণ্টনের জন্য বিশাল কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে। দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগকারীরা এই প্রকল্পে অংশ নিতে চাইবেন, যা ওড়িশার শিল্প বিকাশকে আরও ত্বরান্বিত করবে।ভারত বছরে প্রচুর পরিমাণ সোনা আমদানি করে। দেশের অভ্যন্তরে সোনা উৎপাদন বাড়লে বৈদেশিক মুদ্রার সঞ্চয় বৃদ্ধি পাবে এবং বাণিজ্য ঘাটতি কমবে।

সরকারের পরিকল্পনা (Gold Mine in Odisha)
ওড়িশা সরকার সোনার খনি ব্লক নিলামে তোলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। দেওগড় জেলায় প্রথম দফায় কয়েকটি ব্লক নিলামে তোলা হতে পারে। সরকার ইতিমধ্যে কারিগরি কমিটি গঠন করে অনুসন্ধান রিপোর্ট বিশ্লেষণ করছে এবং খনির সম্ভাব্য উৎপাদনশীলতা নির্ধারণের কাজ চলছে। রাজ্য সরকারের এক কর্মকর্তা বলেন, “আমরা আন্তর্জাতিক ও জাতীয় বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে চাই। সোনার উত্তোলন শুরু হলে তা শুধু রাজ্যের জন্য নয়, সমগ্র দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য মাইলফলক হয়ে উঠবে।”

আরও পড়ুন: Israeli Military Bombs : ইজরায়েলের হামলায় কেঁপে উঠল লেবানন! নিহত হিজবুল্লাহ নেতা, ধ্বংস বহুতল
ভারতের সোনার মজুত (Gold Mine in Odisha)
ন্যাশনাল মিনারেল ইনভেন্টরি (NMI) অনুযায়ী, ভারতে বর্তমানে ৫০১৮.৪ লক্ষ টন সোনার আকরিক মজুত রয়েছে (Gold Mine in Odisha)। ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে সোনার মজুত নিম্নরূপ:
- বিহার: ৪৪% (ভারতের সর্বোচ্চ)
- রাজস্থান: ২৫%
- কর্ণাটক: ২১%
- পশ্চিমবঙ্গ ও অন্ধ্রপ্রদেশ: ৩%
- ঝাড়খণ্ড: ২%
ওড়িশার এই নতুন আবিষ্কার রাজ্যটিকে শীর্ষ তালিকায় নিয়ে আসতে পারে এবং ভারতের স্বর্ণ খনি শিল্পে ওড়িশার অবস্থান সুদৃঢ় করতে পারে।
আরও পড়ুন: Modi Government Debt : দেশ চালাতে প্রায় ১৫ লক্ষ কোটি টাকা ঋণ নিচ্ছে মোদী সরকার!বাড়ছে অর্থনৈতিক চাপ
ওড়িশার স্বর্ণখনির প্রভাব (Gold Mine in Odisha)
বিশ্বের অন্যান্য সোনার উৎপাদনকারী দেশগুলোর তুলনায় ভারত এখনও পিছিয়ে (Gold Mine in Odisha)। তবে ওড়িশার নতুন খনিগুলো বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারের উপযোগী হলে, ভারত বিশ্বের অন্যতম বড় সোনা উৎপাদনকারী দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশ্ববাজারে সোনার মূল্যবৃদ্ধির কারণে এই খনিগুলোর খনন অত্যন্ত লাভজনক হতে পারে। আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ থাকলে, এটি ভারতের সোনার বাজারকে বৈশ্বিক পরিসরে নিয়ে যেতে সাহায্য করবে।
ভারতীয় অর্থনীতির নতুন দিগন্ত (Gold Mine in Odisha)
ওড়িশায় বিপুল পরিমাণ সোনার সন্ধান (Gold Mine in Odisha) শুধুমাত্র এই রাজ্যের নয়, গোটা ভারতের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক সম্ভাবনা নিয়ে এসেছে। এটি রাজ্যের রাজস্ব বাড়ানোর পাশাপাশি কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ভারতের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে। তবে এই বিশাল সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে হলে ভালো খনি পরিচালনা, সুষ্ঠু পরিবেশ নীতি এবং কার্যকরী বিনিয়োগ পরিকল্পনার প্রয়োজন। সরকার ও শিল্পপতিদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ওড়িশার সোনা উত্তোলন ভারতীয় অর্থনীতির এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে।