Last Updated on [modified_date_only] by Debu Das
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: ভারতের উপর আবারও অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপালেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প(Impact Of US Tariff On India)। বুধবার থেকে কার্যকর হওয়া এই ট্যারিফ অনুযায়ী আমেরিকায় পৌঁছনো ভারতীয় পণ্যের উপর এখন ৫০ শতাংশ পর্যন্ত আমদানি শুল্ক দিতে হবে। ট্রাম্পের অভিযোগ, ভারত রাশিয়া থেকে তেল কিনে মস্কোকে যুদ্ধ চালানোর অর্থ জোগাচ্ছে। এর ফলে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের বাণিজ্যিক টানাপড়েন আরও প্রকট হয়ে উঠল।
রাশিয়া থেকে তেল কেনা নিয়ে মার্কিন ক্ষোভ (Impact Of US Tariff On India)
প্রথমে ২৫ শতাংশ ট্যারিফ চাপিয়েছিল আমেরিকা, যা অনেক বাণিজ্য সহযোগীর তুলনায় বেশি ছিল(Impact Of US Tariff On India)। পরে নয়াদিল্লি ওয়াশিংটনের শর্ত না মেনে রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনা অব্যাহত রাখায় ট্রাম্প আরও ক্ষুব্ধ হন। তাঁর দাবি, এই ক্রয়ের মাধ্যমে রাশিয়া যুদ্ধের অর্থ পাচ্ছে। তাই শাস্তি স্বরূপ ভারতীয় রপ্তানির উপর শুল্ক দ্বিগুণ করা হয়েছে।
মোদির অবস্থান ও রাজনৈতিক বার্তা (Impact Of US Tariff On India)
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি(Narendra Modi) একাধিকবার জানিয়েছেন, দেশ কৃষক ও সাধারণ মানুষের স্বার্থ রক্ষার জন্য আমেরিকার চাপের কাছে নতি স্বীকার করবে না। পররাষ্ট্রমন্ত্রী থেকে বাণিজ্যমন্ত্রী—সকলেই বারবার ইঙ্গিত দিয়েছেন, রাশিয়া থেকে তেল কেনা চালু থাকবে। সরকার জানিয়েছে, দেশের স্বার্থে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সবচেয়ে বড় আঘাত টেক্সটাইল ও জুয়েলারি শিল্পে (Impact Of US Tariff On India)
ট্যারিফ বৃদ্ধির ফলে সরাসরি বিপদে পড়েছে টেক্সটাইল ও জুয়েলারি খাত। বিশেষত হীরে কাটাই, গয়না তৈরি এবং তৈরি পোশাক শিল্পের রপ্তানি মূলত আমেরিকা নির্ভর (Impact Of US Tariff On India)। এই ক্ষেত্রগুলিতে কয়েক লক্ষ মানুষ কাজ করেন। নতুন শুল্কে ভারতীয় পণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতার বাইরে চলে যাবে। ফলে ব্যাপক ছাঁটাই, উৎপাদন হ্রাস ও ঋণ শোধে সমস্যা দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের।

আরও পড়ুন : PM Modi Avoid Trump Calls : মোদিকে ৪ বার ফোন করেছিলেন ট্রাম্প! কিন্তু কেন উত্তর দেননি একবারও?
বাস্তব পরিস্থিতি কী? (Impact Of US Tariff On India)
সরকারি মহল ও ঘনিষ্ঠ মিডিয়ার দাবি, এই ট্যারিফে ভারতের তেমন ক্ষতি হবে না, বরং আমেরিকার অভ্যন্তরে পণ্যমূল্য বেড়ে যাবে(Impact Of US Tariff On India)। কিন্তু শ্রমঘন শিল্পের সঙ্গে যুক্ত উদ্যোক্তা ও শ্রমিক সংগঠনগুলির মতে, বাস্তবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখোমুখি হবে ভারতীয় শিল্প ও শ্রমিকরা।
অর্থনীতিবিদদের একাংশের প্রশ্ন—যদি সত্যিই সরকারের লক্ষ্য বিদেশি বিনিয়োগ টানা হয়, তবে ক্যাপিটাল গেইন ট্যাক্সের মতো বিষয়গুলি সংস্কার করা উচিত। কেবল মাত্র মিডিয়া ম্যানেজমেন্টের মাধ্যমে এ ধরনের সংকট মোকাবিলা সম্ভব নয়।
ট্রাম্পের আক্রমণাত্মক বাণিজ্যনীতি ও ভারতের প্রতিরোধমূলক অবস্থান দুই দেশের সম্পর্কে নতুন অচলাবস্থা তৈরি করেছে(Impact Of US Tariff On India)। রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ হবে না বলেই স্পষ্ট করেছে নয়াদিল্লি, তবে এর খেসারত দিতে হচ্ছে ভারতের শ্রমঘন রপ্তানি শিল্পকে। আগামী দিনে পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই এখন নজর কাড়ছে বিশেষজ্ঞদের।