Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: সদ্যোজাতকে ঘিরে প্রতিটি পরিবারের মধ্যেই থাকে এক ধরনের অগাধ ভালোবাসা (Kanchan Mallick), উদ্বেগ আর যত্নের ছায়া। বাবা-মায়ের ব্যস্ত জীবনের কারণে অনেক সময়ই শিশুদের দেখাশোনার দায়িত্ব অর্পণ করা হয় পরিচারিকার হাতে। কিন্তু যখন সেই ভরসার জায়গাটিই পরিণত হয় আতঙ্কে, তখন পরিস্থিতি হয়ে ওঠে শিউরে ওঠার মতো। সম্প্রতি ঠিক এমনই এক ঘটনায় উত্তাল হয়েছে শহর। বিধায়ক ও অভিনেতা কাঞ্চন মল্লিক এবং অভিনেত্রী শ্রীময়ী চট্টরাজের কন্যা কৃষভির উপর পরিচারিকার অমানবিক নির্যাতনের অভিযোগ সামনে এসেছে।

ব্যস্ত জীবনের কারণে পরিচারিকা (Kanchan Mallick)
কৃষভির জন্মের পর থেকেই তাঁর লালন-পালন ও দেখাশোনার সুবিধার্থে এক পরিচারিকা (Kanchan Mallick) নিয়োগ করেছিলেন কাঞ্চন ও শ্রীময়ী। দুজনেই পেশাগত কারণে ব্যস্ত থাকেন। রাজনীতি, নাট্যমঞ্চ এবং অভিনয়ের ব্যস্ততায় দিন কাটে কাঞ্চনের। অন্যদিকে টেলিভিশন দুনিয়ায় কর্মব্যস্ত শ্রীময়ী (Kanchan Mallick)। এই অবস্থায় সদ্যোজাতকে সারাদিন কোলে রাখা বা তার খুঁটিনাটি যত্ন নেওয়া তাঁদের পক্ষে সম্ভব হচ্ছিল না। তাই পরিচারিকা নিয়োগই ছিল একমাত্র ভরসা।
তবে বেশিরভাগ সময়েই কৃষভি থাকত শ্রীময়ীর মায়ের তত্ত্বাবধানে। তিনি প্রায়শই বাড়িতে উপস্থিত থেকে নাতনিকে আগলে রাখতেন। কিন্তু প্রতিটি মুহূর্তে তো আর একসঙ্গে থাকা সম্ভব নয়। এই সামান্য সুযোগকেই কাজে লাগিয়ে ঘটে যায় ভয়াবহ কাণ্ড।

এক মাস আগের ঘটনা (Kanchan Mallick)
প্রসঙ্গত, ঘটনাটি একেবারে সাম্প্রতিক নয়, প্রায় মাসখানেক আগের। সেদিন বাড়িতে ছিলেন না কাঞ্চন বা শ্রীময়ী। এমনকি শ্রীময়ীর মা-ও গিয়েছিলেন স্থানীয় মন্দিরে পুজো দিতে। সেই সময় ছোট্ট কৃষভি ছিল পরিচারিকার দায়িত্বে। আর সেখানেই ঘটেছিল অকল্পনীয় অত্যাচার।

সিসিটিভিতে ধরা পরল নির্যাতনের দৃশ্য (Kanchan Mallick)
পরে যখন শ্রীময়ী বাড়ির সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করেন, তখনই সত্যি প্রকাশ্যে আসে। ফুটেজ দেখে তিনি একেবারে স্তম্ভিত হয়ে যান। দেখা যায়, এক বছরেরও কম বয়সী কৃষভিকে উল্টে ধরে মারধর করছে পরিচারিকা। একটি শিশুকে সামলাতে না পেরে, চরম ধৈর্যহীনতা ও রাগের বশে এমন নির্মম ব্যবহার করেন তিনি। কল্পনাতীত এই দৃশ্য দেখে শ্রীময়ী ভয়ে-ক্ষোভে আঁতকে ওঠেন।
শ্রীময়ীর অভিযোগ! (Sreemoyee Chattoraj)
ঘটনার পর শ্রীময়ী সরাসরি দায় চাপিয়েছেন আয়া সেন্টারের উপর। তাঁর বক্তব্য, বর্তমানে শহরে গজিয়ে ওঠা অসংখ্য আয়া সেন্টার যথাযথ নিয়মকানুন মানে না। কোনও পরিচারিকাকে কাজে পাঠানোর আগে তাঁদের পরিচয়পত্র, কাজের অভিজ্ঞতা কিংবা পুলিশ ভেরিফিকেশন কিছুই করা হয় না। অথচ এরা অতি সহজেই ছোট্ট শিশু বা বয়স্ক মানুষদের দায়িত্বে নিয়োগ পেয়ে যাচ্ছেন। এর ফলে ভয়াবহ ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে সাধারণ পরিবারের জন্য।
শ্রীময়ীর আরও দাবি, আয়া সেন্টারগুলি যদি ন্যূনতম কঠোরতা দেখাত এবং সমস্ত নথি যাচাই করে তবে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটত না। কোনও দুর্ঘটনা ঘটলেই সেন্টার কর্তৃপক্ষ দায়িত্ব ঝেড়ে ফেলে, যা একেবারেই অগ্রহণযোগ্য।
পুলিশের দ্বারস্থ হওয়ার চিন্তা, তবে… (Sreemoyee Chattoraj)
শুরুতে কাঞ্চন ও শ্রীময়ী দু’জনেই ভেবেছিলেন এই ঘটনায় পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করবেন। তবে পরবর্তীতে তাঁরা বুঝতে পারেন, তাতে খুব একটা কার্যকর ফল মিলবে না। তাই আপাতত তাঁরা সিদ্ধান্ত নেন, ওই পরিচারিকাকে আর কাজে আসতে দেবেন না।

চুরির অভিযোগও তুললেন শ্রীময়ী
শুধু শিশুর উপর নির্যাতনই নয়, শ্রীময়ী অভিযোগ তুলেছেন আরও গুরুতর এক ঘটনার। তাঁর দাবি, ওই পরিচারিকা নাকি বাড়ির সিসিটিভি ইচ্ছাকৃতভাবে বন্ধ করে দিয়েছিল। আর সেই সময়েই বাড়ি থেকে উধাও হয়ে যায় বেশ কিছু দামি জিনিস ও বাসনপত্র। যদিও সিসিটিভি বন্ধ থাকায় প্রমাণ মিলেনি, কিন্তু সামগ্রীগুলি খুঁজে পাওয়া যায়নি আর। এই কারণেই শ্রীময়ীর ধারণা, ওই পরিচারিকার হাতেই রয়েছে চুরির সূত্র।
আরও পড়ুন: Sridevi: শ্রীদেবীর সম্পত্তি নিয়ে বিতর্ক, আইনের দ্বারস্থ বনি কাপুর
এখন আতঙ্কে পরিবার
সব মিলিয়ে এখন প্রবল আতঙ্কে রয়েছেন কাঞ্চন ও শ্রীময়ী। তাঁরা ভাবতেই পারছেন না, আবার কীভাবে কোনও আয়ার হাতে নির্ভর করে শিশুকে রেখে নিশ্চিন্ত হওয়া যায়। ছোট্ট কৃষভির প্রতি এই আচরণ তাঁদের হৃদয়ে গভীর দাগ কেটেছে। বর্তমানে মূলত শ্রীময়ীর মা-ই শিশুটির যত্ন নিচ্ছেন। তবে ভবিষ্যতে আবারও কোনও আয়া নিয়োগ করা উচিত হবে কিনা