Last Updated on [modified_date_only] by Debu Das
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল : গত দুই সপ্তাহ ধরে উত্তর ভারতের হিমালয় সংলগ্ন অঞ্চল একের পর এক প্রাকৃতিক দুর্যোগে কেঁপে উঠছে(Himalaya Region Disaster)। উত্তরাখণ্ডের ধরালী ও হর্ষিল থেকে শুরু করে জম্মু-কাশ্মীরের কিশ্তওয়াড় এবং কাঠুয়া— একের পর এক জায়গায় মেঘভাঙা বৃষ্টি ও হড়পা বানের ঘটনা বহু প্রাণ কেড়ে নিয়েছে। হিমালয়ের কোলে থাকা ছোট ছোট গ্রামগুলির অনেকাংশ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।
হিমাচল প্রদেশও একই দুরবস্থায় (Himalaya Region Disaster)
হিমাচল প্রদেশেও এ বছর বর্ষার শুরু থেকেই প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও মেঘভাঙা বৃষ্টি ও ভূমিধসের ঘটনা ঘটছে। শিমলা, মন্ডী, কুলু, মানালি ও উনা জেলার পরিস্থিতি ভয়াবহ। রাজ্যের বহু রাস্তা বন্ধ হয়ে গেছে ধসের কারণে। সরকারি তথ্য বলছে, এ বছর গড় বৃষ্টিপাতের তুলনায় ১১ শতাংশ বেশি বৃষ্টি হয়েছে হিমাচলে(Himachal Pradesh)। শিমলায় ৬২ শতাংশ, মন্ডীতে ৫৩ শতাংশ এবং কুলুতে ৪৩ শতাংশ বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
জলবায়ু পরিবর্তন নাকি মানুষের কার্যকলাপ? (Himalaya Region Disaster)
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু জলবায়ু পরিবর্তনই নয়, মানুষের অযাচিত হস্তক্ষেপও এ সব দুর্যোগের অন্যতম কারণ। পাহাড় কেটে রাস্তা, হোটেল ও বহুতল নির্মাণ, নদীর ধার ঘেঁষে স্থাপনা গড়ে তোলা এবং বন উজাড় পাহাড়ি মাটিকে দুর্বল করে তুলছে। ফলে অতিবৃষ্টির জেরে মাটি আলগা হয়ে ধস নামছে বারবার।
হিমবাহ-সৃষ্ট হ্রদও বড় বিপদের আশঙ্কা (Himalaya Region Disaster)
বিজ্ঞানীদের পর্যবেক্ষণে দেখা যাচ্ছে, উত্তরাখণ্ডে প্রায় ৫০০-র বেশি হিমবাহসৃষ্ট হ্রদ রয়েছে(Himalaya Region Disaster)। এর মধ্যে অনেকগুলির বাঁধন খুবই দুর্বল। যে কোনও সময়ে ফেটে গিয়ে ভয়াবহ হড়পা বানের কারণ হতে পারে এগুলি। ২০২১ সালের চামোলি দুর্যোগে এই বিপদের বাস্তব রূপ দেশ দেখেছিল।

আরও পড়ুন : Russia Ukraine War : ৯ হাজার কোটি ডলারের মার্কিন অস্ত্র কিনবে ইউক্রেন! নিরাপত্তা দেবে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্র
ঘন ঘন প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের শঙ্কা (Himalaya Region Disaster)
ইন্টারগভর্নমেন্টাল প্যানেল অন ক্লাইমেট চেঞ্জ (IPCC) বহু আগেই সতর্ক করেছিল যে হিমালয় অঞ্চল জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বাস্তব ছবিও সেটাই প্রমাণ করছে। গত এক দশকে উত্তরাখণ্ড, হিমাচল ও জম্মু-কাশ্মীরে ঘন ঘন প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঘটছে।
তাপমাত্রা বৃদ্ধিই মূল কারণ(Himalaya Region Disaster)
জম্মু সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক সুনীল ধর জানিয়েছেন, গত ২৫ বছরের মধ্যে এ বছর হিমাচলে গড় তাপমাত্রা সবচেয়ে বেশি। গরম হাওয়া ও পাহাড়ি ঠান্ডা হাওয়ার সংঘর্ষে তৈরি হচ্ছে হঠাৎ ভারী বৃষ্টিপাত। এর জেরেই মেঘভাঙা বৃষ্টি ও হড়পা বানের সংখ্যা বেড়ে চলেছে।

সামনে আরও ভয়ঙ্কর দিন?
‘নেচার’-এ প্রকাশিত রিপোর্ট বলছে, ১৯৯০ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে হিমবাহসৃষ্ট হ্রদের সংখ্যা প্রায় ৪৮ শতাংশ বেড়েছে। এর মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশ হ্রদ ঝুঁকিপূর্ণ। অর্থাৎ, হিমালয় অঞ্চলে ভবিষ্যতে আরও ভয়ঙ্কর হড়পা বান ও বন্যার আশঙ্কা রয়েছে।
প্রয়োজন টেকসই উন্নয়ন (Himalaya Region Disaster)
বিশেষজ্ঞদের মতে, পাহাড়ি রাজ্যে বেপরোয়া নির্মাণকাজ বন্ধ করে টেকসই উন্নয়নের পথ বেছে নেওয়া জরুরি(Himalaya Region Disaster)। একই সঙ্গে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে পর্যটন ও অবকাঠামো উন্নয়ন করতে হবে। না হলে উত্তর ভারতের পাহাড়ি অঞ্চল আগামী দিনগুলোতে আরও বড় প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সাক্ষী হতে পারে।