Last Updated on [modified_date_only] by Anustup Roy Barman
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: কয়েক মাসের শান্তির পর লোহিত সাগরে (Houthis attack on Red Sea vessel) হামলার তীব্রতা গাজা যুদ্ধের বিরুদ্ধে হুথিদের অভিযান পুনরুজ্জীবিত হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। গ্রিক মালিকানাধীন ‘ইটারনিটি সি’ জাহাজে হামলার দায় এখনো স্বীকার করেনি হুথিরা।আমেরিকা ও ইউরোপ এই ঘটনায় জানাল কঠোর বার্তা।
মাঝসমুদ্রে ভয়াবহ হামলা (Houthis attack on Red Sea vessel)
লোহিত সাগরে ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীর সন্দেহভাজন হামলায় ‘ইটারনিটি সি’ নামে একটি লাইবেরিয়ান পতাকাবাহী কার্গো জাহাজ ডুবে গেছে (Houthis attack on Red Sea vessel)। এই ঘটনায় জাহাজের ২২ জনের ক্রু সদস্যদের মধ্যে অন্তত ৩ জন মারা গিয়েছেন এবং আরও ২ জন আহত হয়েছেন। পাঁচজন ক্রুকে উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানায় একটি সামুদ্রিক পর্যবেক্ষণ সংস্থা। ব্রিটিশ সেনাবাহিনী পরিচালিত ইউকে মেরিটাইম ট্রেড অপারেশন্স (UKMTO) বুধবার জানায়, সোমবার রাতে হামলার পর “রাতভর উদ্ধার অভিযান” চালানো হয়। জাহাজটি গ্রিসের মালিকানাধীন এবং নাম ছিল ‘ইটারনিটি সি’।
জাহাজের ক্ষতি, সম্পূর্ণ থেমে যায় গতি (Houthis attack on Red Sea vessel)
UKMTO মঙ্গলবার জানায়, জাহাজটি “গুরুতর ক্ষতির শিকার” হয়েছে এবং “পুরোপুরি গতি হারিয়েছে” (Houthis attack on Red Sea vessel)। ব্রিটেনভিত্তিক নিরাপত্তা সংস্থা অ্যামব্রে জানায়, ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজটি ইয়েমেনের হোডেইদা বন্দর উপকূলে ডুবে গেছে। এই এলাকা হুথিদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। হুথি গোষ্ঠী যদিও এই হামলার দায় এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেনি, তবে এর একদিন আগে তারা আরেকটি কার্গো জাহাজ ‘ম্যাজিক সিজ’-এ হামলা চালানোর দাবি করে, যা পরে ডুবে যায়। ওই হামলায় অবশ্য সব ক্রু সদস্যকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়।
ইজরায়েলের বিরুদ্ধে অবস্থান? (Houthis attack on Red Sea vessel)
হুথিরা দাবি করছে, তারা গাজায় চলমান ইজরায়েলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সংহতির অংশ হিসেবে ইজরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে এমন জাহাজগুলিকে আক্রমণ করছে। রোববার ম্যাজিক সিজ-এ হামলার পর হুথিরা ঘোষণা করে, ইজরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে এমন কোম্পানির জাহাজগুলো “বৈধ লক্ষ্য” এবং “গাজায় আগ্রাসন বন্ধ ও অবরোধ প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত” লোহিত ও আরব সাগরে ইজরায়েলি নৌচলাচল ঠেকানো হবে।
আমেরিকা ও ইউরোপের প্রতিক্রিয়া
ইয়েমেনের নির্বাসিত সরকার, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সামরিক বাহিনী ‘অ্যাসপিডেস’ এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র হামলার জন্য হুথিদের দায়ী করেছে। মার্কিন বিদেশ দফতরের মুখপাত্র ট্যামি ব্রুস বলেন, “এই হামলা প্রমাণ করে ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা নৌপরিবহন ও আঞ্চলিক সামুদ্রিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি।” তিনি আরও বলেন, “আমরা পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দিচ্ছি, বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ও নৌ-স্বাধীনতা রক্ষায় আমেরিকা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে থাকবে।”
আক্রমণের বিবরণ
জাহাজটি সুয়েজ খালের দিকে উত্তরমুখী যাচ্ছিল। ঠিক তখনই সোমবার রাতে ছোট নৌকা ও বোমাবাহী ড্রোন থেকে হামলা চালানো হয়। জাহাজে থাকা নিরাপত্তারক্ষীরা পাল্টা গুলি চালায়। অ্যাসপিডেস ও অ্যামব্রের থেকে জানা গিয়েছে যে, ঘটনায় তিনজন নিহত হন এবং দু’জন আহত হন, যাদের মধ্যে একজন রাশিয়ান ইলেকট্রিশিয়ানের পা কেটে ফেলতে হয়। ফিলিপাইনের কর্তৃপক্ষ জানায়, ইটারনিটি সি-তে ২২ জন ক্রু ছিলেন, যাদের মধ্যে ২১ জনই ফিলিপাইনের নাগরিক। জাহাজ পরিচালনাকারী সংস্থা কসমোশিপ ম্যানেজমেন্ট এখনো হতাহতদের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
আরও পড়ুন: Indian Origin: অ্যাপলের নতুন অপারেশনস প্রধান ভারতীয় বংশোদ্ভূত
হুথি-ইজরায়েল সংঘর্ষ বেড়েই চলেছে
একই সময়, ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী ও ইজরায়েল একে অপরকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়। ইজরায়েল জানায়, তারা হোডেইদা, রাস ইসা ও আস-সালিফ বন্দরে এবং রাস কাথিব পাওয়ার প্ল্যান্টে বোমাবর্ষণ করেছে। তারা আরও দাবি করে, হুথিদের কবলে থাকা ‘গ্যালাক্সি লিডার’ জাহাজে থাকা রাডার সিস্টেমেও হামলা চালানো হয়েছে, যা এখনো হোডেইদা বন্দরে রয়েছে। এই সাম্প্রতিক ঘটনার জেরে লোহিত সাগরের নৌপথে নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কা বাড়ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।