Last Updated on [modified_date_only] by Debu Das
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল : ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরো (ISRO) শিগগিরই এমন এক নতুন প্রজন্মের রকেট তৈরির কাজে হাত দিয়েছে, যা নিম্ন কক্ষপথে (LEO) ৭৫,০০০ কেজি পর্যন্ত পেলোড স্থাপন করতে পারবে। ওসমানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮৪তম সমাবর্তনে ভাষণ দিতে গিয়ে ইসরো চেয়ারম্যান ভি. নারায়ণন এই উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনার কথা জানান। তাঁর কথায়, প্রস্তাবিত লঞ্চারের উচ্চতা হবে ৪০ তলা ভবনের সমান। তুলনায়, ড. এপিজে আবদুল কালামের নেতৃত্বে নির্মিত ভারতের প্রথম লঞ্চারের লিফ্ট-অফ ভর ছিল ১৭ টন এবং সেটি ৩৫ কেজি পেলোড কক্ষপথে তুলতে পারত।
ইসরোর সামনের পরিকল্পনা (ISRO)
নারায়ণন সংস্থার সামনে থাকা নানা মিশনের রূপরেখাও দেন(ISRO)। শিগগিরই একটি নাভিক (NaVIC) স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ, নতুন N1 রকেটের উড়ান, এবং ৬,৫০০ কেজি ওজনের একটি মার্কিন যোগাযোগ স্যাটেলাইট ভারতীয় রকেটের মাধ্যমে কক্ষপথে স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। চলতি বছরই টেকনোলজি ডেমনস্ট্রেশন স্যাটেলাইট (TDS) ও ভারতীয় নৌবাহিনীর জন্য GSAT-7R উৎক্ষেপণের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। বর্তমানে ভারতের কক্ষপথে সক্রিয় ৫৫টি স্যাটেলাইট আছে; ইসরো আগামী তিন থেকে চার বছরে এই সংখ্যা তিনগুণ করতে চায়।
ভারতের চন্দ্রাভিযানের পরিকল্পনা(ISRO)
দীর্ঘমেয়াদি রূপরেখায় রয়েছে ভারতীয় কক্ষপথ স্টেশন—‘ভারতীয় আন্তরীক্ষ স্টেশন’ (৫২ টন), যা ২০৩৫ সালের মধ্যে চালু করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে(ISRO)। প্রাথমিক মডিউল ২০২৭ সাল থেকে উৎক্ষেপণের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি, ২০৪০ সালের মধ্যে সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে ভারতীয় মহাকাশচারীকে চাঁদে পাঠিয়ে নিরাপদে ফেরত আনার লক্ষ্যও পুনর্ব্যক্ত করেন ইসরোপ্রধান।
সমাবর্তনে তিনি শুভাংশু শুক্লার আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে (ISS) যাত্রার কথাও তুলে ধরেন। জানালেন, ১১ জুন নির্ধারিত উৎক্ষেপণের আগের দিন অ্যাক্সিয়ম-৪ মিশনের রকেটে গুরুত্বপূর্ণ লিকেজ শনাক্ত হওয়ায় উড়ান পিছিয়ে ২৫ জুন করা হয়। “তখন উড়ান হলে তা বিপর্যয়কর ব্যর্থতা হতো। ভারতীয় শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহায়তার অংশগ্রহণে ত্রুটি মেরামত হওয়ায় মিশন নিরাপদে সম্পন্ন হয়েছে,” বলেন তিনি।

আরও পড়ুন : Russia oil : কম দামে রুশ তেল কিনে বিক্রি করতো ভারত, বিস্ফোরক দাবি ট্রাম্প প্রশাসনের
মঙ্গলযান প্রথম চেষ্টায় (ISRO)
১৯৭৫ সালে আন্তর্জাতিক সহায়তায় আর্যভট উৎক্ষেপণের পর থেকে ভারত শত শত রকেট ও স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করেছে বলে জানান নারায়ণন(ISRO)। ভারতের মঙ্গলযান প্রথম চেষ্টায় সফল একমাত্র দেশের মর্যাদা এনে দিয়েছে; একই সঙ্গে একটি রকেটে ১০৪টি স্যাটেলাইট স্থাপনের বিশ্বরেকর্ডও ভারতের। তাঁর দাবি, চাঁদে ভারতের “৩২ সেন্টিমিটার রেজোলিউশনের সেরা ক্যামেরা” কাজ করছে এবং সূর্য পর্যবেক্ষণে আদিত্য-এল১ ইতিমধ্যে সাফল্যের সঙ্গে তথ্য পাঠাচ্ছে।

স্বর্ণপদক জয় আদিবাসী ছাত্রের(ISRO)
ওসমানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে এ বছর ১,২৬১টি পিএইচডি ডিগ্রি প্রদান—দেশজুড়ে সর্বোচ্চ বলে জানানো হয়। ২০২২–২৩ ও ২০২৩–২৪ শিক্ষাবর্ষ মিলিয়ে ১২১টি স্বর্ণপদক দেওয়া হয়েছে(ISRO)। চ্যান্সেলরের উদ্যোগে প্রবর্তিত ইংরেজিতে সেরা পিএইচডি থিসিসের নতুন স্বর্ণপদক জিতে নিয়েছেন আদিবাসী ছাত্র পালেঙ্কি। রাজ্যপাল ও চ্যান্সেলর জিষ্ণু দেব বর্মা স্নাতকদের “জ্ঞান ও পরিবর্তনের মশালবাহক” আখ্যা দিয়ে “জয় জওয়ান, জয় কিষান” থেকে “জয় বিজ্ঞান, জয় অনুসন্ধান”—এই অগ্রগতির কথা স্মরণ করান। স্বর্ণপদকজয়ী নবনীতা ভাল্লুরি ও অর্পিতা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে ইসরো চেয়ারম্যানের হাত থেকে মেডেল নেওয়াকে জীবনের বড় প্রেরণা বলে মন্তব্য করেন।