Last Updated on [modified_date_only] by Debu Das
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: রাশিয়া থেকে সস্তায় তেল কিনে ফের বিক্রি করছে ভারত—এক সাক্ষাৎকারে বিস্ফোরক দাবি করলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের অর্থসচিব স্কট বেসেন্ট(Russia oil)। তাঁর অভিযোগ, ইউক্রেন যুদ্ধের আবহে রাশিয়া থেকে ভারতের জ্বালানি আমদানি বিপুল পরিমাণে বেড়েছে এবং সেই তেল থেকে লাভবান হচ্ছে নয়াদিল্লি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এ ঘটনাকে “অগ্রহণযোগ্য” বলছে।
রাশিয়া থেকে আমদানির পরিসংখ্যান (Russia oil)
বেসেন্টের দাবি, যুদ্ধের আগে ভারত মাত্র ১ শতাংশ তেল আমদানি করত রাশিয়া থেকে(Russia oil)। কিন্তু যুদ্ধ শুরুর পর থেকে সেই সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৪২ শতাংশ। তুলনায়, রাশিয়ার দীর্ঘদিনের ক্রেতা চিন যুদ্ধকালে আমদানি মাত্র ৩ শতাংশ বাড়িয়েছে। এই পরিসংখ্যান টেনে তিনি বলেন, “ভারত সব সময় লাভ খোঁজে। সস্তায় রাশিয়া থেকে তেল কিনে, আবার তা বিক্রি করছে তারা। এ ধরনের পদক্ষেপ স্বেচ্ছাচারিতা ছাড়া কিছু নয়।”
আমেরিকার ক্ষোভের কারণ (Russia oil)
মার্কিন প্রশাসনের মতে, রাশিয়া থেকে জ্বালানি আমদানি অব্যাহত রাখায় কেবল রাশিয়ার অর্থনীতি চাঙ্গা হচ্ছে না, সেই অর্থ ব্যবহার করা হচ্ছে ইউক্রেন যুদ্ধ চালানোর জন্য। অর্থাৎ, ভারতের সঙ্গে ব্যবসার অর্থনৈতিক লাভ সরাসরি রুশ যুদ্ধযন্ত্রে ঢালছে মস্কো। এই যুক্তি দেখিয়ে নয়াদিল্লির উপর বাড়তি শুল্ক চাপিয়েছে ট্রাম্প সরকার।
ভারত সরকারের নীরব অবস্থান (Russia oil)
যদিও এ প্রসঙ্গে এখনও পর্যন্ত কোনও মন্তব্য করেনি ভারত সরকার। দিল্লির সূত্রে শুধু জানানো হয়েছে, জাতীয় স্বার্থে সাশ্রয়ী মূল্যে তেল কেনা অব্যাহত থাকবে। ভারতের অবস্থান স্পষ্ট—দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য কোনও চাপের কাছে নতি স্বীকার করা হবে না।

কূটনৈতিক টানাপড়েন (Russia oil)
সম্প্রতি ভারত-আমেরিকার সম্পর্কে টানাপড়েন বাড়ছে(Russia oil)। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald J. Trump) অভিযোগ করেছেন, ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক থেকেই শক্তি সঞ্চয় করছে রাশিয়া। তাই নয়াদিল্লির উপর ২৫ শতাংশের বেশি শুল্ক চাপিয়েছেন তিনি। ট্রাম্পের দাবি, এই বাড়তি শুল্ক আরোপের কারণেই রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন আলোচনায় বসতে রাজি হয়েছেন।

আরও পড়ুন : Russia Ukraine War : ইউক্রেনে যাবে না মার্কিন সেনা, স্পষ্ট করলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প! ফিরবে শান্তি?
আলাস্কা বৈঠকের প্রভাব (Russia oil)
গত ১৫ অগস্ট আলাস্কায় ট্রাম্প-পুতিন বৈঠকে ইউক্রেন যুদ্ধের কোনও নির্দিষ্ট সমাধানসূত্র বেরোয়নি। তবে ট্রাম্প দাবি করেছেন, তাঁর আরোপিত শুল্কই মস্কোকে আলোচনার টেবিলে টেনেছে। যদিও এ বিষয়ে ভারত কোনও আনুষ্ঠানিক অবস্থান জানায়নি।
রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের বাণিজ্যিক সম্পর্ক নিয়ে ওয়াশিংটনের অস্বস্তি দিন দিন বাড়ছে। ট্রাম্প প্রশাসনের অভিযোগের পাল্টা জবাব এখনও দেয়নি নয়াদিল্লি। তবে কেন্দ্রীয় সরকারের ঘনিষ্ঠ মহল ইঙ্গিত দিয়েছে, ভারত নিজের স্বার্থের সঙ্গে কোনও আপস করবে না। ফলে রাশিয়ার তেল কেনা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক দ্বন্দ্ব আগামী দিনে আরও প্রকট হতে পারে।